ঢাকা ০৯:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

সংস্কারের নামে মরণফাঁদ: লক্ষ্মীপুরে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ চরমে

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কের সংস্কারকাজ দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখায় হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও সড়ক বিভাগের গাফিলতির কারণেই এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সংস্কারের নামে সড়কগুলো খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে, যা এখন কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

সোনাপুর থেকে পানিয়ালা বাজার হয়ে উত্তর ভাটরা পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার এবং পৌর শহরের জোড় কবর থেকে সোনাপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এসব সড়কে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। স্থানীয়দের মতে, সোনাপুর-পানিয়ালা-উত্তর ভাটরা সড়কের বেশিরভাগ অংশ প্রায় ১৫ বছর ধরে পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের অভাবে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে গর্তে খোয়া ফেলে সাময়িক মেরামত করা হলেও স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রায় ছয় মাস আগে সংস্কারের জন্য সড়ক খুঁড়ে কাজ শুরু হলেও অজ্ঞাত কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়, যা পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে।

সড়কগুলো সমতল না হওয়ায় ছোট ছোট গর্ত বড় আকার ধারণ করেছে এবং সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে যাচ্ছে। এতে পথচারী, শিক্ষার্থী এবং যানবাহনের যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এই সড়কটি উপজেলার অন্যতম ব্যস্ত সড়ক, যা দিয়ে শিক্ষার্থীরা রামগঞ্জ সরকারি কলেজ, মডেল ডিগ্রি কলেজ, জিয়াউল হক উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ, বাদুর উচ্চ বিদ্যালয়, কেথুরী ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা ও পানিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। এছাড়াও বৃহত্তর বাণিজ্যিক কেন্দ্র সোনাপুর বাজার, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যমও এই সড়ক।

অন্যদিকে, পৌর এলাকার সোনাপুর ব্রিজ থেকে জোড় কবর পর্যন্ত সড়কের সংস্কারকাজও শুরু হওয়ার পর বন্ধ হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এই সড়কটিও পানিতে তলিয়ে যায়, যা যানবাহন চলাচল ব্যাহত করে এবং জনদুর্ভোগ বাড়িয়ে তোলে। পানিয়ালা বাজারের ব্যবসায়ী ও সিএনজি অটোরিকশা চালকরা দ্রুত সংস্কারকাজ শুরুর জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুর সীমান্তে বিজিবির সাহসী পদক্ষেপ: বিএসএফের হুমকির কড়া জবাব, প্রশংসা কুড়াচ্ছে জওয়ানরা

সংস্কারের নামে মরণফাঁদ: লক্ষ্মীপুরে হাজারো মানুষের দুর্ভোগ চরমে

আপডেট সময় : ০৭:৩২:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কের সংস্কারকাজ দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখায় হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও সড়ক বিভাগের গাফিলতির কারণেই এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সংস্কারের নামে সড়কগুলো খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে, যা এখন কার্যত মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

সোনাপুর থেকে পানিয়ালা বাজার হয়ে উত্তর ভাটরা পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার এবং পৌর শহরের জোড় কবর থেকে সোনাপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এসব সড়কে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। স্থানীয়দের মতে, সোনাপুর-পানিয়ালা-উত্তর ভাটরা সড়কের বেশিরভাগ অংশ প্রায় ১৫ বছর ধরে পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের অভাবে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে গর্তে খোয়া ফেলে সাময়িক মেরামত করা হলেও স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রায় ছয় মাস আগে সংস্কারের জন্য সড়ক খুঁড়ে কাজ শুরু হলেও অজ্ঞাত কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়, যা পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে।

সড়কগুলো সমতল না হওয়ায় ছোট ছোট গর্ত বড় আকার ধারণ করেছে এবং সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে যাচ্ছে। এতে পথচারী, শিক্ষার্থী এবং যানবাহনের যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এই সড়কটি উপজেলার অন্যতম ব্যস্ত সড়ক, যা দিয়ে শিক্ষার্থীরা রামগঞ্জ সরকারি কলেজ, মডেল ডিগ্রি কলেজ, জিয়াউল হক উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ, বাদুর উচ্চ বিদ্যালয়, কেথুরী ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা ও পানিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। এছাড়াও বৃহত্তর বাণিজ্যিক কেন্দ্র সোনাপুর বাজার, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যমও এই সড়ক।

অন্যদিকে, পৌর এলাকার সোনাপুর ব্রিজ থেকে জোড় কবর পর্যন্ত সড়কের সংস্কারকাজও শুরু হওয়ার পর বন্ধ হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এই সড়কটিও পানিতে তলিয়ে যায়, যা যানবাহন চলাচল ব্যাহত করে এবং জনদুর্ভোগ বাড়িয়ে তোলে। পানিয়ালা বাজারের ব্যবসায়ী ও সিএনজি অটোরিকশা চালকরা দ্রুত সংস্কারকাজ শুরুর জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।