মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে ধারাবাহিক হামলার জেরে বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। সৌদি আরবের আরামকো তেল শোধনাগার, কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন কেন্দ্র এবং হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানিবাহী জাহাজে হামলার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। এর প্রভাবে বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারেও বড় ধরনের পতন ঘটেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য নতুন শঙ্কার জন্ম দিয়েছে।
ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ছায়া যুদ্ধ এবং ইসরাইলি স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানের হামলার প্রেক্ষাপটে এই সংকট গভীর হচ্ছে। গতকাল সোমবার সৌদি আরবের আরামকো তেল শোধনাগার এবং কাতারের এলএনজি উৎপাদন অবকাঠামোতে হামলার পর এসব স্থাপনার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিতে একাধিক জ্বালানিবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এই হামলার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। বিশ্ববাজারে তেলের অন্যতম মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম গতকাল সোমবার ১০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮২ ডলার ছাড়িয়ে যায়। এর আগে সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালির কাছে অন্তত তিনটি জাহাজে হামলার খবর আসার পর থেকেই দাম বাড়ছিল। প্রাথমিক বৃদ্ধির পর অবশ্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কিছুটা কমে ৭৯ ডলারে নেমে আসে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেন হওয়া তেলের দাম প্রায় ৭.৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭২.২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশের উৎস। ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল না করতে কঠোর সতর্কতা জারি করেছে, যা সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এদিকে, কাতারে এলএনজি স্থাপনায় হামলার কারণে কাতার এনার্জি উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ায় ইউরোপে গ্যাসের দাম প্রায় ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
জ্বালানি অনিশ্চয়তার প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। লন্ডনের এফটিএসই ১০০ শেয়ারবাজার সূচক প্রায় ১ শতাংশ কমে লেনদেন শুরু করে। মধ্যপ্রাচ্যে আকাশপথ বন্ধ থাকার কারণে বিমান সংস্থাগুলোর শেয়ারের দামেও ব্যাপক দরপতন হয়। ইউরোপের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতেও বড় পতন ঘটেছে; ফ্রান্সের সিএসি-৪০ সূচক ১.৬ শতাংশ এবং জার্মানির ডিএএক্স সূচক ১.৭ শতাংশ কমেছে। এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত সোনার দাম ২.৩ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫,৩৯৫.৯৯ ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। তাদের মতে, যদি এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে জ্বালানির দাম আরও অনেক বাড়তে পারে। কিছু বিশ্লেষক সতর্ক করেছেন যে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি এবং সুদের হারে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজে সরাসরি হামলা হয়েছে এবং তৃতীয় একটি জাহাজের খুব কাছাকাছি একটি ‘অজ্ঞাত বস্তু’ বিস্ফোরিত হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























