রাজধানী ঢাকায় অভিযান চালিয়ে ৪৭টি মাথার খুলি এবং মানবদেহের বিপুল পরিমাণ হাড় উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় কঙ্কাল চোর চক্রের সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে একজন মেডিকেল শিক্ষার্থীও রয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইবনে মিজান এ তথ্য জানান। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কাজী জহরুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ এবং আসাদুল্লাহ। এদের মধ্যে কাজী জহরুল ইসলাম সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের একজন শিক্ষার্থী।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর মনিপুরীপাড়ায় অভিযান চালিয়ে কাজী জহরুল ইসলামকে আটক করা হয়। সোমবার রাতে তারা কবর থেকে মানবদেহের কঙ্কাল তুলে বিক্রির চেষ্টা করছিল। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তেজগাঁও কলেজের সামনে থেকে আবুল কালাম আজাদ ও আসাদুল্লাহকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আজাদের বিরুদ্ধে কঙ্কাল চুরি, ডাকাতির প্রস্তুতি, মাদকসহ ২১টি মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানায় যে তাদের কাছে অনেক কঙ্কাল রয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সাপ্পোরো ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের হোস্টেল থেকে ৪৭টি মাথার খুলি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্যমতে, ফয়সল নামের এক ব্যক্তি এই চক্রের মূলহোতা এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। অনলাইনে তাদের একটি বড় নেটওয়ার্ক রয়েছে। তারা গত কয়েক বছর ধরে ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর ও গাজীপুর এলাকা থেকে কঙ্কাল সংগ্রহ করে বিক্রি করে আসছিল। প্রতিটি কঙ্কাল ছয় থেকে আট হাজার টাকায় কিনে তারা ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করত। তাদের বেশিরভাগ ক্রেতাই বিভিন্ন মেডিকেল শিক্ষার্থী বলে পুলিশ জানিয়েছে।
উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ইবনে মিজান আরও জানান, এটি একটি সংঘবদ্ধ চক্র যা দেশব্যাপী তাদের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরও জানায় যে ফয়সাল এই ব্যবসার মূলহোতা এবং অনলাইনে তার ‘বোন সেলিং’ নামে একটি গ্রুপ রয়েছে, যেখানে প্রায় ৭০০ কর্মী এবং ২০ হাজারের মতো সদস্য রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























