মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১১:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬

সিএমএসএমই ঋণ উৎপাদন ছেড়ে বাণিজ্যে ঝুঁকছে: কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উদ্বেগ

দেশের কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (সিএমএসএমই) জন্য বরাদ্দকৃত ঋণের একটি বড় অংশ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর মূল লক্ষ্য থেকে সরে এসে বাণিজ্য খাতে চলে যাচ্ছে। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এই খাতের ভূমিকা সীমিত হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরা। চলতি ২০২৬ সালের মার্চ মাস শেষে সিএমএসএমই ঋণের ৪৪ দশমিক ৯৩ শতাংশই গেছে বাণিজ্য খাতে, যা উৎপাদন খাতের চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। বিপরীতে, উৎপাদন খাতে গেছে ৩৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং সেবা খাতে ২০ শতাংশ ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, সিএমএসএমই ঋণের অন্তত ৪০ শতাংশ উৎপাদন খাতে যাওয়ার কথা ছিল, যেখানে বাণিজ্য খাতে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪০ শতাংশ। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, উৎপাদন খাতে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঋণ প্রায় ৫ শতাংশ কম গেছে, আর বাণিজ্য খাতে ঋণের অংশ নির্ধারিত সীমার চেয়ে প্রায় ৫ শতাংশ বেশি। এর মধ্য দিয়ে সিএমএসএমই অর্থায়নের কাঠামো উৎপাদনের পরিবর্তে বাণিজ্যের দিকে ঝুঁকে পড়ার চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ব্যাংকগুলো মূলত ক্রেডিট ঝুঁকি (Credit Risk) বিবেচনা করে ব্যবসায়ী ও বাণিজ্যিক খাতে ঋণ দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। কারণ এসব ব্যবসায় ঋণ ফেরতের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে সহজে মূল্যায়ন করা যায়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্য হলো, বাণিজ্য খাতে ঋণের অংশ কমিয়ে উৎপাদন বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে অর্থায়ন বাড়ানো।

তিনি আরও জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ক্লাস্টারভিত্তিক শিল্পের জন্য একটি আলাদা ফান্ডের সার্কুলার জারি করা হয়েছে। এই ফান্ডে ব্যাংকের জন্য ছয় শতাংশ স্প্রেড রাখা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। যেহেতু ক্লাস্টার ফান্ডের পুরো অর্থই ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে যাবে, তাই আগামী প্রান্তিকগুলোতে উৎপাদন খাতে সিএমএসএমই ঋণের চিত্র আরও ইতিবাচক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ওই কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, সিএমএসএমই ঋণের বড় অংশ যদি উৎপাদন খাতে না গিয়ে বাণিজ্য খাতে চলে যায়, তাহলে দেশের উৎপাদনভিত্তি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়বে না। শুধু ট্রেডিং করে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করা সম্ভব নয়, উৎপাদন ও সেবা খাতও বাড়াতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কর্মসংস্থান বাড়ে মূলত উৎপাদন, ম্যানুফ্যাকচারিং ও সেবা খাতের সম্প্রসারণের মাধ্যমে। তাই সিএমএসএমই ঋণ কোন খাতে যাচ্ছে, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরও সতর্ক হওয়া এবং ব্যাংকগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানো উচিত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান পরিবর্তন না আনলে চাপ অব্যাহত থাকবে: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স

সিএমএসএমই ঋণ উৎপাদন ছেড়ে বাণিজ্যে ঝুঁকছে: কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উদ্বেগ

আপডেট সময় : ১০:১৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

দেশের কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (সিএমএসএমই) জন্য বরাদ্দকৃত ঋণের একটি বড় অংশ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর মূল লক্ষ্য থেকে সরে এসে বাণিজ্য খাতে চলে যাচ্ছে। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এই খাতের ভূমিকা সীমিত হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরা। চলতি ২০২৬ সালের মার্চ মাস শেষে সিএমএসএমই ঋণের ৪৪ দশমিক ৯৩ শতাংশই গেছে বাণিজ্য খাতে, যা উৎপাদন খাতের চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। বিপরীতে, উৎপাদন খাতে গেছে ৩৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং সেবা খাতে ২০ শতাংশ ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, সিএমএসএমই ঋণের অন্তত ৪০ শতাংশ উৎপাদন খাতে যাওয়ার কথা ছিল, যেখানে বাণিজ্য খাতে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪০ শতাংশ। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, উৎপাদন খাতে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঋণ প্রায় ৫ শতাংশ কম গেছে, আর বাণিজ্য খাতে ঋণের অংশ নির্ধারিত সীমার চেয়ে প্রায় ৫ শতাংশ বেশি। এর মধ্য দিয়ে সিএমএসএমই অর্থায়নের কাঠামো উৎপাদনের পরিবর্তে বাণিজ্যের দিকে ঝুঁকে পড়ার চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ব্যাংকগুলো মূলত ক্রেডিট ঝুঁকি (Credit Risk) বিবেচনা করে ব্যবসায়ী ও বাণিজ্যিক খাতে ঋণ দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। কারণ এসব ব্যবসায় ঋণ ফেরতের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে সহজে মূল্যায়ন করা যায়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের লক্ষ্য হলো, বাণিজ্য খাতে ঋণের অংশ কমিয়ে উৎপাদন বা ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে অর্থায়ন বাড়ানো।

তিনি আরও জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ক্লাস্টারভিত্তিক শিল্পের জন্য একটি আলাদা ফান্ডের সার্কুলার জারি করা হয়েছে। এই ফান্ডে ব্যাংকের জন্য ছয় শতাংশ স্প্রেড রাখা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। যেহেতু ক্লাস্টার ফান্ডের পুরো অর্থই ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে যাবে, তাই আগামী প্রান্তিকগুলোতে উৎপাদন খাতে সিএমএসএমই ঋণের চিত্র আরও ইতিবাচক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ওই কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) সাবেক মহাপরিচালক তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, সিএমএসএমই ঋণের বড় অংশ যদি উৎপাদন খাতে না গিয়ে বাণিজ্য খাতে চলে যায়, তাহলে দেশের উৎপাদনভিত্তি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়বে না। শুধু ট্রেডিং করে দেশের অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করা সম্ভব নয়, উৎপাদন ও সেবা খাতও বাড়াতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কর্মসংস্থান বাড়ে মূলত উৎপাদন, ম্যানুফ্যাকচারিং ও সেবা খাতের সম্প্রসারণের মাধ্যমে। তাই সিএমএসএমই ঋণ কোন খাতে যাচ্ছে, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরও সতর্ক হওয়া এবং ব্যাংকগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানো উচিত।