ঢাকা ০১:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এখন প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা দিতে পারবে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২৭:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর আগে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে শুধু সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) সেই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন। এর ফলে, এখন শুধু সরকারি নয়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও আগামী ২১ থেকে ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।

আদালত একইসাথে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন ২০০৮ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালার আলোকেই পরীক্ষার আয়োজন করা হয় এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তি পরীক্ষা আগামী ২১ থেকে ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এই সংক্রান্ত একটি রিটের রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে সোমবার (৩ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় দেন। আদালতে এদিন রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী নিয়াজ মোর্শেদ। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষে আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির শুনানিতে ছিলেন।

আইনজীবীরা জানান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর গত ১৭ জুলাই এক স্মারকে জানিয়েছিল যে শুধু সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চলতি বছর কেরানীগঞ্জ পাবলিক ল্যাবরেটরি স্কুলের পরিচালক মো. ফারুক হোসেন এবং শিক্ষক ও অভিভাবক প্রতিনিধিসহ মোট ৪২ জন এই রিটটি দায়ের করেন।

রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেন এবং ওই স্মারকের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়েছিল, শুধু সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দিয়ে জারি করা ১৭ জুলাইয়ের ওই স্মারকটি কেন আইনগত কর্তৃত্ব–বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না। একইসাথে, ২০০৮ সালের নীতিমালার আলোকে বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়। চূড়ান্ত শুনানি শেষে রুলটি যথাযথ (অ্যাবসলিউট) ঘোষণা করে এই রায় দেওয়া হলো।

আইনজীবী নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, হাইকোর্ট প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গত ১৭ জুলাইয়ের সেই স্মারকটিকে অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেছেন। ২০০৮ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা অনুসারে, এখন সব বেসরকারি (যেমন: বেসরকারি নিম্নমাধ্যমিক, রেজিস্ট্রার্ড কিন্ডারগার্টেন, কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রেজিস্টার্ড/অস্থায়ী রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত বা স্থাপনার অনুমতিপ্রাপ্ত) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।

এই রায় বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে ১৫ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে, ২১ থেকে ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় শুধু সরকারি নয়, এসব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও অংশ নিতে পারবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ জানান, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ১৯৮১ সালে চালু হয়েছিল। তিনি বলেন, ২০০৫ সালে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পায়, যা ২০০৮ সাল পর্যন্ত চালু ছিল। এরপর ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নতুন নীতিমালার আলোকে পিএসসি পরীক্ষা (প্রাথমিক সমাপনী) হতো এবং সেখানে যারা ভালো করত, তাদের বৃত্তি দেওয়া হতো। তবে করোনার সময় ২০২০ ও ২০২১ সালে এই পরীক্ষা বন্ধ ছিল।

২০২২ সালে আবার বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হলেও তা ছিল প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার (সংশোধিত–২০১৬) নীতিমালার আলোকে। বিভিন্ন কারণে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে এটি আবারও বন্ধ ছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০২৫ সালে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে। কিন্তু এখন হাইকোর্ট বেসরকারি শিক্ষার্থীদেরও অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে রায় দিয়েছেন এবং তাদের পরীক্ষার জন্য ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। (আইনজীবী জানান) এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এখন প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা দিতে পারবে

আপডেট সময় : ০৪:২৭:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর আগে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে শুধু সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) সেই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন। এর ফলে, এখন শুধু সরকারি নয়, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও আগামী ২১ থেকে ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।

আদালত একইসাথে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন ২০০৮ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালার আলোকেই পরীক্ষার আয়োজন করা হয় এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরও অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বৃত্তি পরীক্ষা আগামী ২১ থেকে ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এই সংক্রান্ত একটি রিটের রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে সোমবার (৩ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় দেন। আদালতে এদিন রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী নিয়াজ মোর্শেদ। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষে আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির শুনানিতে ছিলেন।

আইনজীবীরা জানান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর গত ১৭ জুলাই এক স্মারকে জানিয়েছিল যে শুধু সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে। এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে চলতি বছর কেরানীগঞ্জ পাবলিক ল্যাবরেটরি স্কুলের পরিচালক মো. ফারুক হোসেন এবং শিক্ষক ও অভিভাবক প্রতিনিধিসহ মোট ৪২ জন এই রিটটি দায়ের করেন।

রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট একটি রুল জারি করেন এবং ওই স্মারকের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়েছিল, শুধু সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দিয়ে জারি করা ১৭ জুলাইয়ের ওই স্মারকটি কেন আইনগত কর্তৃত্ব–বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না। একইসাথে, ২০০৮ সালের নীতিমালার আলোকে বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়। চূড়ান্ত শুনানি শেষে রুলটি যথাযথ (অ্যাবসলিউট) ঘোষণা করে এই রায় দেওয়া হলো।

আইনজীবী নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, হাইকোর্ট প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গত ১৭ জুলাইয়ের সেই স্মারকটিকে অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেছেন। ২০০৮ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নীতিমালা অনুসারে, এখন সব বেসরকারি (যেমন: বেসরকারি নিম্নমাধ্যমিক, রেজিস্ট্রার্ড কিন্ডারগার্টেন, কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রেজিস্টার্ড/অস্থায়ী রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত বা স্থাপনার অনুমতিপ্রাপ্ত) প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে।

এই রায় বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে ১৫ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে, ২১ থেকে ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় শুধু সরকারি নয়, এসব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও অংশ নিতে পারবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ জানান, প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ১৯৮১ সালে চালু হয়েছিল। তিনি বলেন, ২০০৫ সালে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পায়, যা ২০০৮ সাল পর্যন্ত চালু ছিল। এরপর ২০০৯ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নতুন নীতিমালার আলোকে পিএসসি পরীক্ষা (প্রাথমিক সমাপনী) হতো এবং সেখানে যারা ভালো করত, তাদের বৃত্তি দেওয়া হতো। তবে করোনার সময় ২০২০ ও ২০২১ সালে এই পরীক্ষা বন্ধ ছিল।

২০২২ সালে আবার বৃত্তি পরীক্ষা শুরু হলেও তা ছিল প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার (সংশোধিত–২০১৬) নীতিমালার আলোকে। বিভিন্ন কারণে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে এটি আবারও বন্ধ ছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় ২০২৫ সালে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে। কিন্তু এখন হাইকোর্ট বেসরকারি শিক্ষার্থীদেরও অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে রায় দিয়েছেন এবং তাদের পরীক্ষার জন্য ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। (আইনজীবী জানান) এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে।