অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনেক উপদেষ্টা নিজেদের আখের গুছিয়ে ‘সেইফ এক্সিটের’ (নিরাপদ প্রস্থান) কথা ভাবছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, উপদেষ্টাদের অনেককে বিশ্বাস করাটা ছিল “বড় ভুল” এবং তাদের প্রতি আস্থা রেখে প্রতারিত হতে হয়েছে।
সম্প্রতি একাত্তর টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক এই তথ্য উপদেষ্টা এসব কথা বলেন, যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
“আমরা প্রতারিত হয়েছি”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ছিলেন নাহিদ ইসলাম। অভ্যুত্থানের পর তিনি ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে তথ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব নিয়েছিলেন, তবে গত ফেব্রুয়ারিতে পদত্যাগ করে এনসিপির আহ্বায়কের দায়িত্ব নেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তারা কেউ সরকারের উপদেষ্টা পদে যেতে চাননি, বরং জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি যুক্তি দেন, রাজনৈতিক শক্তি বা অভ্যুত্থানের শক্তি সরকারে না থাকলে অন্তর্বর্তী সরকার তিন মাসও টিকত না।
সাবেক এই ছাত্রনেতা আক্ষেপ করে বলেন, “রাজনৈতিক দলের নেতাদের এবং যাঁরা উপদেষ্টা হয়েছেন, তাঁদের অনেককে বিশ্বাস করাটা আমাদের অবশ্যই ভুল হয়েছিল... নাগরিক সমাজ বা রাজনৈতিক দলকে আমরা যে বিশ্বাসটা করেছিলাম, যে আস্থা রেখেছিলাম, সেই জায়গায় আসলে আমরা প্রতারিত হয়েছি।”
সেইফ এক্সিট এবং ‘বিট্রে’র অভিযোগ
নাহিদ ইসলাম বেশ কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন:
- “অনেক উপদেষ্টা নিজেদের আখের গুছিয়েছে অথবা গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে বিট্রে (প্রতারণা) করেছে। যখন সময় আসবে, তখন আমরা এদের নামও উন্মুক্ত করব।”
- “উপদেষ্টাদের অনেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লিয়াজোঁ করে ফেলেছে। তারা নিজেদের সেফ এক্সিটের কথা ভাবতেছে।”
তিনি মনে করেন, যদি উপদেষ্টারা তাদের নিয়োগকর্তা হিসেবে গণঅভ্যুত্থানের শক্তি, রাজপথে জীবন দেওয়া সাধারণ মানুষজনকে বিশ্বাস করতেন, তবে এই বিচ্যুতি হতো না। তিনি আরও মন্তব্য করেন, ৫ আগস্ট ক্যান্টনমেন্টে সেজদা দিয়েছেন রাজনৈতিক নেতারা, ছাত্ররা নয়। সুধীসমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে সরকার গঠন না করে জাতীয় সরকার গঠন করলে এই আক্ষেপ তৈরি হতো না বলেও মনে করেন তিনি।
উল্লেখ্য, নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করলেও ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এখনো উপদেষ্টার পদে বহাল আছেন।
রিপোর্টারের নাম 
























