সম্প্রতি চালু হওয়া জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা বা যথাযথ নিরাপত্তা প্রটোকল ছাড়াই কার্যক্রম শুরু হওয়ায় শহীদদের অমূল্য স্মৃতিচিহ্ন ও স্পর্শকাতর স্থাপনাসমূহ হুমকির মুখে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সেকশন ও স্মারক সরিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে, যা ইতিহাস বিকৃতির শঙ্কাকে আরো তীব্র করে তুলেছে। কোনো ধরনের জনবল বা স্টাফ নিয়োগ না দিয়ে এবং সিকিউরিটি প্রটোকলের মহড়া ছাড়াই জাদুঘর খুলে দেওয়ার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
গতকাল শনিবার তিনি আমার দেশকে বলেন, ‘কোনো রকম স্টাফ না দিয়ে, সিকিউরিটি প্রটোকল রিহার্সাল না করে এভাবে মিউজিয়ামটা কোন বিবেচনায় খোলা হলো, এটা আমার কাছে বিস্ময়কর লাগছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এ জাদুঘরে শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন আছে, অনেক ইলেকট্রনিক ইকুইপমেন্ট আছে। এভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থা না মেনে কেউ জাদুঘরে ঢুকলে বহু জিনিস নষ্ট হয়ে যাবে। এমন অনেক জিনিস আছে, যেটা একবার নষ্ট হলে আর পাওয়া যাবে না।’ ফারুকী বলেন, ‘এ জাদুঘর কেপিআই ওয়ানভুক্ত ইনস্টলেশন। এরকম স্পর্শকাতর ইনস্টলেশন এরকম এতিম দশায় ওপেন করা হলো কেন? সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর সত্যিকারের উদ্যোগী হলে এতদিনে সঠিকভাবে উদ্বোধন করা যেত। দরকার হলে সাময়িক বন্ধ রাখেন। তারপর যথাযথ স্টাফিং, সিকিউরিটি প্রটোকল রিহার্সাল করে চালু করেন।’
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর প্রস্তুতির কাজে যুক্ত ছিলেন এমন একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে আমার দেশকে জানান, বর্তমানে কোনো পেশাদার ব্যবস্থাপনা কমিটি নেই। ফলে গবেষকদেরও শ্রমিক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মতো কাজ করতে হচ্ছে। কাচের ভেতরে রাখা শহীদদের স্মৃতি স্মারকগুলো ভেঙে যাচ্ছে। মানুষ হাত দিয়ে সেগুলো ধরছে, কিন্তু তা বাধা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত লোকবল নেই। তিনি বলেন, বিভিন্ন ইনস্টলেশন, বিশেষ করে আন্দোলনের আইকনিক ছবিগুলো উন্মুক্ত থাকায় মানুষের হাত লাগার কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ও খুলে পড়ে যাচ্ছে। শহীদ ইব্রাহিমের সাইকেলের মতো বড় বড় স্মারকগুলো একদমই অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। এগুলোর সামনে কেবল একটি লোহার শেকল দিয়ে রাখা হয়েছে; যে কেউ সেই বড় স্মারকগুলো হাত দিয়ে স্পর্শ করছে, কিন্তু বাধা দেওয়ার মতো কেউ নেই। তিনি আরো বলেন, সীমান্ত হত্যা নিয়ে নির্ধারিত রুমটি এখনো পুরোপুরি ফাঁকা পড়ে আছে এবং সেখানে কোনো ইনস্টলেশন নেই, কেবল ক্যাম্পাস ভায়োলেন্সের দুটি ফটো লাইটবক্স রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 




















