ঢাকা ০৫:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের উদাসীনতা, স্থানীয়দের জন্য বরাদ্দ কমে ৫ শতাংশে!

কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য জাতিসংঘের বরাদ্দকৃত আর্থিক সহায়তা ২৫ শতাংশ থেকে মাত্র ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কক্সবাজারে কর্মরত বেসরকারি সংস্থাগুলোর সংগঠন কক্সবাজার সিএসও-এনজিও ফোরাম (সিসিএনএফ) বুধবার কক্সবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায়। সংগঠনটির দাবি, জাতিসংঘ, এর অধীনস্থ সংস্থা, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় এনজিওগুলোর কেউই রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য কোনো বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করছে না, বরং তারা কেবল বরাদ্দ নিয়েই ব্যস্ত রয়েছে।

সিসিএনএফের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রোহিঙ্গা সংকট এখন নবম বছরে পদার্পণ করেছে। ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকার, স্থানীয় জনগণ, দেশি-বিদেশি এনজিও এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে। এই কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য প্রতি বছর একটি যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা (Joint Response Plan – JRP) প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু এই বছর ‘ইউএনএইচসিআরকে অবশ্যই স্থানীয় এনজিওদের অংশীদারিত্বে অগ্রাধিকার দিতে হবে; জেআরপিতে স্বাগতিক জনগোষ্ঠীর জন্য ৫ শতাংশ বরাদ্দ স্থানীয়করণ অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন যে, জেআরপি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি, যেখানে আন্তর্জাতিক এনজিওর মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা একটি ‘জেআরপি ২.০’ কাঠামোর প্রস্তাব করেন, যেখানে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সিসিএনএফের প্রধান মডারেটর রেজাউল করিম চৌধুরী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এবং এতে স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সাংবাদিকদের ভূমিকার গুরুত্ব অপরিসীম: সেলিম উদ্দিন

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘের উদাসীনতা, স্থানীয়দের জন্য বরাদ্দ কমে ৫ শতাংশে!

আপডেট সময় : ০৪:০৬:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য জাতিসংঘের বরাদ্দকৃত আর্থিক সহায়তা ২৫ শতাংশ থেকে মাত্র ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কক্সবাজারে কর্মরত বেসরকারি সংস্থাগুলোর সংগঠন কক্সবাজার সিএসও-এনজিও ফোরাম (সিসিএনএফ) বুধবার কক্সবাজার প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায়। সংগঠনটির দাবি, জাতিসংঘ, এর অধীনস্থ সংস্থা, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় এনজিওগুলোর কেউই রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য কোনো বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা করছে না, বরং তারা কেবল বরাদ্দ নিয়েই ব্যস্ত রয়েছে।

সিসিএনএফের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রোহিঙ্গা সংকট এখন নবম বছরে পদার্পণ করেছে। ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকার, স্থানীয় জনগণ, দেশি-বিদেশি এনজিও এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে। এই কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য প্রতি বছর একটি যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা (Joint Response Plan – JRP) প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু এই বছর ‘ইউএনএইচসিআরকে অবশ্যই স্থানীয় এনজিওদের অংশীদারিত্বে অগ্রাধিকার দিতে হবে; জেআরপিতে স্বাগতিক জনগোষ্ঠীর জন্য ৫ শতাংশ বরাদ্দ স্থানীয়করণ অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন যে, জেআরপি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়নি, যেখানে আন্তর্জাতিক এনজিওর মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা একটি ‘জেআরপি ২.০’ কাঠামোর প্রস্তাব করেন, যেখানে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সিসিএনএফের প্রধান মডারেটর রেজাউল করিম চৌধুরী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এবং এতে স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।