চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরপরই বেইজিং মার্কিন পণ্যের ওপর থেকে অতিরিক্ত শুল্ক স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। তবে, বর্তমানে মার্কিন সয়াবিন আমদানির ক্ষেত্রে ১৩ শতাংশ শুল্ক এখনও কার্যকর রয়েছে।
বুধবার (৫ নভেম্বর) চীনের স্ট্রেট কাউন্সিলের ট্যারিফ কমিশনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, ট্যারিফ কমিশন কিছু নির্দিষ্ট কৃষি পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল রেখেও, মার্কিন পণ্যের ওপর আরোপিত ২৪ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক এক বছরের জন্য স্থগিত করবে।
বছরের পর বছর ধরে চলা শুল্ক নিয়ে বিরোধের পর দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ককে স্থিতিশীল করা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সহায়তা করার উদ্দেশ্যেই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বেইজিং আরও ঘোষণা করেছে যে তারা আগামী ১০ নভেম্বর থেকে মার্কিন কৃষি পণ্যের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ পর্যন্ত নির্দিষ্ট শুল্কও প্রত্যাহার করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপের ফলে চীন সয়াবিন, ভুট্টা এবং মাংসের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৃষি পণ্যের আমদানি বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে করে খাদ্যের ক্রমবর্ধমান দামের মধ্যে একদিকে যেমন মার্কিন কৃষকরা লাভবান হবেন, তেমনি অন্যদিকে চীনা ভোক্তারাও উপকৃত হবেন।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে উভয় নেতা বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন।
যদিও এই বৈঠকে কোনো বড় ধরনের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি, তবুও এই সংলাপটি বিশ্বের দুটি বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমানোর একটি নতুন প্রচেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বৈঠক শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল যে, চীন ২০২৫ সালের শেষ দুই মাসে কমপক্ষে ১ কোটি ২০ লাখ মেট্রিক টন মার্কিন সয়াবিন কিনবে এবং এর পরের তিন বছর ধরে প্রতি মাসে কমপক্ষে ২৫ লাখ টন করে সয়াবিন আমদানি করবে। তবে বেইজিং-এর পক্ষ থেকে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
রিপোর্টারের নাম 






















