ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গাজায় গণহত্যা চলছে : ইসরায়েল থেকে বহিষ্কার হয়ে গ্রেটা থুনবার্গের দাবি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২৫:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

সুইডিশ পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ ইসরায়েল থেকে সোমবার (৬ অক্টোবর) গ্রিসে পৌঁছেছেন। এথেন্সের এলেফথেরিওস ভেনিজেলোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায় উচ্ছ্বসিত ফিলিস্তিনপন্থি জনতা। এ সময় গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান প্রসঙ্গে থুনবার্গ জানান, ‘আমি খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই— সেখানে একটি গণহত্যা চলছে।’ ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

থুনবার্গ বলেন, ‘আমাদের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। তারা এমনকি সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ ঠেকাতেও ব্যর্থ। গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার মাধ্যমে আমরা যা করতে চেয়েছি, তা হলো— আমাদের সরকারগুলো যখন তাদের আইনি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে, তখন আমরা পদক্ষেপ নিতে চেয়েছি।’

এথেন্সে পৌঁছে থুনবার্গ বলেন, ‘আমাদের প্রতি নির্যাতন ও কারাবন্দি অবস্থায় যে সব অপব্যবহার হয়েছে, তা নিয়ে আমি অনেক, অনেকক্ষণ কথা বলতে পারি, কিন্তু সেটাই আসল গল্প নয়।’ তিনি বলেন, ‘যা ঘটেছে, তা হলো— ইসরায়েল তাদের গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞকে আরও তীব্র করে তুলতে গিয়ে আবারও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। তারা মানবিক সাহায্য গাজায় পৌঁছাতে বাধা দিয়েছে, যখন মানুষ অনাহারে মরছে— একটি সম্পূর্ণ জাতিকে আমাদের চোখের সামনে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে।’

ইসরায়েল জানিয়েছে, সোমবার থুনবার্গসহ ১৭১ জন কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ নিয়ে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া মোট ৪৭৯ কর্মীর মধ্যে ৩৪১ জনকে দেশে ফেরত পাঠানো হলো। এই ফ্লোটিলা নৌবহর গাজায় ইসরায়েলের নৌ অবরোধ ভেঙে ত্রাণ পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিল।

গ্রীসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার একটি ফ্লাইটে ১৬১ জন কর্মী এথেন্সে পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ২২ বছর বয়সি থুনবার্গও। এদের মধ্যে ২৭ জন গ্রিক নাগরিক ছাড়াও প্রায় ২০টি দেশের নাগরিক ছিলেন।

এর আগে সুইজারল্যান্ড ও স্পেনের কর্মীরা অভিযোগ করেন, আটক অবস্থায় তাদের অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যে রাখা হয়েছিল। সুইজারল্যান্ডে ফেরত আসা ফ্লোটিলার নয় সদস্যের মধ্যে কয়েকজন ঘুমাতে না দেওয়া, পানি ও খাদ্যস্বল্পতা, এমনকি প্রহার, লাথি মারা ও খাঁচায় বন্দি করার অভিযোগ তুলেছেন। স্প্যানিশ কর্মীরাও রবিবার রাতে দেশে ফেরার পর নির্যাতনের অভিযোগ করেন। মাদ্রিদ বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের আইনজীবী রাফায়েল বোররেগো বলেন, ‘তারা আমাদের প্রহার করেছে, মাটিতে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গেছে, চোখ বেঁধেছে, হাত-পা বেঁধে খাঁচায় রেখেছে এবং আমাদের গালাগাল করেছে।’ সুইডিশ কর্মীরা শনিবার জানিয়েছেন, থুনবার্গকে আটক অবস্থায় ধাক্কা দেওয়া হয় এবং তাঁকে জোর করে ইসরায়েলের পতাকা গায়ে পেঁচিয়ে রাখতে ও তাতে চুমু খেতে বাধ্য করা হয়।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফ্লোটিলা থেকে আটক হওয়ার পর বন্দিদের ওপর নির্যাতনের ব্যাপক প্রতিবেদনগুলোকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছে। তবে ফ্লোটিলায় অংশ নেওয়া সাবেক বার্সেলোনা মেয়র আডা কোলাউ বলেন, ‘হ্যাঁ, আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে। কিন্তু সেটা ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতিদিন যে কষ্ট, তার তুলনায় কিছুই নয়।’

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সেমিফাইনালের স্বপ্ন জিইয়ে রাখার লড়াই: শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি পাকিস্তান, সামনে পাহাড়সম সমীকরণ

