ঢাকা ০৪:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের পক্ষে সব দলের ঐকমত্য: ঐকমত্য কমিশন

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সম্মতি নিশ্চিত করতে গণভোট অনুষ্ঠানের পক্ষে বিএনপি, জামায়াতসহ দেশের সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ আজ এই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন।

রোববার (০৫ অক্টোবর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের চতুর্থ দিনের আলোচনা শেষে তিনি সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে এক ধরনের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এটি একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। তিনি বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়নের জন্য জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, তাদের সম্মতির জন্য একটি গণভোট অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে। এটি প্রথম ধাপ হিসেবে আমরা মনে করছি।”

সাংবিধানিক সংস্কার টেকসই করার বিষয়ে ঐকমত্য
ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি জানান, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে যে আইন সভা গঠিত হবে, সেই সভাকে এমন বৈশিষ্ট্য দেওয়া দরকার যাতে এটি জুলাই সনদের ভিত্তিতে হওয়া মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কারগুলো টেকসই করতে পারে।

তিনি বলেন, এই বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কার্যত ঐকমত্য হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে, আগামী বৈঠকগুলোতে বিস্তারিত বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে।

সুপ্রিম কোর্টের মতামত নেওয়ার বিষয়ে মত পরিবর্তন
আলী রীয়াজ আরও জানান, ইতিপূর্বে কিছু দল বিদ্যমান সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের মতামত নেওয়ার কথা বললেও, এখন অধিকাংশ দলই মনে করছে যে এর প্রয়োজন নাও হতে পারে।

তিনি দলগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা দলগত অবস্থান থেকে অনেকটা সরে এসে জাতীয় ঐকমত্য তৈরি এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সচেষ্ট হয়েছেন।

কমিশনের সময়সীমা
ঐকমত্য কমিশন প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছে যে, ১৫ অক্টোবরের পর কমিশনের আর প্রয়োজন আছে বলে তারা মনে করছেন না। আলী রীয়াজ আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে একটি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তৈরি করে কমিশন সরকারের কাছে জমা দিতে পারবে।

গতকাল রবিবার আলোচনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, গণসংহতি আন্দোলন, সিপিবি, গণঅধিকার পরিষদসহ মোট ২৮টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন পরবর্তী বৈঠকের জন্য ৮ অক্টোবর বিকেল ২টায় সময় নির্ধারণ করেছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় মেধার স্বাক্ষর, বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছে তাওসিফ সামি

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের পক্ষে সব দলের ঐকমত্য: ঐকমত্য কমিশন

আপডেট সময় : ০৮:১৬:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সম্মতি নিশ্চিত করতে গণভোট অনুষ্ঠানের পক্ষে বিএনপি, জামায়াতসহ দেশের সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ আজ এই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন।

রোববার (০৫ অক্টোবর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের চতুর্থ দিনের আলোচনা শেষে তিনি সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে এক ধরনের ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এটি একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। তিনি বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়নের জন্য জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, তাদের সম্মতির জন্য একটি গণভোট অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে। এটি প্রথম ধাপ হিসেবে আমরা মনে করছি।”

সাংবিধানিক সংস্কার টেকসই করার বিষয়ে ঐকমত্য
ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি জানান, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে যে আইন সভা গঠিত হবে, সেই সভাকে এমন বৈশিষ্ট্য দেওয়া দরকার যাতে এটি জুলাই সনদের ভিত্তিতে হওয়া মৌলিক সাংবিধানিক সংস্কারগুলো টেকসই করতে পারে।

তিনি বলেন, এই বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কার্যত ঐকমত্য হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে, আগামী বৈঠকগুলোতে বিস্তারিত বিষয়গুলো চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে।

সুপ্রিম কোর্টের মতামত নেওয়ার বিষয়ে মত পরিবর্তন
আলী রীয়াজ আরও জানান, ইতিপূর্বে কিছু দল বিদ্যমান সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের মতামত নেওয়ার কথা বললেও, এখন অধিকাংশ দলই মনে করছে যে এর প্রয়োজন নাও হতে পারে।

তিনি দলগুলোকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা দলগত অবস্থান থেকে অনেকটা সরে এসে জাতীয় ঐকমত্য তৈরি এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সচেষ্ট হয়েছেন।

কমিশনের সময়সীমা
ঐকমত্য কমিশন প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছে যে, ১৫ অক্টোবরের পর কমিশনের আর প্রয়োজন আছে বলে তারা মনে করছেন না। আলী রীয়াজ আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে একটি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তৈরি করে কমিশন সরকারের কাছে জমা দিতে পারবে।

গতকাল রবিবার আলোচনায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, গণসংহতি আন্দোলন, সিপিবি, গণঅধিকার পরিষদসহ মোট ২৮টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন পরবর্তী বৈঠকের জন্য ৮ অক্টোবর বিকেল ২টায় সময় নির্ধারণ করেছে।