ইসলামের পাঁচটি মৌলিক স্তম্ভের অন্যতম হলো জাকাত, যা কেবল একটি আর্থিক ইবাদত নয়, বরং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য, ন্যায়বিচার এবং মানবিক সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠার এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। জাকাতের মাধ্যমে ধনী-দরিদ্রের মধ্যে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হয় এবং দারিদ্র্য বিমোচনে এটি কার্যকর ভূমিকা পালন করে। ইসলামে জাকাতকে ধনীদের দয়া হিসেবে নয়, বরং গরিবদের প্রাপ্য অধিকার হিসেবে দেখা হয়।
পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহতে জাকাতের বিধান, এর খাত এবং প্রাপকদের স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা একটি কল্যাণমুখী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার সহায়ক। আল্লাহ তায়ালা কোরআনে বলেছেন, ‘এবং তাদের (ধনীদের) ধন-সম্পদে আছে অভাবী ও বঞ্চিতদের অধিকার।’ (সুরা জারিয়াত, আয়াত: ১৯)
পবিত্র কোরআনে আট শ্রেণির লোককে জাকাত প্রদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা সুরা তাওবার ৬০ নম্বর আয়াতে বলেছেন, “জাকাত হলো শুধু ফকির, মিসকিন, জাকাত উসুলের কাজে নিয়োজিত কর্মচারী এবং যাদের মনোরঞ্জন করা উদ্দেশ্য তাদের হক। আর তা দাস মুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্তের ঋণ পরিশোধ এবং আল্লাহর পথে ও মুসাফিরদের সাহায্যেও ব্যয় করা হবে। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত বিধান। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।”
এই আট শ্রেণির বিস্তারিত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
১. ফকির: যার মালিকানায় জাকাতের নিসাব পরিমাণ সম্পদ নেই, যদিও সে কর্মক্ষম বা কর্মরত হয়।
২. মিসকিন: যার মালিকানায় কোনো ধরনের সম্পদ নেই; একেবারেই নিঃস্ব ও অসহায়।
৩. আমিল: জাকাত সংগ্রহকারী বা ইসলামী রাষ্ট্রের বাইতুল মাল কর্তৃক জাকাত সংগ্রহে নিয়োজিত কর্মকর্তারা। তাদের সংগৃহীত জাকাত থেকে বেতন-ভাতা প্রদান করা হয়। তবে বর্তমানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জাকাত সংগ্রহকারীদের জাকাত থেকে পারিশ্রমিক দেওয়া শরিয়তসম্মত নয়।
৪. মুআল্লাফাতুল কুলুব: অমুসলিমদের ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা বা নতুন মুসলমানদের সহায়তার উদ্দেশ্যে জাকাত প্রদান করা। ইসলামের বিজয় ও মর্যাদা লাভের পর অনেক ক্ষেত্রে অমুসলিমদের জাকাত দেওয়ার বিধান রহিত হয়ে যায়, তবে নওমুসলিমকে পুনর্বাসনের জন্য জাকাত দেওয়া যেতে পারে।
৫. দাস মুক্তি: দাস-দাসিদের মুক্ত করার জন্য জাকাত প্রদান করা যায়। বর্তমানে এই ব্যবস্থা প্রায় বিলুপ্ত।
৬. ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি: এমন ঋণ
রিপোর্টারের নাম 
























