ঢাকা ১২:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

শবে কদরের ফজিলত পেতে ৫টি সহজ উপায়

বিদায় নিচ্ছে পবিত্র মাহে রমজান। রমজানের বিদায়ের মুহূর্তগুলোতেই মুমিনদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়েছে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম পবিত্র লাইলাতুল কদর। লাইলাতুল কদর বা কদরের রাতে ইবাদত করা মানে হলো টানা এক হাজার মাস বা প্রায় ৮৩ বছর ৪ মাস ইবাদত করার সমান সওয়াব অর্জন করা।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদত করবে, তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। এই মহা সুযোগ কাজে লাগাতে কিছু পরামর্শ তুলে ধরা হলো—

 ১. নির্দিষ্ট রাতটি খোঁজার চেষ্টা করুন
লাইলাতুল কদর ঠিক কোন রাতে হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। তবে ইসলামী বিধান অনুযায়ী রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯তম রাত) কদর হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তাই এই রাতগুলোতে ইবাদতের বিশেষ প্রস্তুতি রাখা জরুরি।

২. ইতিকাফের মাধ্যমে মনোযোগ বাড়ানো

রমজানের শেষ দশ দিন মসজিদে ইতিকাফ করা সুন্নত। তবে কেউ যদি পুরো সময় না পারেন, তবে সাধ্যমতো অন্তত কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের জন্য ইতিকাফের নিয়ত করতে পারেন। এতে দুনিয়াবি কোলাহল থেকে দূরে থেকে আল্লাহর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়া সহজ।

৩. ইবাদতের রুটিন তৈরি করুন
কদরের রাতে সময় অপচয় না করে একটি সুশৃঙ্খল রুটিন মেনে চলা ভালো। তারাবি নামাজের পর থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়টি ইবাদতে কাটানোর চেষ্টা করুন। এই সময়ে কোরআন তিলাওয়াত, অর্থসহ পাঠ ও অনুধাবন করা এবং নফল নামাজ ও তাহাজ্জুদ পড়ার ওপর গুরুত্ব দিন। নিজেকে পুরোপুরি আল্লাহর কাছে সঁপে দিয়ে একান্ত মনে মোনাজাত করুন।

৪. বিশেষ দোয়া ও দান-সদকা
হজরত আয়েশা (রা.) একবার রাসূল (সা.)-এর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কদরের রাতে কোন দোয়াটি পড়া উত্তম? নবীজি (সা.) শিখিয়েছিলেন— আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি। অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল এবং ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করুন।পাশাপাশি এই রাতে দান-সদকা করারও বিশেষ সওয়াব রয়েছে। 

৫. আল্লাহর কাছে নিজের চাওয়া ও আগামীর পরিকল্পনা পেশ করুন
আপনার জীবনের দীর্ঘমেয়াদী ও স্বল্পমেয়াদী চাওয়াগুলো কী কী? তার একটি তালিকা মনে মনে তৈরি করে নিন। কদরের রাতে মন খুলে সেই চাওয়াগুলো আল্লাহর কাছে পেশ করুন। একইসঙ্গে শপথ নিন যে, এই রমজানে যে পরিবর্তন নিজের মধ্যে এনেছেন, তা যেন আগামী বছর পর্যন্ত ধরে রাখা যায়।

পবিত্র এই রাতটি আমাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার এক বিশাল সুযোগ। তাই অলসতা না করে এই পাঁচটি ধাপ অনুসরণের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত মুক্তি ও রহমত লাভ করতে পারি আমরা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করতে দিনাজপুরে প্রধানমন্ত্রী

শবে কদরের ফজিলত পেতে ৫টি সহজ উপায়

আপডেট সময় : ১০:১২:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

বিদায় নিচ্ছে পবিত্র মাহে রমজান। রমজানের বিদায়ের মুহূর্তগুলোতেই মুমিনদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়েছে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম পবিত্র লাইলাতুল কদর। লাইলাতুল কদর বা কদরের রাতে ইবাদত করা মানে হলো টানা এক হাজার মাস বা প্রায় ৮৩ বছর ৪ মাস ইবাদত করার সমান সওয়াব অর্জন করা।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় কদরের রাতে ইবাদত করবে, তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। এই মহা সুযোগ কাজে লাগাতে কিছু পরামর্শ তুলে ধরা হলো—

 ১. নির্দিষ্ট রাতটি খোঁজার চেষ্টা করুন
লাইলাতুল কদর ঠিক কোন রাতে হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা যায় না। তবে ইসলামী বিধান অনুযায়ী রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯তম রাত) কদর হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তাই এই রাতগুলোতে ইবাদতের বিশেষ প্রস্তুতি রাখা জরুরি।

২. ইতিকাফের মাধ্যমে মনোযোগ বাড়ানো

রমজানের শেষ দশ দিন মসজিদে ইতিকাফ করা সুন্নত। তবে কেউ যদি পুরো সময় না পারেন, তবে সাধ্যমতো অন্তত কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিনের জন্য ইতিকাফের নিয়ত করতে পারেন। এতে দুনিয়াবি কোলাহল থেকে দূরে থেকে আল্লাহর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়া সহজ।

৩. ইবাদতের রুটিন তৈরি করুন
কদরের রাতে সময় অপচয় না করে একটি সুশৃঙ্খল রুটিন মেনে চলা ভালো। তারাবি নামাজের পর থেকে সেহরি পর্যন্ত সময়টি ইবাদতে কাটানোর চেষ্টা করুন। এই সময়ে কোরআন তিলাওয়াত, অর্থসহ পাঠ ও অনুধাবন করা এবং নফল নামাজ ও তাহাজ্জুদ পড়ার ওপর গুরুত্ব দিন। নিজেকে পুরোপুরি আল্লাহর কাছে সঁপে দিয়ে একান্ত মনে মোনাজাত করুন।

৪. বিশেষ দোয়া ও দান-সদকা
হজরত আয়েশা (রা.) একবার রাসূল (সা.)-এর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কদরের রাতে কোন দোয়াটি পড়া উত্তম? নবীজি (সা.) শিখিয়েছিলেন— আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি। অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল এবং ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করুন।পাশাপাশি এই রাতে দান-সদকা করারও বিশেষ সওয়াব রয়েছে। 

৫. আল্লাহর কাছে নিজের চাওয়া ও আগামীর পরিকল্পনা পেশ করুন
আপনার জীবনের দীর্ঘমেয়াদী ও স্বল্পমেয়াদী চাওয়াগুলো কী কী? তার একটি তালিকা মনে মনে তৈরি করে নিন। কদরের রাতে মন খুলে সেই চাওয়াগুলো আল্লাহর কাছে পেশ করুন। একইসঙ্গে শপথ নিন যে, এই রমজানে যে পরিবর্তন নিজের মধ্যে এনেছেন, তা যেন আগামী বছর পর্যন্ত ধরে রাখা যায়।

পবিত্র এই রাতটি আমাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার এক বিশাল সুযোগ। তাই অলসতা না করে এই পাঁচটি ধাপ অনুসরণের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত মুক্তি ও রহমত লাভ করতে পারি আমরা।