২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঘটে যাওয়া অভাবনীয় গণঅভ্যুত্থানের এক দিন পর আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের একটি বিশেষ প্রতিবেদন সেই সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনীর নির্ণায়ক ভূমিকার ওপর নতুন করে আলোকপাত করে। বর্তমানে (২০২৬ সাল) তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসীন হলেও, বিগত শেখ হাসিনার সরকারের পতনে ওই গণঅভ্যুত্থানের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য।
রয়টার্সের সেই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে শেখ হাসিনা আকস্মিক দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার আগের দিন রোববার রাতে তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান তার জেনারেলদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, কারফিউ বলবৎ রাখতে সেনারা বেসামরিক লোকদের ওপর গুলি চালাবে না। বৈঠকের আলোচনা সম্পর্কে অবগত দুজন সেনা কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত একজন ভারতীয় কর্মকর্তাও রয়টার্সকে জানান, তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান পরের দিন সোমবার সকালে শেখ হাসিনার সরকারি আবাস গণভবনে যান। সেখানে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, দেশজুড়ে তিনি যে কারফিউ জারি করেছেন, তা বাস্তবায়নে তার সেনারা অপারগ।
রয়টার্সের ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়, ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যকার অনলাইন বৈঠকের বিস্তারিত এবং শেখ হাসিনাকে দেওয়া এই বার্তা এর আগে প্রকাশ পায়নি। তাদের এই বৈঠক এবং হাসিনাকে দেওয়া চূড়ান্ত বার্তায় এটিই ফুটে উঠেছিল যে, তিনি সেনাবাহিনীর সমর্থন হারিয়েছেন, যা তার সরকারের পতনে এক নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে।
প্রতিবেদনের মুখ্য বিষয়গুলো ছিল: প্রথমত, কারফিউ প্রয়োগে সেনাপ্রধানের অসম্মতি। দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ও ৫ আগস্টের ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শেখ হাসিনা কারফিউ কঠোরভাবে প্রয়োগ ও দমন-পীড়ন চালিয়ে আন্দোলন থামানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেনাপ্রধান শেখ হাসিনাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, তার সেনারা সাধারণ জনগণের ওপর গুলি চালাবে না এবং এই নির্দেশ/কারফিউ কার্যকর করতে পারবে না।
দ্বিতীয়ত, সেনাবাহিনী প্রধান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠক। ৪ আগস্ট রাতে সেনাবাহিনী প্রধান ও শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সামরিক নেতৃত্ব পর্যালোচনা করে দেখতে পায় যে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জনস্রোত ঠেকানো এবং সরকারের টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের মুখোমুখি হয়ে বলপ্রয়োগ না করার ব্যাপারে সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়। তৃতীয়ত, শেখ হাসিনাকে চূড়ান্ত বার্তা দেওয়া। সেনাপ্রধানের কার্যালয় থেকে শেখ হাসিনাকে বার্তা দেওয়া হয় যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে এবং সেনারা কারফিউ বলবৎ করতে পারবে না। এর মাধ্যমেই শেখ হাসিনার সরকারের পতন অনিবার্য হয়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের ক্ষমতার পথ খুলে দেয়।
রিপোর্টারের নাম 






















