ঢাকা ০৫:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

খুলনায় চা দোকানিকে গণপিটুনি: মৃত্যু ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালি বাজারে চা দোকানি হাসান সরদার (৩৫) গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। রোববার রাতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত হাসান চাঁদখালী ইউনিয়নের কালিদাসপুর গ্রামের মালেক সরদারের ছেলে। এই ঘটনায় নিহতের চাচা সিরাজুল বাদী হয়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রোববার বিকেলে হাসানের চায়ের দোকানের পাশে কুদ্দুস গাজী প্রসাব করতে বসলে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। কুদ্দুসের ফোন পেয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব ও স্বেচ্ছাসেবক দলে পদপ্রত্যাশী নেতা এবং গরু হাটের ইজারাদার নামজুল হুদা মিন্টু ঘটনাস্থলে এসে হাসানকে বেধড়ক মারধর করেন। ঘণ্টাখানেক পর জ্ঞান ফিরলে তাকে আবারও নির্যাতন করা হয়। সন্ধ্যার পর জ্ঞান হারালে পুনরায় মারধর করা হয়। অবস্থা গুরুতর বুঝতে পেরে নসিমনযোগে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক নয়ন কুমার সরকার জানান, হাসপাতালে আনার আগেই হাসানের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার সকালে নিহতের পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে কুদ্দুস গাজী ও তার ভাইয়ের বাড়িঘর ভাঙচুর করে এবং অগ্নিসংযোগ করে। তবে, নামজুল হুদা মিন্টু ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত না থাকার দাবি করেছেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে ছুটে গিয়ে হাসানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির কারণে প্রতিপক্ষ বিষয়টি ইস্যু বানানোর চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া জানান, হাসপাতালের রিপোর্ট অনুযায়ী গণপিটুনিতে হাসানের মৃত্যু হয়েছে বলে জেনেছেন। থানায় এজাহার দাখিল হয়েছে এবং তিনি খুলনায় অফিশিয়াল মিটিংয়ে ছিলেন। পৌঁছানোর পর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তিনি আরও জানান, নিহতের মাদক সংশ্লিষ্টতা ও বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত থাকার তথ্য রয়েছে। তবে, যে অভিযোগই থাকুক না কেন, আইনের হাতে তুলে না দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা মারাত্মক অপরাধ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ভূমিকার গুরুত্ব অপরিসীম: সেলিম উদ্দিন

খুলনায় চা দোকানিকে গণপিটুনি: মৃত্যু ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা

আপডেট সময় : ১১:৩৮:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার চাঁদখালি বাজারে চা দোকানি হাসান সরদার (৩৫) গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। রোববার রাতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত হাসান চাঁদখালী ইউনিয়নের কালিদাসপুর গ্রামের মালেক সরদারের ছেলে। এই ঘটনায় নিহতের চাচা সিরাজুল বাদী হয়ে ১০ জনের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রোববার বিকেলে হাসানের চায়ের দোকানের পাশে কুদ্দুস গাজী প্রসাব করতে বসলে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। কুদ্দুসের ফোন পেয়ে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব ও স্বেচ্ছাসেবক দলে পদপ্রত্যাশী নেতা এবং গরু হাটের ইজারাদার নামজুল হুদা মিন্টু ঘটনাস্থলে এসে হাসানকে বেধড়ক মারধর করেন। ঘণ্টাখানেক পর জ্ঞান ফিরলে তাকে আবারও নির্যাতন করা হয়। সন্ধ্যার পর জ্ঞান হারালে পুনরায় মারধর করা হয়। অবস্থা গুরুতর বুঝতে পেরে নসিমনযোগে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক নয়ন কুমার সরকার জানান, হাসপাতালে আনার আগেই হাসানের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার সকালে নিহতের পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে কুদ্দুস গাজী ও তার ভাইয়ের বাড়িঘর ভাঙচুর করে এবং অগ্নিসংযোগ করে। তবে, নামজুল হুদা মিন্টু ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত না থাকার দাবি করেছেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে ছুটে গিয়ে হাসানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির কারণে প্রতিপক্ষ বিষয়টি ইস্যু বানানোর চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া জানান, হাসপাতালের রিপোর্ট অনুযায়ী গণপিটুনিতে হাসানের মৃত্যু হয়েছে বলে জেনেছেন। থানায় এজাহার দাখিল হয়েছে এবং তিনি খুলনায় অফিশিয়াল মিটিংয়ে ছিলেন। পৌঁছানোর পর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তিনি আরও জানান, নিহতের মাদক সংশ্লিষ্টতা ও বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত থাকার তথ্য রয়েছে। তবে, যে অভিযোগই থাকুক না কেন, আইনের হাতে তুলে না দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা মারাত্মক অপরাধ।