ঢাকা ১২:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জাটকা রক্ষায় পদ্মা-মেঘনায় দুই মাস মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

মাছের প্রজনন মৌসুমকে কেন্দ্র করে এবং জাটকা (ইলিশের পোনা) রক্ষায় দেশব্যাপী অভয়াশ্রমগুলোতে আজ শনিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে দুই মাসের মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা। এই সময়ে চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীসহ দেশের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ নদীতে সব ধরনের মাছ শিকার সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। সরকারি এই নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, মার্চ ও এপ্রিল মাস জুড়ে এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। ২০০৬ সাল থেকে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জাটকার নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই দুই মাস মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে আসছে সরকার। এর ফলে জাটকাগুলো বড় হয়ে প্রজননক্ষম ইলিশে পরিণত হওয়ার সুযোগ পাবে, যা আগামীতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে জেলেদের জীবন-জীবিকার কথা মাথায় রেখে সরকার বিশেষ সহায়তা প্রদান করবে। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নয় হাজার একশ’ জেলে প্রত্যেককে চার কিস্তিতে মোট ১৬০ কেজি করে খাদ্য সহায়তা (চাল) দেওয়া হবে। তবে, এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ ধরতে নামলে জেলেরা এক থেকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে আমিরাবাদ বাজার পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার এবং হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার এলাকা এই নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত থাকবে। এই বিশাল নৌ-সীমানায় জাল ফেলা, মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত এবং পরিবহন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ দুই মাস মৎস্য বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন, নৌ-পুলিশ, কোস্ট গার্ড এবং নৌবাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবে। অসাধু জেলেরা যাতে কোনোভাবেই নদীতে নামতে না পারেন, সে জন্য কঠোর নজরদারি রাখা হবে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান বলেন, ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে শুধু প্রশাসনিক তৎপরতা যথেষ্ট নয়, বরং জেলেদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলেও জেলেদের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা না করলে দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল টেকসই হবে না।

মতলব উত্তর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস জানিয়েছেন, মা ও জাটকা ইলিশ রক্ষায় এ সময়ে কঠোর অভিযান চালানো হবে। তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত ভিজিএফের চাল বিতরণ কার্যক্রমও শুরু হবে।

মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী বলেন, মতলব উত্তরের ৩০ কিলোমিটার নৌ-সীমানার মধ্যে জেলেদের সঙ্গে সচেতনতামূলক সভা করা হয়েছে। এরপরও যদি কেউ আইন অমান্য করে জাটকা নিধন করেন, তবে মৎস্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতলব উত্তর উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি জোর দিয়ে বলেছেন, অভিযানের সময় নদীতে নামলেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাতীয় সম্পদ রক্ষায় জনপ্রতিনিধিসহ সকল স্তরের মানুষের সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সৈয়দ মুজতবা আলী: প্রজ্ঞার প্রমাদ ও সমাজের দায়

জাটকা রক্ষায় পদ্মা-মেঘনায় দুই মাস মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি

আপডেট সময় : ১০:৪৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মাছের প্রজনন মৌসুমকে কেন্দ্র করে এবং জাটকা (ইলিশের পোনা) রক্ষায় দেশব্যাপী অভয়াশ্রমগুলোতে আজ শনিবার মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে দুই মাসের মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞা। এই সময়ে চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীসহ দেশের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ নদীতে সব ধরনের মাছ শিকার সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। সরকারি এই নির্দেশনা অমান্য করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, মার্চ ও এপ্রিল মাস জুড়ে এই নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে। ২০০৬ সাল থেকে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জাটকার নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই দুই মাস মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে আসছে সরকার। এর ফলে জাটকাগুলো বড় হয়ে প্রজননক্ষম ইলিশে পরিণত হওয়ার সুযোগ পাবে, যা আগামীতে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে জেলেদের জীবন-জীবিকার কথা মাথায় রেখে সরকার বিশেষ সহায়তা প্রদান করবে। চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নয় হাজার একশ’ জেলে প্রত্যেককে চার কিস্তিতে মোট ১৬০ কেজি করে খাদ্য সহায়তা (চাল) দেওয়া হবে। তবে, এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে মাছ ধরতে নামলে জেলেরা এক থেকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে আমিরাবাদ বাজার পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার এবং হাইমচরের চরভৈরবী পর্যন্ত ৭০ কিলোমিটার এলাকা এই নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত থাকবে। এই বিশাল নৌ-সীমানায় জাল ফেলা, মাছ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, মজুত এবং পরিবহন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ দুই মাস মৎস্য বিভাগ, উপজেলা প্রশাসন, নৌ-পুলিশ, কোস্ট গার্ড এবং নৌবাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবে। অসাধু জেলেরা যাতে কোনোভাবেই নদীতে নামতে না পারেন, সে জন্য কঠোর নজরদারি রাখা হবে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান বলেন, ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে শুধু প্রশাসনিক তৎপরতা যথেষ্ট নয়, বরং জেলেদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলেও জেলেদের বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা না করলে দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল টেকসই হবে না।

মতলব উত্তর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস জানিয়েছেন, মা ও জাটকা ইলিশ রক্ষায় এ সময়ে কঠোর অভিযান চালানো হবে। তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত ভিজিএফের চাল বিতরণ কার্যক্রমও শুরু হবে।

মোহনপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী বলেন, মতলব উত্তরের ৩০ কিলোমিটার নৌ-সীমানার মধ্যে জেলেদের সঙ্গে সচেতনতামূলক সভা করা হয়েছে। এরপরও যদি কেউ আইন অমান্য করে জাটকা নিধন করেন, তবে মৎস্য আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতলব উত্তর উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি জোর দিয়ে বলেছেন, অভিযানের সময় নদীতে নামলেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জাতীয় সম্পদ রক্ষায় জনপ্রতিনিধিসহ সকল স্তরের মানুষের সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।