মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৫:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬

প্রযুক্তির অপব্যবহারে বাড়ছে মানবপাচার: ভুয়া চাকরির ফাঁদে তরুণরা

বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়াকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে মানবপাচারকারীদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ও মেসেঞ্জারের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অপরাধীরা ভুয়া আইডি খুলে টার্গেট করা ব্যক্তিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলছে। বিদেশে আকর্ষণীয় চাকরি, ব্যবসা কিংবা স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রলোভন দেখিয়ে তারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। অনেক ক্ষেত্রে বিলাসবহুল জীবনযাপনের ভুয়া ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে বিশ্বাস অর্জনের পর কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে, পরবর্তীতে তাদের পাচার করে দেওয়া হচ্ছে অজানা গন্তব্যে।

শুধু কর্মসংস্থান নয়, প্রেম ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়েও নারীদের পাচারের হার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। দীর্ঘ সময় অনলাইনে যোগাযোগ রেখে বিশ্বাস স্থাপনের পর বিদেশে নিয়ে গিয়ে তাদের যৌন শোষণ, জোরপূর্বক শ্রম ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানেও এই চক্রগুলোর সঙ্গে দেশি-বিদেশি শক্তিশালী অপরাধী নেটওয়ার্কের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তাই অনলাইনে অপরিচিত কারো সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপনের আগে এবং বিদেশ যাত্রার ক্ষেত্রে প্রতিটি তথ্য যাচাই করা এখন সময়ের দাবি।

বিএমইটির তথ্যমতে, গত দেড় বছরে প্রায় ১৬ হাজার বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের আশায় কম্বোডিয়া গিয়েছেন। এদের একটি বড় অংশ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি না পেয়ে সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে আটকা পড়েছেন। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে কম্বোডিয়া থেকে ফেরত আসা প্রায় ছয় শতাধিক বাংলাদেশি জানিয়েছেন, বিদেশে পৌঁছানোর পরপরই তাদের পাসপোর্ট জব্দ করে জিম্মি করা হয়। এরপর তাদের জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণা ও আর্থিক জালিয়াতির মতো অপরাধে বাধ্য করা হচ্ছে। কম্বোডিয়ার পাশাপাশি মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকাগুলোও এখন আন্তর্জাতিক স্ক্যাম সেন্টারের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, যেখানে আইটি খাতের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের পাচার করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াখালীতে পিকআপের ধাক্কায় অটোরিকশাচালক নিহত

প্রযুক্তির অপব্যবহারে বাড়ছে মানবপাচার: ভুয়া চাকরির ফাঁদে তরুণরা

আপডেট সময় : ০৪:০৬:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়াকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে মানবপাচারকারীদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম ও মেসেঞ্জারের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অপরাধীরা ভুয়া আইডি খুলে টার্গেট করা ব্যক্তিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলছে। বিদেশে আকর্ষণীয় চাকরি, ব্যবসা কিংবা স্থায়ীভাবে বসবাসের প্রলোভন দেখিয়ে তারা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। অনেক ক্ষেত্রে বিলাসবহুল জীবনযাপনের ভুয়া ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে বিশ্বাস অর্জনের পর কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে, পরবর্তীতে তাদের পাচার করে দেওয়া হচ্ছে অজানা গন্তব্যে।

শুধু কর্মসংস্থান নয়, প্রেম ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়েও নারীদের পাচারের হার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। দীর্ঘ সময় অনলাইনে যোগাযোগ রেখে বিশ্বাস স্থাপনের পর বিদেশে নিয়ে গিয়ে তাদের যৌন শোষণ, জোরপূর্বক শ্রম ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানেও এই চক্রগুলোর সঙ্গে দেশি-বিদেশি শক্তিশালী অপরাধী নেটওয়ার্কের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তাই অনলাইনে অপরিচিত কারো সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপনের আগে এবং বিদেশ যাত্রার ক্ষেত্রে প্রতিটি তথ্য যাচাই করা এখন সময়ের দাবি।

বিএমইটির তথ্যমতে, গত দেড় বছরে প্রায় ১৬ হাজার বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের আশায় কম্বোডিয়া গিয়েছেন। এদের একটি বড় অংশ প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি না পেয়ে সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে আটকা পড়েছেন। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে কম্বোডিয়া থেকে ফেরত আসা প্রায় ছয় শতাধিক বাংলাদেশি জানিয়েছেন, বিদেশে পৌঁছানোর পরপরই তাদের পাসপোর্ট জব্দ করে জিম্মি করা হয়। এরপর তাদের জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণা ও আর্থিক জালিয়াতির মতো অপরাধে বাধ্য করা হচ্ছে। কম্বোডিয়ার পাশাপাশি মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকাগুলোও এখন আন্তর্জাতিক স্ক্যাম সেন্টারের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, যেখানে আইটি খাতের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের পাচার করা হচ্ছে।