ঢাকা ১০:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

আশুলিয়ায় ৭ হত্যা ও লাশ পোড়ানো: সাবেক এমপি সাইফুলসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময় আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে ৫৯১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গত রবিবার (১৫ মার্চ) এই রায় প্রকাশ করে।

৫৯১ পৃষ্ঠার এই রায়ের পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেছে, অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর হলেও উপস্থাপিত প্রমাণে প্রতিষ্ঠিত হয়নি যে, এই মামলার ২, ৩, ৪, ৫, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর আসামি প্রধান পরিকল্পনাকারী বা চূড়ান্ত রাজনৈতিক উৎস ছিলেন। মূলত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশে অপারেশন পরিচালনায় সহায়তার জন্য তাদের দায় এসেছে।

এছাড়া, কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে লাশ পোড়ানোর ঘটনায় সরাসরি অংশ নেওয়ার পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ প্রসিকিউশন আনতে না পারায় এবং যথাযথভাবে প্রমাণ করতে না পারায় অনেকের সাজা কমেছে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ রনি, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া, আশুলিয়া থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল মালেক, সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) বিশ্বজিৎ সাহা ও কনস্টেবল মুকুল চোকদার।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাতজন হলেন- ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন ও সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস।

এছাড়া, এসআই আরাফাত উদ্দিন ও এএসআই কামরুল হাসানকে সাত বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। এই মামলায় রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়ায় সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হককে খালাস দেওয়া হয়েছে। আসামিদের মধ্যে ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফীসহ কয়েকজন বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লাল-সবুজ জার্সিতে মাঠ মাতাতে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সুলিভান ভাইদ্বয়

আশুলিয়ায় ৭ হত্যা ও লাশ পোড়ানো: সাবেক এমপি সাইফুলসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

আপডেট সময় : ০৫:৩১:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময় আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ছয় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে ৫৯১ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গত রবিবার (১৫ মার্চ) এই রায় প্রকাশ করে।

৫৯১ পৃষ্ঠার এই রায়ের পর্যবেক্ষণে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেছে, অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর হলেও উপস্থাপিত প্রমাণে প্রতিষ্ঠিত হয়নি যে, এই মামলার ২, ৩, ৪, ৫, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর আসামি প্রধান পরিকল্পনাকারী বা চূড়ান্ত রাজনৈতিক উৎস ছিলেন। মূলত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশে অপারেশন পরিচালনায় সহায়তার জন্য তাদের দায় এসেছে।

এছাড়া, কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে লাশ পোড়ানোর ঘটনায় সরাসরি অংশ নেওয়ার পর্যাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ প্রসিকিউশন আনতে না পারায় এবং যথাযথভাবে প্রমাণ করতে না পারায় অনেকের সাজা কমেছে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ রনি, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া, আশুলিয়া থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল মালেক, সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) বিশ্বজিৎ সাহা ও কনস্টেবল মুকুল চোকদার।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাতজন হলেন- ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন ও সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস।

এছাড়া, এসআই আরাফাত উদ্দিন ও এএসআই কামরুল হাসানকে সাত বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। এই মামলায় রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়ায় সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হককে খালাস দেওয়া হয়েছে। আসামিদের মধ্যে ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফীসহ কয়েকজন বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছেন।