ঢাকা ০৭:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

শহীদ আনাসের চিঠি পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা হয়েছে

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, জুলাই শহীদ শাহরিয়ার খান আনাস আমাদের সামনে একটি নতুন সংগ্রামের পথ খুলে দিয়ে গেছে। সেই পথ ধরে আমাদের শুধু দেশকেই নয়, পরিবেশ এবং পুরো মানবজাতিকেই রক্ষা করতে হবে।

তিনি জানান, আনাসের লেখা চিঠি যেন পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, সেজন্য তিনি শিক্ষা উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এর মধ্যেই কথা বলেছেন।

রোববার (৯ নভেম্বর) রাজধানীর গেন্ডারিয়া আদর্শ একাডেমিতে ‘জুলাই শহীদ শাহারিয়ার খান আনাস ফলক’ উন্মোচন ও দোয়া অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, আনাসের চিঠিটি তার দূরদর্শিতার এক দারুণ উদাহরণ। সে যে কাজ করেছে এবং যে মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে, তা যেন সবাই জানতে পারে, সেটাই ছিল তার চেষ্টা। আনাস নিজের জীবনের বিনিময়ে আমাদের গর্বিত করেছে।

তিনি বলেন, “অনেকে বলছেন স্কুলে নাকি গান-বাজনার শিক্ষক রাখা যাবে না বা গান করা যাবে না। কিন্তু আজকের অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক গান ও মাকে নিয়ে যে আবেগঘন পরিবেশনা আমরা দেখলাম, তাতেই প্রমাণ হয় যে প্রতিটি স্কুলে সংগীত চর্চা থাকা কতটা জরুরি।” তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা আনাসের লেখা চিঠিটি মুখস্থ করে আবৃত্তি হিসেবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তুলে ধরতে পারে।

ফরিদা আখতার জলবায়ু পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি মোকাবিলায় ব্রাজিলে ‘কপ-৩০’ নামে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন হতে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নানা রকম সমস্যা হচ্ছে। যেমন, মাছের ডিম ছাড়ার জন্য মৌসুম অনুযায়ী বৃষ্টির দরকার হয়। আষাঢ় মাসে বৃষ্টি না হলে আশ্বিন মাসে ইলিশ মাছ ডিম ছাড়তে পারে না। তাই জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা করা আমাদের জন্য খুবই জরুরি।

তিনি আরও বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নদী ও সাগরে অক্সিজেন কমে যাচ্ছে, লবণাক্ততা বাড়ছে, এমনকি অনেক সময় মাছ মরে ভেসে উঠছে—এগুলো সবই পরিবেশ বিপর্যয়ের লক্ষণ। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হিসেবে তোমাদের (শিক্ষার্থীদের) এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যাতে পরিবেশের ক্ষতি হয়।”

উপদেষ্টা প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর ওপর জোর দিয়ে বলেন, “সমুদ্রে প্লাস্টিক বা মেঘনা নদীর দূষণ—এগুলো এখন বাস্তব। গবেষণায় এমনকি ইলিশ মাছের পেটেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যাচ্ছে। এই প্লাস্টিক খাবারের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত আমাদের শরীরেই ঢুকবে। তাই আমাদের সবাইকে সচেতন হয়ে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে হবে।”

অনুষ্ঠানে গেন্ডারিয়া আদর্শ একাডেমির সভাপতি ড. মুহাম্মদ আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সিইও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কামাল আকবর, রাহনুমা ট্রাস্টের সদস্য আরিফ সুলতান মাহমুদ এবং শহীদ আনাসের বাবা সাহরিয়া খান পলাশ।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মাহমুদা রোকসেনা সুলতানা, একাডেমির অভিভাবক প্রতিনিধি জুয়েল আহমেদসহ একাডেমির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এর আগে উপদেষ্টা আদর্শ একাডেমিতে শহীদ শাহরিয়ার খান আনাস ফলকটি উন্মোচন করেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রেমিট্যান্স সেবায় শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি: ‘গোল্ড অ্যাওয়ার্ড’ পেল ইসলামী ব্যাংক

