মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৭:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬

সিলেটে পাম্প ধর্মঘট প্রত্যাহার, বিপিসি’র নতুন নীতিমালায় তেল উত্তোলন বন্ধের হুঁশিয়ারি

সিলেট নগরীতে পেট্রোল পাম্প কর্মচারীর ওপর হামলা ও ছুরিকাঘাতের প্রতিবাদে ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন পাম্প মালিকরা। তবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) বিতর্কিত নতুন বিপণন নীতিমালা সংশোধন না হলে ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট ও পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বিভাগীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানান, হামলাকারীদের দ্রুত বিচার এবং পাম্পের শ্রমিক ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রশাসনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে এই কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তবে ধর্মঘট প্রত্যাহার হলেও নতুন এক সংকটের মুখে পড়েছেন পাম্প মালিকরা। তাদের অভিযোগ, বিপিসি আকস্মিকভাবে একটি নতুন বিপণন নীতিমালা চালু করেছে, যা তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি করছে। নতুন এই নীতি অনুযায়ী, গত বছরের মার্চ থেকে জুন মাসে একটি পাম্প যে পরিমাণ তেল উত্তোলন করেছে, তার গড় পরিমাণের ২৫ শতাংশ কম সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এতে ডিপোতে পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও পাম্পগুলোতে স্বাভাবিকভাবে তেল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি পাম্প মালিকদের। তারা বলছেন, সিলেটেই গ্যাস ফিল্ডের কনডেনসেট থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অকটেন ও পেট্রোল উৎপাদিত হয় এবং দেশে অকটেন-পেট্রোলের কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু এই নীতিমালার কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করছে এবং অনেক ক্ষেত্রে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।

সংগঠনের নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই নীতিমালা সংশোধন না হলে পাম্প খোলা থাকলেও তারা ডিপো থেকে তেল উত্তোলন করবেন না। এতে সারাদেশে তেল বিপণন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

উল্লেখ্য, গত সন্ধ্যায় সিলেট নগরের উত্তরা পেট্রোলিয়াম নামের একটি ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা এক ব্যক্তি পাম্পের এক কর্মীর ওপর হামলা চালান এবং ছুরিকাঘাত করেন। এতে ওই কর্মী মারাত্মক আহত হন। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলেও এখনো হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাড়ছে অপরাধের প্রবণতা: জনমনে বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা

সিলেটে পাম্প ধর্মঘট প্রত্যাহার, বিপিসি’র নতুন নীতিমালায় তেল উত্তোলন বন্ধের হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় : ০৮:৫৮:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬

সিলেট নগরীতে পেট্রোল পাম্প কর্মচারীর ওপর হামলা ও ছুরিকাঘাতের প্রতিবাদে ডাকা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন পাম্প মালিকরা। তবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) বিতর্কিত নতুন বিপণন নীতিমালা সংশোধন না হলে ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার দুপুরে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর, এজেন্ট ও পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের বিভাগীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা জানান, হামলাকারীদের দ্রুত বিচার এবং পাম্পের শ্রমিক ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রশাসনের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে এই কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তবে ধর্মঘট প্রত্যাহার হলেও নতুন এক সংকটের মুখে পড়েছেন পাম্প মালিকরা। তাদের অভিযোগ, বিপিসি আকস্মিকভাবে একটি নতুন বিপণন নীতিমালা চালু করেছে, যা তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি করছে। নতুন এই নীতি অনুযায়ী, গত বছরের মার্চ থেকে জুন মাসে একটি পাম্প যে পরিমাণ তেল উত্তোলন করেছে, তার গড় পরিমাণের ২৫ শতাংশ কম সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এতে ডিপোতে পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও পাম্পগুলোতে স্বাভাবিকভাবে তেল সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি পাম্প মালিকদের। তারা বলছেন, সিলেটেই গ্যাস ফিল্ডের কনডেনসেট থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অকটেন ও পেট্রোল উৎপাদিত হয় এবং দেশে অকটেন-পেট্রোলের কোনো ঘাটতি নেই। কিন্তু এই নীতিমালার কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করছে এবং অনেক ক্ষেত্রে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে।

সংগঠনের নেতারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই নীতিমালা সংশোধন না হলে পাম্প খোলা থাকলেও তারা ডিপো থেকে তেল উত্তোলন করবেন না। এতে সারাদেশে তেল বিপণন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

উল্লেখ্য, গত সন্ধ্যায় সিলেট নগরের উত্তরা পেট্রোলিয়াম নামের একটি ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা এক ব্যক্তি পাম্পের এক কর্মীর ওপর হামলা চালান এবং ছুরিকাঘাত করেন। এতে ওই কর্মী মারাত্মক আহত হন। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলেও এখনো হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।