মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১০:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬

সংসদ সচিবালয়ে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগ: শীর্ষ পদে ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের’ পুনর্বাসন

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা বা গ্রেডেশন তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে তৈরি করা নতুন এই তালিকায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অনুগত বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে শীর্ষস্থানে বসিয়ে পুনর্বাসন করা হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বঞ্চিত কর্মকর্তারা। এর ফলে দীর্ঘদিনের যোগ্য ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা আবারও পদোন্নতি ও অবস্থানের দিক থেকে পিছিয়ে পড়েছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তৈরি করা পরিমার্জিত জ্যেষ্ঠতা তালিকাকে পুরোপুরি উপেক্ষা করে এই বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

পদোন্নতিবঞ্চিত একাধিক কর্মকর্তার দাবি, প্রশাসনিক নিয়ম লঙ্ঘন করে জ্যেষ্ঠদের পেছনে ফেলে জুনিয়রদের সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার নেপথ্যে অনৈতিক আর্থিক লেনদেন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে সংসদ সচিবালয়ের মানবসম্পদ বিভাগ এই তালিকাকে ‘অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া’ বলে দাবি করে বিষয়টি এড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি চাকরিতে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট মানদণ্ড বজায় রাখা অপরিহার্য।

সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের করা তালিকায় যিনি শীর্ষে ছিলেন, নতুন তালিকায় তার অবস্থান নিচে নেমে গেছে। বিপরীতে বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কর্মকর্তাদের তালিকায় ওপরের দিকে আনা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংসদ সচিবালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমান তালিকায় ১ নম্বরে উঠে আসা কর্মকর্তা সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তালিকায় অনেক পেছনে ছিলেন। এই ধরনের প্রশাসনিক বৈষম্য সংসদ সচিবালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লায় নারীকে হত্যার পর লাশ ১০ টুকরো করে ফেলে রাখা, স্ত্রীসহ পাঁচজন জড়িতের অভিযোগ

সংসদ সচিবালয়ে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগ: শীর্ষ পদে ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের’ পুনর্বাসন

আপডেট সময় : ০৯:০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা বা গ্রেডেশন তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে তৈরি করা নতুন এই তালিকায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের অনুগত বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে শীর্ষস্থানে বসিয়ে পুনর্বাসন করা হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বঞ্চিত কর্মকর্তারা। এর ফলে দীর্ঘদিনের যোগ্য ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা আবারও পদোন্নতি ও অবস্থানের দিক থেকে পিছিয়ে পড়েছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তৈরি করা পরিমার্জিত জ্যেষ্ঠতা তালিকাকে পুরোপুরি উপেক্ষা করে এই বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

পদোন্নতিবঞ্চিত একাধিক কর্মকর্তার দাবি, প্রশাসনিক নিয়ম লঙ্ঘন করে জ্যেষ্ঠদের পেছনে ফেলে জুনিয়রদের সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার নেপথ্যে অনৈতিক আর্থিক লেনদেন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে সংসদ সচিবালয়ের মানবসম্পদ বিভাগ এই তালিকাকে ‘অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া’ বলে দাবি করে বিষয়টি এড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি চাকরিতে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণে নির্দিষ্ট মানদণ্ড বজায় রাখা অপরিহার্য।

সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের করা তালিকায় যিনি শীর্ষে ছিলেন, নতুন তালিকায় তার অবস্থান নিচে নেমে গেছে। বিপরীতে বিগত সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কর্মকর্তাদের তালিকায় ওপরের দিকে আনা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংসদ সচিবালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমান তালিকায় ১ নম্বরে উঠে আসা কর্মকর্তা সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তালিকায় অনেক পেছনে ছিলেন। এই ধরনের প্রশাসনিক বৈষম্য সংসদ সচিবালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।