ঢাকা ১১:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দুর্নীতি ও নেতৃত্ব সংকটে টালমাটাল নেপাল

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২৬:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি ও দলীয় স্বজনপ্রীতির কারণে নেপাল এক গভীর সংকটে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাজেন্দ্র বাজগাইন। তার মতে, ফেডারেল কাঠামো জনগণের কাছে জবাবদিহিতা পৌঁছে দেয়ার বদলে এখন দুর্নীতির কারখানায় পরিণত হয়েছে।

নেপালের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিমালয়ান টাইমস’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সরকার থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয় ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা সবখানেই দলীয়করণ, ঘুষ ও স্বজনপ্রীতির সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে।

রাজেন্দ্র বাজগাইন উদাহরণ টেনে বলেন, হাজার কোটি রুপির ব্যয়ে নির্মিত পোখরা ও লুম্বিনী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আজ অব্যবহারযোগ্য বোঝায় পরিণত হয়েছে। বিদ্যুৎ, শিল্প ও শ্রম মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন খাতে নীতিনির্ধারণী দুর্নীতির কারণে নেপাল উন্নয়নশীল দেশ থেকে ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, ‘শুধু সরাসরি নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া ফেডারেল ব্যবস্থা অরাজকতায় এবং সরাসরি নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী একনায়কতন্ত্রে পরিণত হতে পারে।’

বাজগাইন প্রস্তাব করেন, স্থানীয় সরকার কাঠামো অন্তত ৬০ শতাংশ কমানো, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে জন–নিজি অংশীদারিত্বে রূপান্তর, আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখা এবং দুর্নীতিবাজদের বিচারের আওতায় আনা জরুরি।

তার মতে, পোখরা ও লুম্বিনী বিমানবন্দরকে পর্যটন ও কৃষি খাতের সঙ্গে যুক্ত করে কাজে লাগানো যেতে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের ভারসাম্য রক্ষা করে কূটনীতি পরিচালনা করতে হবে, যাতে নেপাল কোনো পরাশক্তির উপনিবেশে পরিণত না হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘এখন আর প্রসাধনী রাজনীতি নয়, নেপালের দরকার সাহসী নেতৃত্ব।’ তরুণ প্রজন্ম, উদ্যোক্তা ও প্রবাসীদের সম্মিলিত উদ্যোগেই দেশ পুনর্জাগরণের পথে এগোতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাজগাইন মনে করেন, নেপাল এখন সেই অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে একসময় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া ছিল। তাই দেশকে দুর্নীতির দুষ্টচক্র থেকে মুক্ত করতে সাহসী সংস্কার ও সৎ নেতৃত্বের বিকল্প নেই।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের প্রতি শান্তি আলোচনার প্রস্তাব

দুর্নীতি ও নেতৃত্ব সংকটে টালমাটাল নেপাল

আপডেট সময় : ০৩:২৬:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫

রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি ও দলীয় স্বজনপ্রীতির কারণে নেপাল এক গভীর সংকটে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক রাজেন্দ্র বাজগাইন। তার মতে, ফেডারেল কাঠামো জনগণের কাছে জবাবদিহিতা পৌঁছে দেয়ার বদলে এখন দুর্নীতির কারখানায় পরিণত হয়েছে।

নেপালের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিমালয়ান টাইমস’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সরকার থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয় ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা সবখানেই দলীয়করণ, ঘুষ ও স্বজনপ্রীতির সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে।

রাজেন্দ্র বাজগাইন উদাহরণ টেনে বলেন, হাজার কোটি রুপির ব্যয়ে নির্মিত পোখরা ও লুম্বিনী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আজ অব্যবহারযোগ্য বোঝায় পরিণত হয়েছে। বিদ্যুৎ, শিল্প ও শ্রম মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন খাতে নীতিনির্ধারণী দুর্নীতির কারণে নেপাল উন্নয়নশীল দেশ থেকে ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, ‘শুধু সরাসরি নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া ফেডারেল ব্যবস্থা অরাজকতায় এবং সরাসরি নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী একনায়কতন্ত্রে পরিণত হতে পারে।’

বাজগাইন প্রস্তাব করেন, স্থানীয় সরকার কাঠামো অন্তত ৬০ শতাংশ কমানো, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে জন–নিজি অংশীদারিত্বে রূপান্তর, আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখা এবং দুর্নীতিবাজদের বিচারের আওতায় আনা জরুরি।

তার মতে, পোখরা ও লুম্বিনী বিমানবন্দরকে পর্যটন ও কৃষি খাতের সঙ্গে যুক্ত করে কাজে লাগানো যেতে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের ভারসাম্য রক্ষা করে কূটনীতি পরিচালনা করতে হবে, যাতে নেপাল কোনো পরাশক্তির উপনিবেশে পরিণত না হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘এখন আর প্রসাধনী রাজনীতি নয়, নেপালের দরকার সাহসী নেতৃত্ব।’ তরুণ প্রজন্ম, উদ্যোক্তা ও প্রবাসীদের সম্মিলিত উদ্যোগেই দেশ পুনর্জাগরণের পথে এগোতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাজগাইন মনে করেন, নেপাল এখন সেই অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে একসময় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া ছিল। তাই দেশকে দুর্নীতির দুষ্টচক্র থেকে মুক্ত করতে সাহসী সংস্কার ও সৎ নেতৃত্বের বিকল্প নেই।