মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১২:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬

কমিশন শূন্য দুদকে মামলার শ্লথগতি, ভোগান্তিতে অভিযোগকারীরা

দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমছে অভিযোগের পাহাড়, কিন্তু কমিশন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ না হওয়ায় মামলার নিষ্পত্তিসহ অন্যান্য কার্যক্রম কার্যত ধীরগতিতে চলছে। গত পাঁচ মাসে কমিশনে জমা পড়েছে চার হাজার ৩১২টি অভিযোগ। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার, বড় প্রকল্পে দুর্নীতি, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার এবং ব্যাংক ঋণ আত্মসাতের মতো গুরুতর বিষয়।

গত ৩ মার্চ দুদকের তৎকালীন চেয়ারম্যান আবদুল মোমেন এবং দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলী আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ পদত্যাগ করেন। এরপর পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ না হওয়ায় কমিশনের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নতুন অনুসন্ধান শুরু, মামলা অনুমোদন, চার্জশিট দাখিল, সম্পদ বিবরণী চাওয়া, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন এবং সম্পদ জব্দের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তবে, দুদকে সচিবের পদায়নে সংস্থাটির কর্মকর্তারা আশা করছেন, চেয়ারম্যান নিয়োগ হলে কার্যক্রমে গতি আসবে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, কমিশনহীন অবস্থায় চলতি বছরের মার্চে এক হাজার ১২, এপ্রিলে ৭২১, মে মাসে ৮২৪, জুনে ৯১৩ এবং জুলাই মাসে ৮৪২টি অভিযোগ জমা পড়েছে। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক ডজন অভিযোগ গ্রহণ করছে কমিশনের অভিযোগ শাখা।

সূত্র জানায়, গত ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জমা পড়া অভিযোগগুলোর অধিকাংশই দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জনের সঙ্গে সম্পর্কিত। এছাড়া চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, বড় উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, সরকারি সম্পদ দখল, অবৈধ প্লট বরাদ্দ, মানি লন্ডারিং, সুইজারল্যান্ডে অর্থ পাচার, কানাডায় সম্পদ গড়ে তোলা, শেয়ারবাজারে কারসাজি এবং সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে দুদকের চেয়ারম্যান পদ শূন্য রয়েছে। এ কারণে নথিভুক্ত অভিযোগগুলো কমিশন তদন্ত করতে পারছে না। পাশাপাশি কমিশনের নীতিগত সিদ্ধান্তগুলোও বড় আকারে বন্ধ রয়েছে। অভিযোগ আসার পর অনুসন্ধান শুরু, ব্যাপকহারে তদন্ত শুরু করা, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন, আদালতে হিসাব জব্দের আবেদন, সম্পদের হিসাব বিবরণী চাওয়া, নতুন মামলা গ্রহণ, চার্জশিট দাখিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আটকে আছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান: দেশ স্বাধীন করেছে বীরেরা, তাদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানায় সরকার – গণপূর্তমন্ত্রী

কমিশন শূন্য দুদকে মামলার শ্লথগতি, ভোগান্তিতে অভিযোগকারীরা

আপডেট সময় : ১১:৩২:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমছে অভিযোগের পাহাড়, কিন্তু কমিশন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ না হওয়ায় মামলার নিষ্পত্তিসহ অন্যান্য কার্যক্রম কার্যত ধীরগতিতে চলছে। গত পাঁচ মাসে কমিশনে জমা পড়েছে চার হাজার ৩১২টি অভিযোগ। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার, বড় প্রকল্পে দুর্নীতি, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার এবং ব্যাংক ঋণ আত্মসাতের মতো গুরুতর বিষয়।

গত ৩ মার্চ দুদকের তৎকালীন চেয়ারম্যান আবদুল মোমেন এবং দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলী আকবার আজিজী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ পদত্যাগ করেন। এরপর পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ না হওয়ায় কমিশনের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নতুন অনুসন্ধান শুরু, মামলা অনুমোদন, চার্জশিট দাখিল, সম্পদ বিবরণী চাওয়া, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন এবং সম্পদ জব্দের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তবে, দুদকে সচিবের পদায়নে সংস্থাটির কর্মকর্তারা আশা করছেন, চেয়ারম্যান নিয়োগ হলে কার্যক্রমে গতি আসবে।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, কমিশনহীন অবস্থায় চলতি বছরের মার্চে এক হাজার ১২, এপ্রিলে ৭২১, মে মাসে ৮২৪, জুনে ৯১৩ এবং জুলাই মাসে ৮৪২টি অভিযোগ জমা পড়েছে। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক ডজন অভিযোগ গ্রহণ করছে কমিশনের অভিযোগ শাখা।

সূত্র জানায়, গত ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর জমা পড়া অভিযোগগুলোর অধিকাংশই দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জনের সঙ্গে সম্পর্কিত। এছাড়া চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, বড় উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, সরকারি সম্পদ দখল, অবৈধ প্লট বরাদ্দ, মানি লন্ডারিং, সুইজারল্যান্ডে অর্থ পাচার, কানাডায় সম্পদ গড়ে তোলা, শেয়ারবাজারে কারসাজি এবং সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে দুদকের চেয়ারম্যান পদ শূন্য রয়েছে। এ কারণে নথিভুক্ত অভিযোগগুলো কমিশন তদন্ত করতে পারছে না। পাশাপাশি কমিশনের নীতিগত সিদ্ধান্তগুলোও বড় আকারে বন্ধ রয়েছে। অভিযোগ আসার পর অনুসন্ধান শুরু, ব্যাপকহারে তদন্ত শুরু করা, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন, আদালতে হিসাব জব্দের আবেদন, সম্পদের হিসাব বিবরণী চাওয়া, নতুন মামলা গ্রহণ, চার্জশিট দাখিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো আটকে আছে।