প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিজিএফআই) এর মাঠপর্যায়ের তথ্য পরিকল্পনায় চট্টগ্রামের ‘সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য’ হিসেবে পরিচিত সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে যৌথ বাহিনী। আজ সোমবার (৯ মার্চ) ভোরে ফজরের নামাজের পর সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে এই অভিযান শুরু হয়। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপ সমূলে উৎপাটন করতেই এই সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
যেভাবে চলছে অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার মাঠ পর্যায়ের তথ্য, নিখুঁত পরিকল্পনা এবং প্রত্যক্ষ সহায়তায় এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থার আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল (ইউএভি) বা ড্রোন থেকে প্রাপ্ত লাইভ ফুটেজ ব্যবহার করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই অভিযানের সার্বিক নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণ করছে।
গতকাল রোববার দিবাগত রাতেই জঙ্গল সলিমপুরের সব কটি প্রবেশমুখ ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরপর সুনির্দিষ্ট কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে আজ ভোরে ভেতরে প্রবেশ করেন বাহিনীর সদস্যরা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে শুরু হওয়া এই অভিযান আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত চলতে পারে।
অংশ নিয়েছেন সাড়ে ৩ হাজার সদস্য
একটি নির্দিষ্ট এলাকাকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে এটিই দেশের সবচেয়ে বড় অভিযান। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে অংশ নিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় সাড়ে ৩ হাজার সদস্য। এর মধ্যে রয়েছেন:
- সেনাবাহিনী: ৫৫০ জন
- পুলিশ: ১ হাজার ৮০০ জন
- র্যাব: ৪০০ জন
- এপিবিএন: ৩৩০ জন
- বিজিবি: ১২০ জন
মাঠ পর্যায়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৫টি সাঁজোয়া যান (এপিসি) ও ৩টি ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে রিজার্ভ রাখা হয়েছে ৩টি হেলিকপ্টার।
যে কারণে এই সাঁড়াশি অভিযান
সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির রহস্য উদ্ঘাটন করতে গিয়ে জঙ্গল সলিমপুরে লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানার তথ্য পায় গোয়েন্দারা। প্রায় তিন হাজার একর আয়তনের এই সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ২০ হাজার বসতি, যেখানে বসবাস করেন প্রায় দুই লাখ মানুষ। অভিযোগ রয়েছে রোকন, ইয়াছিন, রিদোয়ানসহ কয়েকটি দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপ এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করে।
এর আগে, গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে র্যাবের একটি আভিযানিক দলের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। ওই হামলায় এক র্যাব সদস্য নিহত এবং আরও তিনজন গুরুতর আহত হন। এই ঘটনার পর থেকেই এলাকাটিতে কঠোর অভিযানের পরিকল্পনা করা হচ্ছিল।
অতীতের ব্যর্থতা ও বর্তমানের কঠোর অবস্থান
গত প্রায় দুই যুগ ধরে জঙ্গল সলিমপুর সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ২০১৭ এবং ২০২২ সালেও প্রশাসন এলাকাটি দখলমুক্ত করতে অভিযান পরিচালনার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু স্থানীয় সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ ও নানা অজুহাতে প্রশাসন তখন পিছু হটতে বাধ্য হয়। তবে এবার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে সুসংগঠিত এই অভিযানের মাধ্যমে জঙ্গল সলিমপুর থেকে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 
























