বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির ‘জুলাই বিপ্লব’ বিষয়ক সাম্প্রতিক এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা চলছে। একটি টেলিভিশন টকশোতে অংশ নিয়ে তিনি এই আন্দোলনের নেতৃত্ব, হত্যাকাণ্ডের ধরন এবং এর পেছনের সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন তুলেছেন, যা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি তার বক্তব্যে প্রশ্ন তোলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে স্নাইপার কারা চালিয়েছিল? অনেক কিছুই আমি বলতে চাইলেও বলতে পারি না। কারণ, অনেক কিছু বললে অনেকের কাপড়-চোপড় ঠিক থাকবে না। যারা আজ কথা বলে, তারা কখন কোথায় কীভাবে সেনাবাহিনীর সঙ্গে দেখা করে এই কাজগুলো করেছিল, তাদের কতটা ভূমিকা ছিল?’ তিনি আরও বলেন, এই আন্দোলনে কারা মূল নেতৃত্ব দিয়েছিল, তা কেউ জানে না। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে একজন আরেকজনকে চিনত না। অনেকে পাশ দিয়ে হেঁটে যেতে গিয়ে বা আন্দোলন করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন, অথচ গুলির কোনো শব্দ হয়নি। তিনি এটিকে স্নাইপারের গুলি বলে দাবি করেন। সঞ্চালকের ‘ডিজাইন বা ষড়যন্ত্র’ বিষয়ক প্রশ্নের জবাবে নিলোফার চৌধুরী মনি ‘ডিজাইন অবশ্যই ছিল, ষড়যন্ত্র কি না বলতে পারব না’ বলে মন্তব্য করেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ‘কারা মারল, কেউ জানে না। সামনে কোনো পুলিশও ছিল না। পুলিশের গুলি হলে তো সামনেই হতো। হতে পারে কোনো বাসা থেকে টার্গেট করে, ওপরতলা থেকে টার্গেট করে হয়তো গুলি করা হয়েছে।’ এর আগে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে ‘গিনিপিগ’ মন্তব্য করেও সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন নিলোফার চৌধুরী মনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সেই বক্তব্য ভাইরাল হলে নেটিজেনদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
এমপি নিলোফার চৌধুরী মনির সাম্প্রতিক এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন ছাত্রদল সভাপতিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা। তাদের মতে, এমন স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
রিপোর্টারের নাম 

























