মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬

জামালপুরে আ. লীগ নেতার বিস্ময়কর দাবি: বিএনপি নেতাকে দেখতে চান উপজেলা চেয়ারম্যান

জামালপুর সদর উপজেলায় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিএনপি নেতাকে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাওয়ার পোস্টার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

জানা গেছে, কেন্দুয়া কালিবাড়ী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য শহিনুর ইসলাম শাহীন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন মিলনকে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান উল্লেখ করে পোস্টার লাগিয়েছেন এবং নিজের ফেসবুক আইডিতেও সেই ছবি পোস্ট করেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শহিনুর ইসলাম শাহীন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি টানা দুইবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির পদও লাভ করেন। সে সময় এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আরও অভিযোগ আছে, গত জুলাই মাসে সংঘটিত আন্দোলনের সময় তিনি ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের অর্থ ও লোকবল দিয়ে সহযোগিতা করেছিলেন।

তবে, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরও তিনি ইউপি সদস্য হিসেবে বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, জেলার অনেক আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী পলাতক, মামলার আসামি কিংবা কারাগারে থাকলেও শহিনুর ইসলাম শাহীন এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কেন্দুয়া কালিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন সাইফুল ইসলাম খান। ৫ আগস্টের পর তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান। পরে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন মিলনের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে রেজুলেশন করে তার আত্মীয় মিজানুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য শহিনুর ইসলাম শাহীন বলেন, “রুহুল আমিন মিলনের সঙ্গে আমার আগে থেকেই সুসম্পর্ক রয়েছে। আমরা একই ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচন করবেন, তাই আমি প্রচার করেছি। ইনশাল্লাহ তাকে নির্বাচনও করিয়ে দেব।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতের রাজনীতিতে চমক: বিজেপির তিন দশকের দুর্গ ভাঙলেন প্রশান্ত কিশোর

জামালপুরে আ. লীগ নেতার বিস্ময়কর দাবি: বিএনপি নেতাকে দেখতে চান উপজেলা চেয়ারম্যান

আপডেট সময় : ১১:০১:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

জামালপুর সদর উপজেলায় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিএনপি নেতাকে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাওয়ার পোস্টার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

জানা গেছে, কেন্দুয়া কালিবাড়ী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য শহিনুর ইসলাম শাহীন সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন মিলনকে উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান উল্লেখ করে পোস্টার লাগিয়েছেন এবং নিজের ফেসবুক আইডিতেও সেই ছবি পোস্ট করেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শহিনুর ইসলাম শাহীন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি টানা দুইবার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির পদও লাভ করেন। সে সময় এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আরও অভিযোগ আছে, গত জুলাই মাসে সংঘটিত আন্দোলনের সময় তিনি ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের অর্থ ও লোকবল দিয়ে সহযোগিতা করেছিলেন।

তবে, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরও তিনি ইউপি সদস্য হিসেবে বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে, জেলার অনেক আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী পলাতক, মামলার আসামি কিংবা কারাগারে থাকলেও শহিনুর ইসলাম শাহীন এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কেন্দুয়া কালিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন সাইফুল ইসলাম খান। ৫ আগস্টের পর তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান। পরে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন মিলনের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে রেজুলেশন করে তার আত্মীয় মিজানুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য শহিনুর ইসলাম শাহীন বলেন, “রুহুল আমিন মিলনের সঙ্গে আমার আগে থেকেই সুসম্পর্ক রয়েছে। আমরা একই ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচন করবেন, তাই আমি প্রচার করেছি। ইনশাল্লাহ তাকে নির্বাচনও করিয়ে দেব।”