ঢাকা ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশে ফিরে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবেন তারেক রহমান: মনোনয়নে থাকছে ৫ কঠোর মাপকাঠি

জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলো ততই প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করছে। দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি-ও ৩০০ আসনের জন্য তাদের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত করে রেখেছে। দলীয় সূত্রমতে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই তালিকা যাচাই-বাছাই করবেন এবং দেশে ফেরার পরই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবেন।

প্রার্থী বাছাইয়ে ৫টি মূল যোগ্যতা
দীর্ঘ ১৫ বছর পর জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকায়, এবারের নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইকে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। এই দায়িত্বের কথা মাথায় রেখেই বিএনপি দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে পাঁচটি প্রধান মাপকাঠি নির্ধারণ করেছে।

মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে তারেক রহমান যে পাঁচটি যোগ্যতা যাচাই করবেন, সেগুলো হলো:

১. এলাকায় ‘ক্লিন ইমেজ’: প্রার্থীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখল বা অন্য কোনো গুরুতর অভিযোগ থাকা চলবে না। যাদের ক্লিন ইমেজ রয়েছে, তারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবেন।
২. এলাকায় জনপ্রিয়তা: প্রার্থীর জনপ্রিয়তা বিবেচনা করা হবে। তবে তারেক রহমানের উদ্যোগে সারা দেশের নির্বাচনী আসনে চালানো একাধিক জরিপ এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জনপ্রিয়তা একমাত্র মাপকাঠি হবে না।
৩. দল ও দেশের জন্য ত্যাগ: গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে বিগত ১৭ বছর যারা অত্যাচার, নির্যাতন সহ্য করেছেন; যাদের পরিবারের সদস্যরা জীবন দিয়েছেন বা গুম হয়েছেন কিংবা বছরের পর বছর কারাভোগ করেছেন, তাদের মনোনয়ন বিষয়টি যোগ্যতার অন্যান্য শর্ত পূরণের সাপেক্ষে বিবেচনা করা হবে।
৪. সংগঠনের জন্য অবদান: গত ১৭ বছর যারা সংগঠনকে আগলে রেখেছেন, দলীয় কর্মীদের পাশে থেকেছেন এবং সাংগঠনিক কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন, তাদের অবদান মূল্যায়ন করা হবে।
৫. দলীয় কোন্দল থেকে মুক্ত: যেসব মনোনয়নপ্রত্যাশী দলে কোন্দলে জড়াননি বা এলাকায় গ্রুপিং করেননি, তাদের মনোনয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

জোটের আসন বণ্টন প্রক্রিয়া
বিএনপি নেতারা নিশ্চিত করেছেন, দলটি মিত্রদের নিয়ে নির্বাচনী জোট গঠন করবে। এরই মধ্যে শরিক দলগুলোর কাছে তাদের প্রত্যাশিত আসনের তালিকা চাওয়া হয়েছে এবং কয়েকটি দল তা হাইকমান্ডের কাছে হস্তান্তরও করেছে। তারেক রহমান নিজে এই তালিকা যাচাই-বাছাই করে মিত্রদের জন্য বরাদ্দ আসন চূড়ান্ত করবেন। এরপরই বিএনপির প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, যদিও তারেক রহমান দেশে ফিরেই চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন, তবে চূড়ান্তভাবে মনোনয়নপ্রাপ্তদের অনানুষ্ঠানিক সবুজসংকেত খুব শিগগিরই দেওয়া হতে পারে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সহ আজকের মাঠে গড়াবে জমজমাট সব লড়াই

দেশে ফিরে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবেন তারেক রহমান: মনোনয়নে থাকছে ৫ কঠোর মাপকাঠি

আপডেট সময় : ১১:০৬:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫

জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলো ততই প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করছে। দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি-ও ৩০০ আসনের জন্য তাদের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত করে রেখেছে। দলীয় সূত্রমতে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই তালিকা যাচাই-বাছাই করবেন এবং দেশে ফেরার পরই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করবেন।

প্রার্থী বাছাইয়ে ৫টি মূল যোগ্যতা
দীর্ঘ ১৫ বছর পর জনগণ স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকায়, এবারের নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইকে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। এই দায়িত্বের কথা মাথায় রেখেই বিএনপি দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে পাঁচটি প্রধান মাপকাঠি নির্ধারণ করেছে।

মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে তারেক রহমান যে পাঁচটি যোগ্যতা যাচাই করবেন, সেগুলো হলো:

১. এলাকায় ‘ক্লিন ইমেজ’: প্রার্থীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখল বা অন্য কোনো গুরুতর অভিযোগ থাকা চলবে না। যাদের ক্লিন ইমেজ রয়েছে, তারা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবেন।
২. এলাকায় জনপ্রিয়তা: প্রার্থীর জনপ্রিয়তা বিবেচনা করা হবে। তবে তারেক রহমানের উদ্যোগে সারা দেশের নির্বাচনী আসনে চালানো একাধিক জরিপ এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জনপ্রিয়তা একমাত্র মাপকাঠি হবে না।
৩. দল ও দেশের জন্য ত্যাগ: গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে বিগত ১৭ বছর যারা অত্যাচার, নির্যাতন সহ্য করেছেন; যাদের পরিবারের সদস্যরা জীবন দিয়েছেন বা গুম হয়েছেন কিংবা বছরের পর বছর কারাভোগ করেছেন, তাদের মনোনয়ন বিষয়টি যোগ্যতার অন্যান্য শর্ত পূরণের সাপেক্ষে বিবেচনা করা হবে।
৪. সংগঠনের জন্য অবদান: গত ১৭ বছর যারা সংগঠনকে আগলে রেখেছেন, দলীয় কর্মীদের পাশে থেকেছেন এবং সাংগঠনিক কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন, তাদের অবদান মূল্যায়ন করা হবে।
৫. দলীয় কোন্দল থেকে মুক্ত: যেসব মনোনয়নপ্রত্যাশী দলে কোন্দলে জড়াননি বা এলাকায় গ্রুপিং করেননি, তাদের মনোনয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

জোটের আসন বণ্টন প্রক্রিয়া
বিএনপি নেতারা নিশ্চিত করেছেন, দলটি মিত্রদের নিয়ে নির্বাচনী জোট গঠন করবে। এরই মধ্যে শরিক দলগুলোর কাছে তাদের প্রত্যাশিত আসনের তালিকা চাওয়া হয়েছে এবং কয়েকটি দল তা হাইকমান্ডের কাছে হস্তান্তরও করেছে। তারেক রহমান নিজে এই তালিকা যাচাই-বাছাই করে মিত্রদের জন্য বরাদ্দ আসন চূড়ান্ত করবেন। এরপরই বিএনপির প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, যদিও তারেক রহমান দেশে ফিরেই চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন, তবে চূড়ান্তভাবে মনোনয়নপ্রাপ্তদের অনানুষ্ঠানিক সবুজসংকেত খুব শিগগিরই দেওয়া হতে পারে।