মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬

নওগাঁয় চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যার রহস্য উন্মোচন: মূল হোতাসহ ৪ জন গ্রেপ্তার

নওগাঁয় চাঞ্চল্যকর মিতু বানু হত্যাকাণ্ডের ৪০ দিন পর অবশেষে রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত মূল হোতাসহ চার যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের মিডিয়া সেলে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নওগাঁ সদর উপজেলার জাহান আলী, সামিদুল, সুজ্জাত এবং রেন্টু ইসলাম। পুলিশ সুপার জানান, গত তিন দিনে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত ২৫ জানুয়ারি রাতে নওগাঁ সদর উপজেলার বিল ভবানীপুর গ্রামের মনতাসুরকে ফোনে তার বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে একটি লাশ থাকার খবর দেয় জাহান আলী। পরদিন (২৬ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় ওই যুবতীর লাশ উদ্ধার করা হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লাশের পরিচয় শনাক্ত হয়; জানা যায় তার নাম মিতু বানু এবং তিনি শহরের বাসিন্দা। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার তদন্ত গুরুত্ব সহকারে করার জন্য পুলিশ সুপার ক্রাইম এবং সদর থানার অফিসার ইনচার্জকে বিশেষ নির্দেশনা দেন। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ব্যবহার, তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৭ মার্চ জাহান আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারায় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীর সূত্র ধরে ৯ মার্চ সামিদুল ও সুজ্জাতকে এবং মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রেন্টু ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, আসামি সামিদুল ও জাহান ১২ হাজার টাকায় মিতু বানুকে নওগাঁ শহর থেকে বিল ভবানী গ্রামে নিয়ে যায়। ওই গ্রামের মালা নামের এক ব্যক্তির পরিত্যক্ত বাড়িতে জাহান আলী, রেন্টু, সুজ্জাত, সামিদুল এবং আরও কয়েকজন অসামাজিক কাজের উদ্দেশ্যে মিলিত হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে টাকা-পয়সার লেনদেন নিয়ে বিবাদ শুরু হলে মিতু চিৎকার করতে থাকে। সম্মান হারানোর ভয়ে আসামি রেন্টু মিতুর মুখ ও গলা চেপে ধরে। এ সময় বাকি আসামিরা তার হাত-পা ধরে রাখে। কিছুক্ষণ পর মিতু মারা গেলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আসামি রেন্টুর পরামর্শে পরে মৃতদেহটি ওই গ্রামের মনতাসুরের বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সুপার আরও জানান, জেলায় যেকোনো ধরনের অপরাধের রহস্য উদঘাটন এবং আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাড়ছে অপরাধের প্রবণতা: জনমনে বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা

নওগাঁয় চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যার রহস্য উন্মোচন: মূল হোতাসহ ৪ জন গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৮:৫৮:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

নওগাঁয় চাঞ্চল্যকর মিতু বানু হত্যাকাণ্ডের ৪০ দিন পর অবশেষে রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত মূল হোতাসহ চার যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের মিডিয়া সেলে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নওগাঁ সদর উপজেলার জাহান আলী, সামিদুল, সুজ্জাত এবং রেন্টু ইসলাম। পুলিশ সুপার জানান, গত তিন দিনে শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত ২৫ জানুয়ারি রাতে নওগাঁ সদর উপজেলার বিল ভবানীপুর গ্রামের মনতাসুরকে ফোনে তার বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে একটি লাশ থাকার খবর দেয় জাহান আলী। পরদিন (২৬ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় ওই যুবতীর লাশ উদ্ধার করা হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লাশের পরিচয় শনাক্ত হয়; জানা যায় তার নাম মিতু বানু এবং তিনি শহরের বাসিন্দা। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার তদন্ত গুরুত্ব সহকারে করার জন্য পুলিশ সুপার ক্রাইম এবং সদর থানার অফিসার ইনচার্জকে বিশেষ নির্দেশনা দেন। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ব্যবহার, তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৭ মার্চ জাহান আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারায় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীর সূত্র ধরে ৯ মার্চ সামিদুল ও সুজ্জাতকে এবং মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রেন্টু ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, আসামি সামিদুল ও জাহান ১২ হাজার টাকায় মিতু বানুকে নওগাঁ শহর থেকে বিল ভবানী গ্রামে নিয়ে যায়। ওই গ্রামের মালা নামের এক ব্যক্তির পরিত্যক্ত বাড়িতে জাহান আলী, রেন্টু, সুজ্জাত, সামিদুল এবং আরও কয়েকজন অসামাজিক কাজের উদ্দেশ্যে মিলিত হয়। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে টাকা-পয়সার লেনদেন নিয়ে বিবাদ শুরু হলে মিতু চিৎকার করতে থাকে। সম্মান হারানোর ভয়ে আসামি রেন্টু মিতুর মুখ ও গলা চেপে ধরে। এ সময় বাকি আসামিরা তার হাত-পা ধরে রাখে। কিছুক্ষণ পর মিতু মারা গেলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আসামি রেন্টুর পরামর্শে পরে মৃতদেহটি ওই গ্রামের মনতাসুরের বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সুপার আরও জানান, জেলায় যেকোনো ধরনের অপরাধের রহস্য উদঘাটন এবং আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে।