জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রোববার (৯ নভেম্বর) একটি প্রজ্ঞাপন দিয়ে জানিয়েছে যে, করদাতারা এখন থেকে অনলাইনেই ভ্যাট ফেরতের জন্য আবেদন করতে পারবেন। শুধু তাই নয়, আবেদনটি যাচাই-বাছাই এবং অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়াটিও অনলাইনেই হবে এবং টাকা সরাসরি আবেদনকারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে যাবে। এই সুবিধাটি দেওয়ার জন্যই ‘অনলাইন ভ্যাট রিফান্ড মডিউল’ চালু করা হয়েছে।
এনবিআরের প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, এই কাজের জন্য তাদের ‘ইন্টিগ্রেটেড ভ্যাট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সিস্টেম’ (আইভাস)-এর সাথে অর্থ বিভাগের ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ সিস্টেমকে যুক্ত করা হবে। এর ফলে, বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্ক (বিইএফটিএন) ব্যবহার করে ভ্যাট রিফান্ডের টাকা সরাসরি করদাতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যাবে।
এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ এই প্রসঙ্গে বলেন, “অনলাইন ভ্যাট রিফান্ড মডিউল চালুর মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ডিজিটাল সেবার কার্যক্রম আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো। আমরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সব কাজকেই ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের (অটোমেশন) আওতায় নিয়ে আসছি।”
এই নতুন সিস্টেমের ফলে করদাতারা অনলাইনে মূসক রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়ই রিফান্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এরপর সংশ্লিষ্ট মূসক কমিশনারেট সেই আবেদনটি যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা ট্রান্সফার হয়ে যাবে।
এর ফলে, রিফান্ডের আবেদন জমা দিতে বা চেক নেওয়ার জন্য করদাতাদের আর সশরীরে ভ্যাট অফিসে দৌড়াদৌড়ি করতে হবে না। এতে তাদের সময় ও খরচ দুটোই বাঁচবে এবং পুরো প্রক্রিয়াটিতে স্বচ্ছতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এনবিআর জানিয়েছে, যাদের রিফান্ড আবেদন এখনও ঝুলে আছে বা নিষ্পত্তি হয়নি, তাদেরকে এই নতুন মডিউলে (মূসক-৯.১ ফরমের মাধ্যমে) আবার অনলাইনে আবেদন জমা দিতে হবে।
এই নতুন পদ্ধতি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়াতে ভ্যাট কমিশনারেট পর্যায়ে প্রশিক্ষণেরও আয়োজন করা হয়েছে। করদাতারা চাইলে তাদের স্থানীয় কমিশনারেটে যোগাযোগ করে এই অনলাইন রিফান্ড প্রক্রিয়া সম্পর্কে যেকোনো সহায়তা নিতে পারবেন।
উল্লেখ্য, গত আগস্ট মাসে এক অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান বলেছিলেন, ভ্যাট রিটার্ন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় (অটোমেশন) হয়ে যাবে। তখন আর কাগজে কোনো রিটার্ন গ্রহণ করা হবে না।
সাধারণত, কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যখন কাঁচামাল বা সেবা কেনে, তখন তারা ‘ইনপুট ভ্যাট’ দেয়। আবার সেই পণ্য বা সেবা যখন বিক্রি করে, তখন গ্রাহকের কাছ থেকে ‘আউটপুট ভ্যাট’ সংগ্রহ করে। যদি কেনা বা ইনপুটের ভ্যাটের পরিমাণ, বিক্রির বা আউটপুট ভ্যাটের চেয়ে বেশি হয়, তখন সেই অতিরিক্ত টাকাটাই ‘রিফান্ড’ বা ফেরত হিসেবে দাবি করা যায়। কিন্তু ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল যে, তারা এই রিফান্ড পাচ্ছিলেন না। এ নিয়ে তারা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাথে বিভিন্ন বৈঠকে ভ্যাট রিফান্ডের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 
























