যুক্তরাষ্ট্র, মিশর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সেখানকার ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত রাফা ক্রসিং এখনও বন্ধ রয়েছে। গাজা শহর থেকে প্রায় ৩০-৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণে মিশর সীমান্তে অবস্থিত এই চেকপোস্টটি মাত্র ৩০০ মিটারের একটি রাস্তা হলেও, এটি বহির্বিশ্বের সঙ্গে গাজার যোগাযোগ এবং সেখানে ত্রাণ পৌঁছানোর প্রধান আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার।
ইসরায়েল হামাসের ওপর ‘দায়িত্বে অবহেলার’ অভিযোগ এনে ফিলিস্তিনিদের জীবন বাঁচানোর এই পথটি বন্ধ করে রেখেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে যে, পরবর্তী নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত রাফা ক্রসিং বন্ধ থাকবে। দ্য ন্যাশনাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর কার্যালয় বলেছে যে, ক্রসিংটি পুনরায় খোলার বিষয়টি নির্ভর করবে হামাস তাদের দায়িত্ব কতটা পালন করছে তার ওপর। বন্দিদের ফিরিয়ে দেওয়া এবং মৃতদেহ হস্তান্তরসহ সম্মত ফ্রেমওয়ার্কের বাস্তবায়ন বিবেচনা করেই রাফা ক্রসিং খোলা হবে।
অন্যদিকে, শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাতে হামাস জানিয়েছে, রাফা ক্রসিং বন্ধ থাকায় মৃতদেহ উদ্ধার ও স্থানান্তরে উল্লেখযোগ্য বিলম্ব হবে। গাজার মধ্যে এখনও বন্দি ও মৃতদেহ ফেরতের বিষয়টি যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়নে অন্যতম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইসরায়েল রাফা ক্রসিং পুনরায় খোলার সঙ্গে সব মৃতদেহের পুনরুদ্ধারের বিষয়টিকে যুক্ত করেছে।
এর আগে নয় মাস পর গত ফেব্রুয়ারিতে সীমিত সময়ের জন্য রাফা ক্রসিং খুলে দেওয়া হয়েছিল। তখন ইসরায়েল প্রতিশ্রুত পরিমাণ ত্রাণ প্রবেশ করতে দেয়নি। এছাড়া তখন ছয় হাজারেরও বেশি রোগীকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও ইসরায়েল তা করতে দেয়নি। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা নির্বিচার হামলা ও গণহত্যার কারণে গাজায় মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ শুরু হয়। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় গাজায় অন্তত ৬৭ হাজার ৯৩৮ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭০ হাজার ১৬৯ জন আহত হয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 





