শহীদ আনাসের চিঠি পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা হয়েছে

আপডেট সময় : ০৩:৩৯:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, জুলাই শহীদ শাহরিয়ার খান আনাস আমাদের সামনে একটি নতুন সংগ্রামের পথ খুলে দিয়ে গেছে। সেই পথ ধরে আমাদের শুধু দেশকেই নয়, পরিবেশ এবং পুরো মানবজাতিকেই রক্ষা করতে হবে।

তিনি জানান, আনাসের লেখা চিঠি যেন পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, সেজন্য তিনি শিক্ষা উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এর মধ্যেই কথা বলেছেন।

রোববার (৯ নভেম্বর) রাজধানীর গেন্ডারিয়া আদর্শ একাডেমিতে ‘জুলাই শহীদ শাহারিয়ার খান আনাস ফলক’ উন্মোচন ও দোয়া অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, আনাসের চিঠিটি তার দূরদর্শিতার এক দারুণ উদাহরণ। সে যে কাজ করেছে এবং যে মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে, তা যেন সবাই জানতে পারে, সেটাই ছিল তার চেষ্টা। আনাস নিজের জীবনের বিনিময়ে আমাদের গর্বিত করেছে।

তিনি বলেন, “অনেকে বলছেন স্কুলে নাকি গান-বাজনার শিক্ষক রাখা যাবে না বা গান করা যাবে না। কিন্তু আজকের অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক গান ও মাকে নিয়ে যে আবেগঘন পরিবেশনা আমরা দেখলাম, তাতেই প্রমাণ হয় যে প্রতিটি স্কুলে সংগীত চর্চা থাকা কতটা জরুরি।” তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা আনাসের লেখা চিঠিটি মুখস্থ করে আবৃত্তি হিসেবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তুলে ধরতে পারে।

ফরিদা আখতার জলবায়ু পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি মোকাবিলায় ব্রাজিলে ‘কপ-৩০’ নামে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন হতে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নানা রকম সমস্যা হচ্ছে। যেমন, মাছের ডিম ছাড়ার জন্য মৌসুম অনুযায়ী বৃষ্টির দরকার হয়। আষাঢ় মাসে বৃষ্টি না হলে আশ্বিন মাসে ইলিশ মাছ ডিম ছাড়তে পারে না। তাই জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষা করা আমাদের জন্য খুবই জরুরি।

তিনি আরও বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নদী ও সাগরে অক্সিজেন কমে যাচ্ছে, লবণাক্ততা বাড়ছে, এমনকি অনেক সময় মাছ মরে ভেসে উঠছে—এগুলো সবই পরিবেশ বিপর্যয়ের লক্ষণ। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হিসেবে তোমাদের (শিক্ষার্থীদের) এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যাতে পরিবেশের ক্ষতি হয়।”

উপদেষ্টা প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর ওপর জোর দিয়ে বলেন, “সমুদ্রে প্লাস্টিক বা মেঘনা নদীর দূষণ—এগুলো এখন বাস্তব। গবেষণায় এমনকি ইলিশ মাছের পেটেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যাচ্ছে। এই প্লাস্টিক খাবারের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত আমাদের শরীরেই ঢুকবে। তাই আমাদের সবাইকে সচেতন হয়ে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে হবে।”

অনুষ্ঠানে গেন্ডারিয়া আদর্শ একাডেমির সভাপতি ড. মুহাম্মদ আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সিইও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) কামাল আকবর, রাহনুমা ট্রাস্টের সদস্য আরিফ সুলতান মাহমুদ এবং শহীদ আনাসের বাবা সাহরিয়া খান পলাশ।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মাহমুদা রোকসেনা সুলতানা, একাডেমির অভিভাবক প্রতিনিধি জুয়েল আহমেদসহ একাডেমির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এর আগে উপদেষ্টা আদর্শ একাডেমিতে শহীদ শাহরিয়ার খান আনাস ফলকটি উন্মোচন করেন।