ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিতর্কের জেরে মোহনগঞ্জ প্রেসক্লাবের শীর্ষ তিন কর্মকর্তার পদত্যাগ

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এস দোহা, সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম রতন এবং সহ-সভাপতি ইন্দ্রজিত সরকার পদত্যাগ করেছেন। গত এপ্রিল মাসে তারা পৃথকভাবে প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা ও মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুনের কাছে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দেন। ইউএনও আমেনা খাতুন পদত্যাগপত্র প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি মোহনগঞ্জ প্রেসক্লাবের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়। শুরুর দিকে সংগঠনের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চললেও, পরবর্তীতে অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও বিভিন্ন সাংগঠনিক জটিলতার কারণে ক্লাবে অস্থিরতা দেখা দেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ডিসেম্বরে মোহনগঞ্জ থানার ওসি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রেসক্লাবের দুই সদস্য মানিক তালুকদার ও সুমন মাহমুদ শেখ অন্য সদস্যদের উদ্দেশে অশালীন ভাষায় গালাগাল ও অপমানজনক আচরণ করেন। এ ঘটনায় কার্যনির্বাহী কমিটির দুই সদস্য সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও অভিযোগের বিষয়ে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এরপর থেকেই প্রেসক্লাবে বিভক্তি ও বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

এরই মধ্যে চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রেক্টিফায়েড স্পিরিটসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করলে ওই ঘটনায় প্রেসক্লাবের দুই সদস্য মানিক তালুকদার ও সুমন মাহমুদ শেখের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। পরে তাদের ছবিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। প্রেসক্লাবের একাধিক সদস্যের দাবি, অসদাচরণ ও মাদক-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অভিযুক্ত সদস্যদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে জটিলতা, মতবিরোধ এবং বিভিন্ন ধরনের চাপের কারণেই সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সভাপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

এ বিষয়ে প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আরিফ জুয়েল বলেন, “তাদের পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে সদস্যদের মধ্যে আলোচনা চলছিল। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হই।” প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক আজহারুল ইসলাম জানান, পদত্যাগপত্রের কপি এখনও হাতে না পেলেও সাধারণ সম্পাদক তাকে ইউএনও বরাবর পদত্যাগের কথা জানিয়েছেন। পদত্যাগের কারণ জানতে চাইলে সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম রতন ‘অপারগতা ও শারীরিক অসুস্থতা’র কথা উল্লেখ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুরে মাদক মামলার আলামত কমাতে ঘুষ লেনদেন, সিপাহির ভিডিও নিয়ে তোলপাড়

অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিতর্কের জেরে মোহনগঞ্জ প্রেসক্লাবের শীর্ষ তিন কর্মকর্তার পদত্যাগ

আপডেট সময় : ০৭:২৪:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এস দোহা, সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম রতন এবং সহ-সভাপতি ইন্দ্রজিত সরকার পদত্যাগ করেছেন। গত এপ্রিল মাসে তারা পৃথকভাবে প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা ও মোহনগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা খাতুনের কাছে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দেন। ইউএনও আমেনা খাতুন পদত্যাগপত্র প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি মোহনগঞ্জ প্রেসক্লাবের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি গঠিত হয়। শুরুর দিকে সংগঠনের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চললেও, পরবর্তীতে অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও বিভিন্ন সাংগঠনিক জটিলতার কারণে ক্লাবে অস্থিরতা দেখা দেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের ডিসেম্বরে মোহনগঞ্জ থানার ওসি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রেসক্লাবের দুই সদস্য মানিক তালুকদার ও সুমন মাহমুদ শেখ অন্য সদস্যদের উদ্দেশে অশালীন ভাষায় গালাগাল ও অপমানজনক আচরণ করেন। এ ঘটনায় কার্যনির্বাহী কমিটির দুই সদস্য সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও অভিযোগের বিষয়ে কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এরপর থেকেই প্রেসক্লাবে বিভক্তি ও বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

এরই মধ্যে চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রেক্টিফায়েড স্পিরিটসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করলে ওই ঘটনায় প্রেসক্লাবের দুই সদস্য মানিক তালুকদার ও সুমন মাহমুদ শেখের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। পরে তাদের ছবিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। প্রেসক্লাবের একাধিক সদস্যের দাবি, অসদাচরণ ও মাদক-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অভিযুক্ত সদস্যদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়ে জটিলতা, মতবিরোধ এবং বিভিন্ন ধরনের চাপের কারণেই সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সভাপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

এ বিষয়ে প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আরিফ জুয়েল বলেন, “তাদের পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে সদস্যদের মধ্যে আলোচনা চলছিল। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হই।” প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক আজহারুল ইসলাম জানান, পদত্যাগপত্রের কপি এখনও হাতে না পেলেও সাধারণ সম্পাদক তাকে ইউএনও বরাবর পদত্যাগের কথা জানিয়েছেন। পদত্যাগের কারণ জানতে চাইলে সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম রতন ‘অপারগতা ও শারীরিক অসুস্থতা’র কথা উল্লেখ করেন।