ঢাকা ০৮:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬

ময়মনসিংহে শিক্ষার্থী আকাশ হত্যা: ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ২ জনের কারাদণ্ড

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২৭:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ময়মনসিংহে প্রেমের সম্পর্কের জেরে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৈকত হাসান আকাশ হত্যা মামলায় দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও দুইজনকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক মো. শামছউদ্দিন এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের রায়ে এনামুল হক ও নাজমুল হককে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত এনামুল হক বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। এছাড়া, জিয়াউল হক ও জুলহাস উদ্দিনকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার অষ্টধার উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৈকত হাসান আকাশের সঙ্গে একই এলাকার জিয়াউল হক মেম্বারের মেয়ে জেসমিন আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে জিয়াউল হক পূর্বপরিকল্পিতভাবে আকাশকে হত্যার ছক কষেন। ২০২১ সালের ১৯ মে রাতে জেসমিন আক্তার মোবাইল ফোনে আকাশকে তাদের বাড়িতে দেখা করতে ডাকেন। আকাশ সরল বিশ্বাসে বন্ধু রাশিদুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান, কিন্তু এরপর আর বাড়ি ফেরেননি।

পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও আকাশের সন্ধান পাননি। দুই দিন পর স্থানীয়রা জেসমিনদের বাড়ির পাশের একটি বাঁশঝাড় সংলগ্ন টয়লেটের সামনে আবর্জনা ফেলার গর্তে মাটির সঙ্গে মিশ্রিত রক্ত দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গর্ত থেকে আকাশের লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে তার পরিবার লাশটি শনাক্ত করে।

এই ঘটনায় নিহত আকাশের বাবা আকরাম হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় জিয়াউল হক, জুলহাস উদ্দিন, এনামুল হক, নাজমুল হক, নেজামুল হক, রুমান, হযরত আলী, আনিছ, আব্দুল লতিফ, অজুফা, রুজিনা, নার্গিস, রাহাতুল জান্নাত ও জেসমিন আক্তারসহ মোট ১৪ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ, সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. আবু হানিফ খান এবং আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. রফিকুল ইসলাম খান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে ছাত্রদলের মাসব্যাপী কর্মসূচী ঘোষণা

ময়মনসিংহে শিক্ষার্থী আকাশ হত্যা: ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ২ জনের কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ০৬:২৭:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

ময়মনসিংহে প্রেমের সম্পর্কের জেরে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৈকত হাসান আকাশ হত্যা মামলায় দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং আরও দুইজনকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক মো. শামছউদ্দিন এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের রায়ে এনামুল হক ও নাজমুল হককে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত এনামুল হক বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। এছাড়া, জিয়াউল হক ও জুলহাস উদ্দিনকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ সদর উপজেলার অষ্টধার উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৈকত হাসান আকাশের সঙ্গে একই এলাকার জিয়াউল হক মেম্বারের মেয়ে জেসমিন আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্ক মেনে নিতে না পেরে জিয়াউল হক পূর্বপরিকল্পিতভাবে আকাশকে হত্যার ছক কষেন। ২০২১ সালের ১৯ মে রাতে জেসমিন আক্তার মোবাইল ফোনে আকাশকে তাদের বাড়িতে দেখা করতে ডাকেন। আকাশ সরল বিশ্বাসে বন্ধু রাশিদুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান, কিন্তু এরপর আর বাড়ি ফেরেননি।

পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও আকাশের সন্ধান পাননি। দুই দিন পর স্থানীয়রা জেসমিনদের বাড়ির পাশের একটি বাঁশঝাড় সংলগ্ন টয়লেটের সামনে আবর্জনা ফেলার গর্তে মাটির সঙ্গে মিশ্রিত রক্ত দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গর্ত থেকে আকাশের লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে তার পরিবার লাশটি শনাক্ত করে।

এই ঘটনায় নিহত আকাশের বাবা আকরাম হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় জিয়াউল হক, জুলহাস উদ্দিন, এনামুল হক, নাজমুল হক, নেজামুল হক, রুমান, হযরত আলী, আনিছ, আব্দুল লতিফ, অজুফা, রুজিনা, নার্গিস, রাহাতুল জান্নাত ও জেসমিন আক্তারসহ মোট ১৪ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ, সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং উপস্থাপিত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. আবু হানিফ খান এবং আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. রফিকুল ইসলাম খান।