গাজায় গণহত্যা চলছে : ইসরায়েল থেকে বহিষ্কার হয়ে গ্রেটা থুনবার্গের দাবি

আপডেট সময় : ০২:২৫:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫

সুইডিশ পরিবেশ আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ ইসরায়েল থেকে সোমবার (৬ অক্টোবর) গ্রিসে পৌঁছেছেন। এথেন্সের এলেফথেরিওস ভেনিজেলোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায় উচ্ছ্বসিত ফিলিস্তিনপন্থি জনতা। এ সময় গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান প্রসঙ্গে থুনবার্গ জানান, ‘আমি খুব স্পষ্ট করে বলতে চাই— সেখানে একটি গণহত্যা চলছে।’ ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

থুনবার্গ বলেন, ‘আমাদের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। তারা এমনকি সবচেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ ঠেকাতেও ব্যর্থ। গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার মাধ্যমে আমরা যা করতে চেয়েছি, তা হলো— আমাদের সরকারগুলো যখন তাদের আইনি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে, তখন আমরা পদক্ষেপ নিতে চেয়েছি।’

এথেন্সে পৌঁছে থুনবার্গ বলেন, ‘আমাদের প্রতি নির্যাতন ও কারাবন্দি অবস্থায় যে সব অপব্যবহার হয়েছে, তা নিয়ে আমি অনেক, অনেকক্ষণ কথা বলতে পারি, কিন্তু সেটাই আসল গল্প নয়।’ তিনি বলেন, ‘যা ঘটেছে, তা হলো— ইসরায়েল তাদের গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞকে আরও তীব্র করে তুলতে গিয়ে আবারও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। তারা মানবিক সাহায্য গাজায় পৌঁছাতে বাধা দিয়েছে, যখন মানুষ অনাহারে মরছে— একটি সম্পূর্ণ জাতিকে আমাদের চোখের সামনে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে।’

ইসরায়েল জানিয়েছে, সোমবার থুনবার্গসহ ১৭১ জন কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ নিয়ে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া মোট ৪৭৯ কর্মীর মধ্যে ৩৪১ জনকে দেশে ফেরত পাঠানো হলো। এই ফ্লোটিলা নৌবহর গাজায় ইসরায়েলের নৌ অবরোধ ভেঙে ত্রাণ পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিল।

গ্রীসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার একটি ফ্লাইটে ১৬১ জন কর্মী এথেন্সে পৌঁছেছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ২২ বছর বয়সি থুনবার্গও। এদের মধ্যে ২৭ জন গ্রিক নাগরিক ছাড়াও প্রায় ২০টি দেশের নাগরিক ছিলেন।

এর আগে সুইজারল্যান্ড ও স্পেনের কর্মীরা অভিযোগ করেন, আটক অবস্থায় তাদের অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যে রাখা হয়েছিল। সুইজারল্যান্ডে ফেরত আসা ফ্লোটিলার নয় সদস্যের মধ্যে কয়েকজন ঘুমাতে না দেওয়া, পানি ও খাদ্যস্বল্পতা, এমনকি প্রহার, লাথি মারা ও খাঁচায় বন্দি করার অভিযোগ তুলেছেন। স্প্যানিশ কর্মীরাও রবিবার রাতে দেশে ফেরার পর নির্যাতনের অভিযোগ করেন। মাদ্রিদ বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের আইনজীবী রাফায়েল বোররেগো বলেন, ‘তারা আমাদের প্রহার করেছে, মাটিতে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গেছে, চোখ বেঁধেছে, হাত-পা বেঁধে খাঁচায় রেখেছে এবং আমাদের গালাগাল করেছে।’ সুইডিশ কর্মীরা শনিবার জানিয়েছেন, থুনবার্গকে আটক অবস্থায় ধাক্কা দেওয়া হয় এবং তাঁকে জোর করে ইসরায়েলের পতাকা গায়ে পেঁচিয়ে রাখতে ও তাতে চুমু খেতে বাধ্য করা হয়।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফ্লোটিলা থেকে আটক হওয়ার পর বন্দিদের ওপর নির্যাতনের ব্যাপক প্রতিবেদনগুলোকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছে। তবে ফ্লোটিলায় অংশ নেওয়া সাবেক বার্সেলোনা মেয়র আডা কোলাউ বলেন, ‘হ্যাঁ, আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়েছে। কিন্তু সেটা ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতিদিন যে কষ্ট, তার তুলনায় কিছুই নয়।’