ঢাকা ০৯:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সংসদে জুয়া প্রতিরোধ বিল পাস: অনলাইন জুয়ায় সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড ও ৫ কোটি টাকা জরিমানা

অনলাইনসহ সব ধরনের জুয়ায় কঠোর সাজার বিধান রেখে সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল–২০২৬’ পাস হয়েছে। নতুন এই আইনে অনলাইন জুয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে এটি পাস হয়।

১৮৬৭ সালের পুরোনো ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট’ রহিত করে নতুন এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। বিলের ওপর বিরোধী দলের সদস্যদের আনা জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে প্রেরণ এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তির পর সর্বসম্মতিক্রমে বিলটি পাস হয়। বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বিলটিকে পুরোপুরি সমর্থন জানালেও তাদের প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো গ্রহণ না করায় কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

পাস হওয়া বিল অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকলে ২ বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়ার অপরাধ করলে ৫ বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়াও, অনলাইন বেটিংয়ে সম্পৃক্ত হলে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

বিলটিতে জুয়া, জুয়ার স্থান, জুয়ার সামগ্রী, ডিজিটাল সম্পদ, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, টোটালাইজেটর, অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়াসহ মোট ২৪ ধরনের বিষয়কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। অপরাধের প্রকৃতিভেদে ১৪ ধরনের সাজার (অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ড) বিধান এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিলের আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল অনলাইন জুয়ার লোভনীয় অফারে শিশুদের আকৃষ্ট হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে আইনটিকে আরও কঠিন করার প্রস্তাব করেন। রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বিলের উদ্দেশ্যের সঙ্গে একমত পোষণ করলেও কয়েকটি ধারার সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুরে মাদক মামলার আলামত কমাতে ঘুষ লেনদেন, সিপাহির ভিডিও নিয়ে তোলপাড়

সংসদে জুয়া প্রতিরোধ বিল পাস: অনলাইন জুয়ায় সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড ও ৫ কোটি টাকা জরিমানা

আপডেট সময় : ০৭:১৮:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

অনলাইনসহ সব ধরনের জুয়ায় কঠোর সাজার বিধান রেখে সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল–২০২৬’ পাস হয়েছে। নতুন এই আইনে অনলাইন জুয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে এটি পাস হয়।

১৮৬৭ সালের পুরোনো ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট’ রহিত করে নতুন এই আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে। বিলের ওপর বিরোধী দলের সদস্যদের আনা জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে প্রেরণ এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তির পর সর্বসম্মতিক্রমে বিলটি পাস হয়। বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বিলটিকে পুরোপুরি সমর্থন জানালেও তাদের প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো গ্রহণ না করায় কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

পাস হওয়া বিল অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকলে ২ বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়ার অপরাধ করলে ৫ বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

এছাড়াও, অনলাইন বেটিংয়ে সম্পৃক্ত হলে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড বা অনূর্ধ্ব এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

বিলটিতে জুয়া, জুয়ার স্থান, জুয়ার সামগ্রী, ডিজিটাল সম্পদ, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, টোটালাইজেটর, অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়াসহ মোট ২৪ ধরনের বিষয়কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। অপরাধের প্রকৃতিভেদে ১৪ ধরনের সাজার (অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ড) বিধান এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিলের আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল অনলাইন জুয়ার লোভনীয় অফারে শিশুদের আকৃষ্ট হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে আইনটিকে আরও কঠিন করার প্রস্তাব করেন। রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বিলের উদ্দেশ্যের সঙ্গে একমত পোষণ করলেও কয়েকটি ধারার সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।