ঢাকা ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

তরুণ প্রজন্মকে তামাকের আগ্রাসন থেকে রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান

গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের আগ্রাসী বিপণন কৌশলের কারণে শিশু-কিশোর ও তরুণদের মধ্যে আসক্তির ঝুঁকি বৃদ্ধির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি তরুণদের সুরক্ষায় ই-সিগারেট, ভেপিং ও অন্যান্য নতুন প্রজন্মের তামাকপণ্যের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, তামাক ও নিকোটিন কোম্পানিগুলো নতুন মোড়ক, আকর্ষণীয় নকশা এবং আগ্রাসী প্রচারণার মাধ্যমে তাদের পণ্যগুলোকে তরুণদের কাছে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তুলছে। বিশেষ করে ই-সিগারেট, ভেপিং ডিভাইস, নিকোটিন পাউচের মতো নতুন প্রজন্মের পণ্যগুলোকে ‘নিরাপদ’ বা ‘কম ক্ষতিকর’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা তরুণদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

প্রজ্ঞার মতে, সম্প্রতি পাস হওয়া ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬ তামাক নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও, নতুন প্রজন্মের তামাকপণ্য নিষিদ্ধের বিধান আইন থেকে বাদ যাওয়ায় তরুণদের মধ্যে নিকোটিন আসক্তি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় তিন কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাক ব্যবহার করে এবং তামাকজনিত রোগে প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে। এছাড়াও, ২০২৪ সালে তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা তামাক খাত থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব আয়ের দ্বিগুণেরও বেশি।

প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, “তামাক ও নিকোটিন আসক্তির ফাঁদ থেকে তরুণদের সুরক্ষায় ই-সিগারেট ও ভেপিংসহ সকল নতুন প্রজন্মের তামাকপণ্যের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য।” সংস্থাটি মনে করে, তামাকমুক্ত প্রজন্ম গড়তে সদ্য পাস হওয়া তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন, তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ মোকাবেলায় নীতিমালা গ্রহণ এবং আসন্ন জাতীয় বাজেটে সকল প্রকার তামাকপণ্যের কর ও দাম কার্যকরভাবে বাড়িয়ে তরুণদের নাগালের বাইরে নিয়ে আসা প্রয়োজন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফটিকছড়িতে মাছের প্রজেক্টের লেকে ডুবে চাচা-ভাতিজার মর্মান্তিক মৃত্যু

তরুণ প্রজন্মকে তামাকের আগ্রাসন থেকে রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান

আপডেট সময় : ০১:৪২:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬

গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের আগ্রাসী বিপণন কৌশলের কারণে শিশু-কিশোর ও তরুণদের মধ্যে আসক্তির ঝুঁকি বৃদ্ধির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি তরুণদের সুরক্ষায় ই-সিগারেট, ভেপিং ও অন্যান্য নতুন প্রজন্মের তামাকপণ্যের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, তামাক ও নিকোটিন কোম্পানিগুলো নতুন মোড়ক, আকর্ষণীয় নকশা এবং আগ্রাসী প্রচারণার মাধ্যমে তাদের পণ্যগুলোকে তরুণদের কাছে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তুলছে। বিশেষ করে ই-সিগারেট, ভেপিং ডিভাইস, নিকোটিন পাউচের মতো নতুন প্রজন্মের পণ্যগুলোকে ‘নিরাপদ’ বা ‘কম ক্ষতিকর’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা তরুণদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।

প্রজ্ঞার মতে, সম্প্রতি পাস হওয়া ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬ তামাক নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও, নতুন প্রজন্মের তামাকপণ্য নিষিদ্ধের বিধান আইন থেকে বাদ যাওয়ায় তরুণদের মধ্যে নিকোটিন আসক্তি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় তিন কোটি ৭৮ লাখ মানুষ তামাক ব্যবহার করে এবং তামাকজনিত রোগে প্রতি বছর প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে। এছাড়াও, ২০২৪ সালে তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা, যা তামাক খাত থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব আয়ের দ্বিগুণেরও বেশি।

প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, “তামাক ও নিকোটিন আসক্তির ফাঁদ থেকে তরুণদের সুরক্ষায় ই-সিগারেট ও ভেপিংসহ সকল নতুন প্রজন্মের তামাকপণ্যের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অপরিহার্য।” সংস্থাটি মনে করে, তামাকমুক্ত প্রজন্ম গড়তে সদ্য পাস হওয়া তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন, তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ মোকাবেলায় নীতিমালা গ্রহণ এবং আসন্ন জাতীয় বাজেটে সকল প্রকার তামাকপণ্যের কর ও দাম কার্যকরভাবে বাড়িয়ে তরুণদের নাগালের বাইরে নিয়ে আসা প্রয়োজন।