বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা ভূমি অফিসে মিউটেশন (নামজারি) কার্যক্রমে অনিয়ম, হয়রানি এবং ৩০ হাজার টাকা ঘুস দাবির অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা সনজিত মজুমদার, যিনি দীর্ঘদিন ধরে তার পৈতৃক সম্পত্তির নামজারি আটকে থাকার কথা জানিয়েছেন। তিনি এই বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত এবং জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
রবিবার দুপুর ১২টায় বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সনজিত মজুমদার এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পৈতৃক সম্পত্তির মিউটেশন ও নামজারির জন্য একাধিকবার আবেদন করার পরও বিভিন্ন অজুহাতে তা খারিজ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র দাখিল করার পরও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাননি।
অভিযোগ অনুযায়ী, মোংলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের অফিস সহকারী নাইমুল ইসলাম প্রতিটি মিউটেশন মামলার জন্য ৩০ হাজার টাকা ঘুস দাবি করেন। তার দাবি, এই টাকা পরিশোধ না করলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবেদনে স্বাক্ষর করবেন না। এমনকি, সহকারী কমিশনারের (ভূমি) সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হন বলেও অভিযোগ করেন সনজিত মজুমদার।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয় যে, বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর প্রতিকার মেলেনি। এর ফলে তিনি ও তার পরিবার দীর্ঘকাল ধরে মানসিক ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। সরকারি নির্ধারিত ফি থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত অর্থ দাবি করাকে দুর্নীতির শামিল বলে অভিহিত করেন সনজিত মজুমদার এবং এতে সাধারণ সেবাপ্রত্যাশীরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি এই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত তার পৈতৃক সম্পত্তির নামজারি সম্পন্ন করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে মোংলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নওশীনা আরিফ জানান, তাদের ওয়ারিশ কায়েম ঠিক না থাকার কারণে নামজারি করা হয়নি। কাগজপত্র ঠিক করে আনলে নামজারি করে দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সেবাভোগী হয়তো কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার কারণে বিক্ষুব্ধ হয়ে অভিযোগ করতে পারেন।
রিপোর্টারের নাম 
























