ঢাকা ১২:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

ট্রাম্পের সতর্কবার্তায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি কড়া সতর্কবার্তায় মাত্র এক দিনের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। ইরানকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্পের দেওয়া হুঁশিয়ারি এবং যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ার ইঙ্গিতে বাজারে বিরাজমান অস্থিরতা অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার জেরে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে উঠে গিয়েছিল, যা আজ মঙ্গলবার সকালে দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ যেন কোনোভাবেই অবরুদ্ধ করা না হয়। তিনি সরাসরি হুমকি দিয়ে লেখেন, ইরান যদি এই জলপথ দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ করার মতো কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর এখন পর্যন্ত যতটা আঘাত হেনেছে, তার চেয়েও ২০ গুণ কঠোর হামলা চালাবে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থানের পর আজ মঙ্গলবার সকালে এশিয়ার বাজারে তেলের দাম দ্রুত কমে আসে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ১০ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ৯২ ডলারে নেমে আসে। একইভাবে নাইমেক্স লাইট সুইট ক্রুডের দাম ১০ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৮৫ দশমিক শূন্য ৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অনমনীয় অবস্থান জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে সাহায্য করবে।

ফ্লোরিডায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক অভিযান মূলত কিছু ‘অশুভ শক্তিকে’ দমন করার জন্য এবং এটি দীর্ঘমেয়াদী কোনো যুদ্ধে রূপ নেবে না। তাঁর এই বক্তব্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমে আসায় এশিয়ার শেয়ারবাজারেও এর ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা গেছে। জাপানের নিক্কি ২২৫ সূচক ৩ দশমিক ৩ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক ৬ দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে তেলের দাম কমলেও তা ইরান ও ইসরায়েল সংঘাত শুরুর আগের দামের তুলনায় এখনও ২০ শতাংশ বেশি রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তাদের কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভস জানিয়েছেন, তাঁরা মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত উত্তেজনা প্রশমন এবং নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র চালানে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ তাইওয়ানের কাছে নেই

ট্রাম্পের সতর্কবার্তায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন

আপডেট সময় : ১০:০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি কড়া সতর্কবার্তায় মাত্র এক দিনের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। ইরানকে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্পের দেওয়া হুঁশিয়ারি এবং যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী না হওয়ার ইঙ্গিতে বাজারে বিরাজমান অস্থিরতা অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার জেরে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে উঠে গিয়েছিল, যা আজ মঙ্গলবার সকালে দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ ‘হরমুজ প্রণালি’ যেন কোনোভাবেই অবরুদ্ধ করা না হয়। তিনি সরাসরি হুমকি দিয়ে লেখেন, ইরান যদি এই জলপথ দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ করার মতো কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর এখন পর্যন্ত যতটা আঘাত হেনেছে, তার চেয়েও ২০ গুণ কঠোর হামলা চালাবে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থানের পর আজ মঙ্গলবার সকালে এশিয়ার বাজারে তেলের দাম দ্রুত কমে আসে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ১০ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ৯২ ডলারে নেমে আসে। একইভাবে নাইমেক্স লাইট সুইট ক্রুডের দাম ১০ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৮৫ দশমিক শূন্য ৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অনমনীয় অবস্থান জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে সাহায্য করবে।

ফ্লোরিডায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক অভিযান মূলত কিছু ‘অশুভ শক্তিকে’ দমন করার জন্য এবং এটি দীর্ঘমেয়াদী কোনো যুদ্ধে রূপ নেবে না। তাঁর এই বক্তব্যে বিশ্ব অর্থনীতিতে যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমে আসায় এশিয়ার শেয়ারবাজারেও এর ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা গেছে। জাপানের নিক্কি ২২৫ সূচক ৩ দশমিক ৩ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক ৬ দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে তেলের দাম কমলেও তা ইরান ও ইসরায়েল সংঘাত শুরুর আগের দামের তুলনায় এখনও ২০ শতাংশ বেশি রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জি-৭ ভুক্ত দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তাদের কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভস জানিয়েছেন, তাঁরা মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত উত্তেজনা প্রশমন এবং নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন।