সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর প্রায় পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও তাদের পদায়ন করা হয়নি। দ্রুত পদায়ন না হলে তারা রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং পদায়নে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে সৃষ্ট দুর্ভোগ, অনিশ্চয়তা ও হতাশা থেকে মুক্তি পেতে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর পক্ষে তাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন দেবব্রত সরকার, ফারজানা আক্তার ও জান্নাতুল ইসলাম টনি। এ সময় সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত আরও বেশ কয়েকজন প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, তাদের মধ্যে অনেকেই পূর্বের সরকারি ও বেসরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। অনেকে ভালো বেতনের চাকরিও গ্রহণ করেননি। কারণ তারা শিক্ষকতাকে কেবল একটি চাকরি হিসেবে নয়, বরং স্বপ্নের পেশা এবং জাতি গঠনের এক মহান দায়িত্ব হিসেবে বেছে নিয়েছেন। সেই কাঙ্ক্ষিত চাকরিতে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও আজ তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরমে পূর্বের চাকরি থেকে অব্যাহতি সংক্রান্ত তথ্য প্রদানের প্রয়োজনে অনেকেই পূর্বেই চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ফলে অসংখ্য পরিবার আজ আয়-রোজগারহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের মধ্যে অনেকেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। চাকরিতে যোগদানের এই দীর্ঘ বিলম্ব তাদের সামাজিক, পারিবারিক ও অর্থনৈতিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার শিক্ষক মানে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার পরিবার। চূড়ান্ত সুপারিশের সংবাদে যে পরিবারগুলো আনন্দে উদ্বেলিত হয়েছিল, আজ তারা উল্টো সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার। প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনরা প্রশ্ন করছেন, আসলেই কি চাকরি হয়েছে, নাকি এটি শুধু কাগজে-কলমে?
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ইতিহাসে চূড়ান্ত সুপারিশের পর বিদ্যালয়ে পদায়নের জন্য এত দীর্ঘ সময় অপেক্ষার নজির নেই। বিগত নিয়োগগুলোতে সুপারিশের পর দ্রুত নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছিল। অথচ বর্তমান প্রার্থীরা আজও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, নীলফামারী জেলার একজন চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষক সম্প্রতি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তার বাবা নেই, তিনিই পরিবারের…
রিপোর্টারের নাম 



















