মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১২:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬

পিত্তথলিতে পাথর: কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের বিস্তারিত নির্দেশিকা

পিত্তথলিতে পাথর বা গলস্টোন পরিপাকতন্ত্রের একটি সাধারণ সমস্যা। অনেকের শরীরে পাথর থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তবে, পাথর যখন পিত্তনালিতে বাধা সৃষ্টি করে, তখন তীব্র পেটব্যথা, পিত্তথলির প্রদাহ, জন্ডিস, সংক্রমণ এবং এমনকি অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহের মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

সময়মতো রোগ নির্ণয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করলে পিত্তপাথরজনিত জটিলতা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

যকৃতের নিচে অবস্থিত ছোট থলির মতো অঙ্গটিই হলো পিত্তথলি। যকৃত থেকে তৈরি হওয়া পিত্তরস এটি সাময়িকভাবে জমা রাখে। খাবার হজমের সময়, বিশেষ করে চর্বি হজমে সহায়তা করার জন্য, পিত্তরস ক্ষুদ্রান্ত্রে পৌঁছে যায়।

পিত্তরসে কোলেস্টেরল, বিলিরুবিন এবং পিত্ত লবণসহ বিভিন্ন উপাদান থাকে। এই উপাদানগুলোর ভারসাম্য নষ্ট হলে ছোট ছোট স্ফটিক তৈরি হতে পারে, যা সময়ের সাথে সাথে বড় হয়ে পাথরে পরিণত হয়। অতিরিক্ত কোলেস্টেরল বা বিলিরুবিন, পিত্তথলির স্বাভাবিকভাবে খালি না হওয়া এবং কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক অবস্থার কারণে পিত্তপাথরের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

পিত্তপাথর সাধারণত কোলেস্টেরল বা রঞ্জকজাত (পিগমেন্ট) পাথর হিসেবে দেখা যায়। কিছু পাথরে একাধিক উপাদানের মিশ্রণও থাকতে পারে।

নারী, ৪০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি, স্থূলতায় আক্রান্ত মানুষ এবং যাদের পরিবারে পিত্তপাথরের ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই রোগের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, উচ্চ চর্বিযুক্ত ও কম আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ এবং ডায়াবেটিসও এই ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এছাড়াও গর্ভাবস্থা, কিছু হরমোনজনিত বিষয় এবং নির্দিষ্ট কিছু রোগের কারণেও পিত্তপাথরের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে?

অনেক ক্ষেত্রে অন্য কোনো কারণে করা আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষায় আকস্মিকভাবে পিত্তপাথর ধরা পড়ে। যদি উপসর্গ দেখা দেয়, তবে সাধারণত পেটের ওপরের ডান দিকে বা মাঝামাঝি অংশে তীব্র ও স্থায়ী ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এই ব্যথা পিঠ বা শরীরের অন্য অংশেও ছড়িয়ে যেতে পারে। এছাড়াও বমি বমি ভাব বা বমিও হতে পারে। ভারী খাবারের পর প্রায়শই এই ধরনের ব্যথা দেখা দেয়।

কোন লক্ষণগুলো বিপদের সংকেত?

তীব্র বা বাড়তে থাকা পেটব্যথার সাথে জ্বর, কাঁপুনি, জন্ডিস (চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া), গাঢ় প্রস্রাব, ফ্যাকাসে মল অথবা বারবার বমি হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। এই লক্ষণগুলো পিত্তনালিতে বাধা, পিত্তথলির প্রদাহ বা অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহের মতো জটিলতার ইঙ্গিত বহন করে।

কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়?

পিত্তপাথর শনাক্ত করার জন্য সাধারণত আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষাও করা হতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান: দেশ স্বাধীন করেছে বীরেরা, তাদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় সরকার – গণপূর্তমন্ত্রী

পিত্তথলিতে পাথর: কারণ, লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের বিস্তারিত নির্দেশিকা

আপডেট সময় : ১১:৩৬:১৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

পিত্তথলিতে পাথর বা গলস্টোন পরিপাকতন্ত্রের একটি সাধারণ সমস্যা। অনেকের শরীরে পাথর থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। তবে, পাথর যখন পিত্তনালিতে বাধা সৃষ্টি করে, তখন তীব্র পেটব্যথা, পিত্তথলির প্রদাহ, জন্ডিস, সংক্রমণ এবং এমনকি অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহের মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে।

সময়মতো রোগ নির্ণয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করলে পিত্তপাথরজনিত জটিলতা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

যকৃতের নিচে অবস্থিত ছোট থলির মতো অঙ্গটিই হলো পিত্তথলি। যকৃত থেকে তৈরি হওয়া পিত্তরস এটি সাময়িকভাবে জমা রাখে। খাবার হজমের সময়, বিশেষ করে চর্বি হজমে সহায়তা করার জন্য, পিত্তরস ক্ষুদ্রান্ত্রে পৌঁছে যায়।

পিত্তরসে কোলেস্টেরল, বিলিরুবিন এবং পিত্ত লবণসহ বিভিন্ন উপাদান থাকে। এই উপাদানগুলোর ভারসাম্য নষ্ট হলে ছোট ছোট স্ফটিক তৈরি হতে পারে, যা সময়ের সাথে সাথে বড় হয়ে পাথরে পরিণত হয়। অতিরিক্ত কোলেস্টেরল বা বিলিরুবিন, পিত্তথলির স্বাভাবিকভাবে খালি না হওয়া এবং কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক অবস্থার কারণে পিত্তপাথরের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

পিত্তপাথর সাধারণত কোলেস্টেরল বা রঞ্জকজাত (পিগমেন্ট) পাথর হিসেবে দেখা যায়। কিছু পাথরে একাধিক উপাদানের মিশ্রণও থাকতে পারে।

নারী, ৪০ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি, স্থূলতায় আক্রান্ত মানুষ এবং যাদের পরিবারে পিত্তপাথরের ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই রোগের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। দ্রুত ওজন কমে যাওয়া, উচ্চ চর্বিযুক্ত ও কম আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ এবং ডায়াবেটিসও এই ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এছাড়াও গর্ভাবস্থা, কিছু হরমোনজনিত বিষয় এবং নির্দিষ্ট কিছু রোগের কারণেও পিত্তপাথরের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।

কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে?

অনেক ক্ষেত্রে অন্য কোনো কারণে করা আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষায় আকস্মিকভাবে পিত্তপাথর ধরা পড়ে। যদি উপসর্গ দেখা দেয়, তবে সাধারণত পেটের ওপরের ডান দিকে বা মাঝামাঝি অংশে তীব্র ও স্থায়ী ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এই ব্যথা পিঠ বা শরীরের অন্য অংশেও ছড়িয়ে যেতে পারে। এছাড়াও বমি বমি ভাব বা বমিও হতে পারে। ভারী খাবারের পর প্রায়শই এই ধরনের ব্যথা দেখা দেয়।

কোন লক্ষণগুলো বিপদের সংকেত?

তীব্র বা বাড়তে থাকা পেটব্যথার সাথে জ্বর, কাঁপুনি, জন্ডিস (চোখ বা ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া), গাঢ় প্রস্রাব, ফ্যাকাসে মল অথবা বারবার বমি হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। এই লক্ষণগুলো পিত্তনালিতে বাধা, পিত্তথলির প্রদাহ বা অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহের মতো জটিলতার ইঙ্গিত বহন করে।

কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়?

পিত্তপাথর শনাক্ত করার জন্য সাধারণত আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষাও করা হতে পারে।