মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১১:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬

নেত্রকোনার মদনে বিগত সরকারের ‘মুজিব কিল্লা’ এখন মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের আস্তানা

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নির্মিত দুটি ‘মুজিব কিল্লা’ এখন মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। বর্তমান বিএনপি সরকারের (২০২৬ সাল) আমলে এই স্থাপনাগুলো ‘দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র’ নামে পরিচিত হলেও, এগুলো জনকল্যাণে কোনো কাজে আসছে না, বরং সামাজিক অবক্ষয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহল এই ব্যয়বহুল প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

জানা গেছে, মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী বড্ডা এলাকায় ২ কোটি ১৩ লাখ ৫০ হাজার ৮৩৪ টাকা এবং একই ইউনিয়নের মনিকা গ্রামের সামনে ২ কোটি ২১ লাখ ৭৯ হাজার ১৯৮ টাকা ব্যয়ে দুটি মুজিব কিল্লা বা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পগুলো জনগণের কতটা কাজে আসছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্পের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে এলাকার মানুষ কিছুই জানে না। যদিও কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, বন্যার সময় গবাদিপশু রাখার জন্য এগুলো নির্মাণ করা হয়েছে।

বিশাল একতলা ভবন দুটির ভেতরে গিয়ে দেখা গেছে, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অযত্ন ও অবহেলায় ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমেছে এবং যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। নির্মাণের পর থেকেই এগুলো প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এলাকার মানুষ জানে না বিশাল এই ভবনগুলো ঠিক কী কারণে নির্মাণ করা হয়েছিল, যদিও বন্যা হলে এগুলোতে মানুষ ও গবাদিপশু আশ্রয় নেবে বলে জানানো হয়েছিল। অথচ হাওরের প্রায় সবকটি স্কুলেই বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র বিদ্যমান।

জেলা ত্রাণ অফিস সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে বিগত সরকার মদন উপজেলায় দুটি আশ্রয়ণকেন্দ্র (মুজিব কিল্লা) প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল। ২০২২ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, এর কাজ এখনও পুরোপুরি হস্তান্তর হয়নি। বড্ডা আশ্রয়কেন্দ্রটির কাজ এখনও বাকি রয়েছে। জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিস জানায়, বন্যা হলে গবাদিপশু রাখা এবং অন্য সময় সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য এগুলো নির্মাণ করা হয়েছে।

গোবিন্দশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান মাইদুল ইসলাম খান মামুন জানান, তিনি বারবার ইউনিয়ন পরিষদে এই আশ্রয়কেন্দ্র দুটি হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছিলেন। তিনি শুনেছেন, বড্ডা আশ্রয়ণকেন্দ্রে মাদক সেবন ও জুয়া খেলা হয়। তার মতে, ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় এলে নিরাপত্তার জন্য দুজন গ্রাম পুলিশ নিয়োগ করা যেত, তাহলে এমন অবস্থা হতো না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান পরিবর্তন না আনলে চাপ অব্যাহত থাকবে: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স

নেত্রকোনার মদনে বিগত সরকারের ‘মুজিব কিল্লা’ এখন মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের আস্তানা

আপডেট সময় : ১০:১৬:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নির্মিত দুটি ‘মুজিব কিল্লা’ এখন মাদকসেবী ও জুয়াড়িদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। বর্তমান বিএনপি সরকারের (২০২৬ সাল) আমলে এই স্থাপনাগুলো ‘দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র’ নামে পরিচিত হলেও, এগুলো জনকল্যাণে কোনো কাজে আসছে না, বরং সামাজিক অবক্ষয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহল এই ব্যয়বহুল প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

জানা গেছে, মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী বড্ডা এলাকায় ২ কোটি ১৩ লাখ ৫০ হাজার ৮৩৪ টাকা এবং একই ইউনিয়নের মনিকা গ্রামের সামনে ২ কোটি ২১ লাখ ৭৯ হাজার ১৯৮ টাকা ব্যয়ে দুটি মুজিব কিল্লা বা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পগুলো জনগণের কতটা কাজে আসছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্পের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য সম্পর্কে এলাকার মানুষ কিছুই জানে না। যদিও কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, বন্যার সময় গবাদিপশু রাখার জন্য এগুলো নির্মাণ করা হয়েছে।

বিশাল একতলা ভবন দুটির ভেতরে গিয়ে দেখা গেছে, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অযত্ন ও অবহেলায় ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমেছে এবং যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। নির্মাণের পর থেকেই এগুলো প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এলাকার মানুষ জানে না বিশাল এই ভবনগুলো ঠিক কী কারণে নির্মাণ করা হয়েছিল, যদিও বন্যা হলে এগুলোতে মানুষ ও গবাদিপশু আশ্রয় নেবে বলে জানানো হয়েছিল। অথচ হাওরের প্রায় সবকটি স্কুলেই বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র বিদ্যমান।

জেলা ত্রাণ অফিস সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে বিগত সরকার মদন উপজেলায় দুটি আশ্রয়ণকেন্দ্র (মুজিব কিল্লা) প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল। ২০২২ সালে প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, এর কাজ এখনও পুরোপুরি হস্তান্তর হয়নি। বড্ডা আশ্রয়কেন্দ্রটির কাজ এখনও বাকি রয়েছে। জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিস জানায়, বন্যা হলে গবাদিপশু রাখা এবং অন্য সময় সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য এগুলো নির্মাণ করা হয়েছে।

গোবিন্দশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান মাইদুল ইসলাম খান মামুন জানান, তিনি বারবার ইউনিয়ন পরিষদে এই আশ্রয়কেন্দ্র দুটি হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছিলেন। তিনি শুনেছেন, বড্ডা আশ্রয়ণকেন্দ্রে মাদক সেবন ও জুয়া খেলা হয়। তার মতে, ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় এলে নিরাপত্তার জন্য দুজন গ্রাম পুলিশ নিয়োগ করা যেত, তাহলে এমন অবস্থা হতো না।