মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১১:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬

কেশবপুরে খাল খননের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

যশোরের কেশবপুরে বাসবাড়িয়া খাল খননের নামে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই খালটি খনন করা হলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে একই খাল খননের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের সিংহভাগই আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশব্যাপী প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খাল খনন কর্মসূচির অধীনে কেশবপুর উপজেলার ধর্মপুর ব্রিজ থেকে ৩.৩৫০ কিলোমিটার বাসবাড়িয়া খালটি খননের জন্য ৫১ লাখ ৫৪ হাজার ১৮৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। চলতি বছরের ২৩ মে খননকাজ শুরু হয়ে ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ হয়। প্রকল্পের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মো. কামরুল ইসলাম।

প্রকল্প চেয়ারম্যান জানান, উপজেলা প্রশাসন ও পিআইও অফিসের কর্মকর্তারা খালটি ভেকু মেশিন দিয়ে খননের জন্য সাব-ঠিকাদার মোকলেছুর রহমান মুকুলকে দিয়ে কাজটি করানোর নির্দেশ দেন।

অন্যদিকে, ১১৪ জন শ্রমিক দিয়ে খালের পাড়ে কাজ করানো হয়েছে। তাদের দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন প্রকল্প চেয়ারম্যান। তিনি জানান, প্রতিদিন একজন শ্রমিকের মজুরি ৫০০ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও তাদের ৩০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাত্র ৮-১০ দিন ৫০-৬০ জন শ্রমিককে দিয়ে কাজ করানো হয়েছে বলে একাধিক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকদের জানান।

সাব-ঠিকাদার মোকলেছুর রহমান মুকুল বলেন, তিনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কর্মকর্তাদের অনুরোধে বাসবাড়িয়া খালটি ভেকু মেশিন দিয়ে খনন করেছেন। এতে তার কাজের বিল হয়েছে প্রায় ২১ লাখ টাকা। অথচ তাকে বিল দেওয়া হয়েছে মাত্র সাড়ে ১৪ লাখ টাকা। বাকি টাকা উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন বলে তিনি জানান।

প্রকল্প চেয়ারম্যান ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম বলেন, বাসবাড়িয়া খালটি গত দুই বছর আগে খনন করা হলেও এ বছর আবার ওই খাল খননের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নিজস্ব লোক হিসেবে মোকলেছুর রহমান মুকুল ওই খাল খনন করেছেন। চুক্তি অনুযায়ী পুরো খাল খননের জন্য মুকুলকে সাড়ে ১৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। তিনি শুধু শ্রমিক দিয়ে মাটির কাজ করেছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইসতিয়াক হোসেন বলেন, খাল খননের কাজ প্রকল্পের নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। তবে শ্রমিক মজুরি ও অনিয়মের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান পরিবর্তন না আনলে চাপ অব্যাহত থাকবে: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স

কেশবপুরে খাল খননের নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট সময় : ১০:২১:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

যশোরের কেশবপুরে বাসবাড়িয়া খাল খননের নামে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই খালটি খনন করা হলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে একই খাল খননের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের সিংহভাগই আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশব্যাপী প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খাল খনন কর্মসূচির অধীনে কেশবপুর উপজেলার ধর্মপুর ব্রিজ থেকে ৩.৩৫০ কিলোমিটার বাসবাড়িয়া খালটি খননের জন্য ৫১ লাখ ৫৪ হাজার ১৮৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। চলতি বছরের ২৩ মে খননকাজ শুরু হয়ে ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ হয়। প্রকল্পের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য মো. কামরুল ইসলাম।

প্রকল্প চেয়ারম্যান জানান, উপজেলা প্রশাসন ও পিআইও অফিসের কর্মকর্তারা খালটি ভেকু মেশিন দিয়ে খননের জন্য সাব-ঠিকাদার মোকলেছুর রহমান মুকুলকে দিয়ে কাজটি করানোর নির্দেশ দেন।

অন্যদিকে, ১১৪ জন শ্রমিক দিয়ে খালের পাড়ে কাজ করানো হয়েছে। তাদের দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন প্রকল্প চেয়ারম্যান। তিনি জানান, প্রতিদিন একজন শ্রমিকের মজুরি ৫০০ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও তাদের ৩০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাত্র ৮-১০ দিন ৫০-৬০ জন শ্রমিককে দিয়ে কাজ করানো হয়েছে বলে একাধিক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকদের জানান।

সাব-ঠিকাদার মোকলেছুর রহমান মুকুল বলেন, তিনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের কর্মকর্তাদের অনুরোধে বাসবাড়িয়া খালটি ভেকু মেশিন দিয়ে খনন করেছেন। এতে তার কাজের বিল হয়েছে প্রায় ২১ লাখ টাকা। অথচ তাকে বিল দেওয়া হয়েছে মাত্র সাড়ে ১৪ লাখ টাকা। বাকি টাকা উপজেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভাগবাটোয়ারা করে নিয়েছেন বলে তিনি জানান।

প্রকল্প চেয়ারম্যান ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম বলেন, বাসবাড়িয়া খালটি গত দুই বছর আগে খনন করা হলেও এ বছর আবার ওই খাল খননের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। উপজেলা প্রশাসন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নিজস্ব লোক হিসেবে মোকলেছুর রহমান মুকুল ওই খাল খনন করেছেন। চুক্তি অনুযায়ী পুরো খাল খননের জন্য মুকুলকে সাড়ে ১৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। তিনি শুধু শ্রমিক দিয়ে মাটির কাজ করেছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইসতিয়াক হোসেন বলেন, খাল খননের কাজ প্রকল্পের নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। তবে শ্রমিক মজুরি ও অনিয়মের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।