ঢাকা ০৪:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

শ্রীমঙ্গল বিসিক শিল্পনগরী: ৫০ কোটি টাকার প্রকল্প এখন গলার কাঁটা, ৬ বছরেও শুরু হয়নি উৎপাদন

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিসিক শিল্পনগরীটি এখন স্রেফ এক পরিত্যক্ত জঙ্গল। দীর্ঘ ছয় বছর আগে নির্মাণকাজ শেষ হলেও সেখানে একটি শিল্পকারখানাও চালু করা সম্ভব হয়নি। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশাসনিক উদাসীনতায় পুরো এলাকাটি এখন অপরাধী ও চোরদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এমনকি প্রকল্পের কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ও স্থাপনাও চুরি হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

২০১২ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটি ২০১৯ সালে শেষ হয়। প্রায় ২০ একর জমির ওপর ১২২টি প্লটসহ প্রশাসনিক ভবন, পাম্প হাউস ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, পিচঢালা রাস্তাগুলো ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে এবং ড্রেনের লোহার জালি থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার পর্যন্ত উধাও হয়ে গেছে।

উদ্যোক্তাদের মতে, প্লটের অতিরিক্ত দাম এবং প্রয়োজনীয় সেবার অভাবই তাদের অনাগ্রহের মূল কারণ। অনেকেই প্লট বরাদ্দ নিয়ে পরে তা ফেরত দিয়েছেন, কিন্তু সম্পূর্ণ টাকা ফেরত না পাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সরকারের এই বিশাল বিনিয়োগ পুরোপুরি ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। তবে বিসিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা নতুন করে প্লট বরাদ্দের মাধ্যমে শিল্পনগরীটি প্রাণবন্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুঝুঁকি ও লিবিয়ার ‘গেম ঘরে’ বন্দি বাংলাদেশিরা

শ্রীমঙ্গল বিসিক শিল্পনগরী: ৫০ কোটি টাকার প্রকল্প এখন গলার কাঁটা, ৬ বছরেও শুরু হয়নি উৎপাদন

আপডেট সময় : ১১:০৬:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বিসিক শিল্পনগরীটি এখন স্রেফ এক পরিত্যক্ত জঙ্গল। দীর্ঘ ছয় বছর আগে নির্মাণকাজ শেষ হলেও সেখানে একটি শিল্পকারখানাও চালু করা সম্ভব হয়নি। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশাসনিক উদাসীনতায় পুরো এলাকাটি এখন অপরাধী ও চোরদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। এমনকি প্রকল্পের কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ও স্থাপনাও চুরি হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

২০১২ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটি ২০১৯ সালে শেষ হয়। প্রায় ২০ একর জমির ওপর ১২২টি প্লটসহ প্রশাসনিক ভবন, পাম্প হাউস ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, পিচঢালা রাস্তাগুলো ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে এবং ড্রেনের লোহার জালি থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার পর্যন্ত উধাও হয়ে গেছে।

উদ্যোক্তাদের মতে, প্লটের অতিরিক্ত দাম এবং প্রয়োজনীয় সেবার অভাবই তাদের অনাগ্রহের মূল কারণ। অনেকেই প্লট বরাদ্দ নিয়ে পরে তা ফেরত দিয়েছেন, কিন্তু সম্পূর্ণ টাকা ফেরত না পাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সরকারের এই বিশাল বিনিয়োগ পুরোপুরি ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। তবে বিসিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা নতুন করে প্লট বরাদ্দের মাধ্যমে শিল্পনগরীটি প্রাণবন্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।