মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬

পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূরাজনৈতিক চক্রান্ত: রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতায় বাড়ছে জাতীয় ঝুঁকি

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তের পার্বত্য চট্টগ্রামে বর্তমানে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তা কেবল স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বা উপজাতীয় অসন্তোষের বিষয় নয়। এটি দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর এক দীর্ঘমেয়াদী হুমকি, যা ভূরাজনৈতিক চক্রান্ত এবং আঞ্চলিক আধিপত্যবাদী নীলনকশার ফল। রাষ্ট্র পরিচালনার ঐতিহাসিক ব্যর্থতাও এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম তিনটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সংযোগস্থলে অবস্থিত। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চলের জন্য বাংলাদেশের কোনো সুচিন্তিত, সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদী জাতীয় কৌশল দৃশ্যমান নয়। সরকার পরিবর্তন হলেও, পার্বত্য চট্টগ্রামের সংকট মোকাবিলায় রাষ্ট্রের পদ্ধতি আজও মূলত ঘটনানির্ভর ও প্রতিক্রিয়াশীল। বহিরাগত শক্তির ইন্ধনে সেখানে সমান্তরাল শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা এবং নিজস্ব সীমান্তেই জাতীয় সত্তাকে কোণঠাসা করার বিষয়টি আর গোপন রাখা সম্ভব নয়।

দেশের কোথাও সন্ত্রাসী হামলা হলে নিরাপত্তা অভিযান বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা দেখা দিলে প্রশাসনিক বৈঠক বসে। আন্তর্জাতিক ফোরামে অভিযোগ উঠলে প্রতিবাদ জানানো হয়। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের সংকটের রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক, সামাজিক, নিরাপত্তাগত ও আন্তর্জাতিক দিকগুলোকে একীভূত করে সমন্বিত সমাধানের উদ্যোগের অভাব স্পষ্ট। ফলে রাষ্ট্র কেবল সমস্যার পেছনে ছুটছে এবং পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে, কিন্তু সংকটের মূল কারণগুলো মোকাবিলা করতে পারছে না। এই কৌশলহীনতা অব্যাহত থাকলে, অপরাপর শক্তিগুলোই বাংলাদেশের পক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অপচেষ্টা চালাবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান সংকট কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। এর শেকড় প্রোথিত ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে, বিশেষ করে ১৮৬০ সালের চুক্তিতে। ইতিহাসকে অস্বীকার করে বর্তমানকে বোঝা সম্ভব নয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান: দেশ স্বাধীন করেছে বীরেরা, তাদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় সরকার – গণপূর্তমন্ত্রী

পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূরাজনৈতিক চক্রান্ত: রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতায় বাড়ছে জাতীয় ঝুঁকি

আপডেট সময় : ১১:৩৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তের পার্বত্য চট্টগ্রামে বর্তমানে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তা কেবল স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বা উপজাতীয় অসন্তোষের বিষয় নয়। এটি দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর এক দীর্ঘমেয়াদী হুমকি, যা ভূরাজনৈতিক চক্রান্ত এবং আঞ্চলিক আধিপত্যবাদী নীলনকশার ফল। রাষ্ট্র পরিচালনার ঐতিহাসিক ব্যর্থতাও এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম তিনটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূরাজনৈতিক সংযোগস্থলে অবস্থিত। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চলের জন্য বাংলাদেশের কোনো সুচিন্তিত, সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদী জাতীয় কৌশল দৃশ্যমান নয়। সরকার পরিবর্তন হলেও, পার্বত্য চট্টগ্রামের সংকট মোকাবিলায় রাষ্ট্রের পদ্ধতি আজও মূলত ঘটনানির্ভর ও প্রতিক্রিয়াশীল। বহিরাগত শক্তির ইন্ধনে সেখানে সমান্তরাল শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা এবং নিজস্ব সীমান্তেই জাতীয় সত্তাকে কোণঠাসা করার বিষয়টি আর গোপন রাখা সম্ভব নয়।

দেশের কোথাও সন্ত্রাসী হামলা হলে নিরাপত্তা অভিযান বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা দেখা দিলে প্রশাসনিক বৈঠক বসে। আন্তর্জাতিক ফোরামে অভিযোগ উঠলে প্রতিবাদ জানানো হয়। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের সংকটের রাজনৈতিক, ঐতিহাসিক, সামাজিক, নিরাপত্তাগত ও আন্তর্জাতিক দিকগুলোকে একীভূত করে সমন্বিত সমাধানের উদ্যোগের অভাব স্পষ্ট। ফলে রাষ্ট্র কেবল সমস্যার পেছনে ছুটছে এবং পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে, কিন্তু সংকটের মূল কারণগুলো মোকাবিলা করতে পারছে না। এই কৌশলহীনতা অব্যাহত থাকলে, অপরাপর শক্তিগুলোই বাংলাদেশের পক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অপচেষ্টা চালাবে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের বর্তমান সংকট কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। এর শেকড় প্রোথিত ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে, বিশেষ করে ১৮৬০ সালের চুক্তিতে। ইতিহাসকে অস্বীকার করে বর্তমানকে বোঝা সম্ভব নয়।