ঢাকা ০৯:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জোটের মিত্রদের জন্য শতাধিক আসন ছাড়তে পারে বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এখন জোরেশোরে প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটি এবার এককভাবে নয়, বরং যুগপৎ আন্দোলনে থাকা মিত্রদের নিয়েই নির্বাচনে অংশ নিতে চায়। দলের নেতারা নিশ্চিত করেছেন যে, এজন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন মিত্রদের জন্য ছাড় দেওয়া হবে।

দলের শীর্ষ নীতিনির্ধারক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির বিভিন্ন মিত্র রাজনৈতিক দল ও জোটগুলো সব মিলিয়ে দলটির কাছে মোট শতাধিক আসন দাবি করেছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি দল সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা জমা দিলেও, বাকিরা দ্রুতই তালিকা জমা দেবে বলে জানা যাচ্ছে।

মিত্রদের আসন দাবি এবং প্রত্যাশিত প্রার্থীরা
বিভিন্ন দল ও জোট বিএনপির কাছে যেসব আসন দাবি করেছে, তার একটি চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:

গণতন্ত্র মঞ্চ: এই জোটটি সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ অর্ধশতাধিক আসন চেয়েছে। তারা শনিবার অভ্যন্তরীণ বৈঠক করে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা তৈরির জন্য একটি ছয় সদস্যের কমিটিও গঠন করেছে।

১২ দলীয় জোট: তাদের দাবি অন্তত ২০টি আসন।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি): তারা বিএনপির কাছে ১৫টির মতো আসন চাইবে।

গণফোরাম: দলটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী তার দলের জন্য ঢাকা-৬ সহ ১৫টি আসন দাবি করবেন।

জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট: এই জোটের দাবি ৯টি আসন।

এই সমমনা জোটের কিছু প্রার্থীর নাম ও প্রত্যাশিত আসন জানা গেছে। এর মধ্যে জোটের সমন্বয়ক ও এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ নড়াইল-২ থেকে এবং এনপিপির মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে মনোনয়ন চেয়েছেন। এছাড়া, জাগপার খন্দকার লুৎফর (বগুড়া-১), গণদলের এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১) এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগের ব্যারিস্টার নাসিম খান (ঢাকা-১৭) আসন দাবি করেছেন।

যদিও বেশ কয়েকটি মিত্র দল কৌশলগত কারণে তাদের দাবি ও তালিকা প্রকাশ্যে আনতে চাইছে না এবং তালিকা প্রস্তুতের জন্য কিছু সময় নিতে চায়।

মিত্রদের জন্য কত আসন বরাদ্দ করা হবে—এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি, আলাপ-আলোচনা চলছে।”

তবে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য একক প্রার্থীদের অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘সবুজ সংকেত’ দেওয়া হবে। এই প্রার্থীরা মাঠে প্রচার-প্রচারণা চালাবেন এবং অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তাদের সহায়তা করবেন। সব ঠিক থাকলে তফসিল ঘোষণার পর দলের পার্লামেন্টারি বোর্ডের মাধ্যমে প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আরাকান আর্মির প্রধানের অভিনন্দন, নতুন বন্ধুত্বের বার্তা

জোটের মিত্রদের জন্য শতাধিক আসন ছাড়তে পারে বিএনপি

আপডেট সময় : ০৪:৫৫:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এখন জোরেশোরে প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলটি এবার এককভাবে নয়, বরং যুগপৎ আন্দোলনে থাকা মিত্রদের নিয়েই নির্বাচনে অংশ নিতে চায়। দলের নেতারা নিশ্চিত করেছেন যে, এজন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন মিত্রদের জন্য ছাড় দেওয়া হবে।

দলের শীর্ষ নীতিনির্ধারক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির বিভিন্ন মিত্র রাজনৈতিক দল ও জোটগুলো সব মিলিয়ে দলটির কাছে মোট শতাধিক আসন দাবি করেছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি দল সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা জমা দিলেও, বাকিরা দ্রুতই তালিকা জমা দেবে বলে জানা যাচ্ছে।

মিত্রদের আসন দাবি এবং প্রত্যাশিত প্রার্থীরা
বিভিন্ন দল ও জোট বিএনপির কাছে যেসব আসন দাবি করেছে, তার একটি চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:

গণতন্ত্র মঞ্চ: এই জোটটি সবচেয়ে বেশি, অর্থাৎ অর্ধশতাধিক আসন চেয়েছে। তারা শনিবার অভ্যন্তরীণ বৈঠক করে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা তৈরির জন্য একটি ছয় সদস্যের কমিটিও গঠন করেছে।

১২ দলীয় জোট: তাদের দাবি অন্তত ২০টি আসন।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি): তারা বিএনপির কাছে ১৫টির মতো আসন চাইবে।

গণফোরাম: দলটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী তার দলের জন্য ঢাকা-৬ সহ ১৫টি আসন দাবি করবেন।

জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট: এই জোটের দাবি ৯টি আসন।

এই সমমনা জোটের কিছু প্রার্থীর নাম ও প্রত্যাশিত আসন জানা গেছে। এর মধ্যে জোটের সমন্বয়ক ও এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ নড়াইল-২ থেকে এবং এনপিপির মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে মনোনয়ন চেয়েছেন। এছাড়া, জাগপার খন্দকার লুৎফর (বগুড়া-১), গণদলের এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১) এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগের ব্যারিস্টার নাসিম খান (ঢাকা-১৭) আসন দাবি করেছেন।

যদিও বেশ কয়েকটি মিত্র দল কৌশলগত কারণে তাদের দাবি ও তালিকা প্রকাশ্যে আনতে চাইছে না এবং তালিকা প্রস্তুতের জন্য কিছু সময় নিতে চায়।

মিত্রদের জন্য কত আসন বরাদ্দ করা হবে—এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, “বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি, আলাপ-আলোচনা চলছে।”

তবে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য একক প্রার্থীদের অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘সবুজ সংকেত’ দেওয়া হবে। এই প্রার্থীরা মাঠে প্রচার-প্রচারণা চালাবেন এবং অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তাদের সহায়তা করবেন। সব ঠিক থাকলে তফসিল ঘোষণার পর দলের পার্লামেন্টারি বোর্ডের মাধ্যমে প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।