ঢাকা ১০:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সংসদ সচিবালয়ের নিজস্ব ব্যয়ে নীরব বিরোধী দল: ছিল না ছাঁটাই প্রস্তাব

জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ৫৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ৫৮টির ক্ষেত্রেই ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল বিরোধী দল। তবে সংসদ সচিবালয়ের নিজস্ব ব্যয়ের ক্ষেত্রে তারা কোনো ছাঁটাই প্রস্তাব থেকে বিরত থাকে, যা নিয়ে এখন আলোচনা চলছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সংসদ সচিবালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে ৭০ লাখ টাকা সংসদের ভোটে গ্রহণ করা হয়, এবং এই অংশের বিপরীতে বিরোধী দলের কোনো আপত্তি বা ছাঁটাই প্রস্তাব ছিল না।

বাজেটে প্রস্তাবিত দায়যুক্ত ব্যয় ব্যতীত অন্যান্য ব্যয়ের মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট গ্রহণের কার্যসূচিতে জাতীয় সংসদ খাত ছিল দাবি নং ১। সংসদ কার্যে জাতীয় সংসদের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০২৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্য অর্থবছরের প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ব্যয় নির্বাহে রাষ্ট্রপতিকে অনধিক ৭০ লাখ টাকা মঞ্জুর করার প্রস্তাব করেন। এই প্রস্তাবের বিপরীতে বিরোধী দলের কোনো ছাঁটাই প্রস্তাব না থাকায়, সংসদের নিজস্ব ব্যয় নিয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক আপত্তি কার্যসূচিতে আসেনি।

নির্দিষ্টকরণ বিলের তফসিল অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ খাতে মোট বরাদ্দ ২৯০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ২৮৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা সংযুক্ত তহবিলের ওপর দায়যুক্ত ব্যয় হিসেবে বিবেচিত। সংসদের ভোটে গৃহীত অংশ মাত্র ৭০ লাখ টাকা। সংবিধান ও কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, দায়যুক্ত ব্যয় সংসদের ভোটে দেওয়া যায় না। ফলে জাতীয় সংসদ খাতের প্রায় পুরো বরাদ্দই ভোটের বাইরে থাকে। যে সামান্য অংশটি ভোটে ওঠে, সেটি নিয়েও কোনো সদস্য ছাঁটাই প্রস্তাব আনেননি।

কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, বাজেট কোনো কমিটিতে পাঠানো হয় না। বাজেট উপস্থাপনের পর দীর্ঘ আলোচনা, মঞ্জুরি দাবি, ছাঁটাই প্রস্তাব, ভোট এবং নির্দিষ্টকরণ বিলের মাধ্যমে বাজেট পাস হয়। এই কাঠামোয় কোনো খাতের নীতি, ব্যয়, মিতব্যয়িতা বা প্রশাসনিক ঘাটতি নিয়ে সংসদে আনুষ্ঠানিক আপত্তির প্রধান পথ হলো ছাঁটাই প্রস্তাব। ছাঁটাই প্রস্তাবের তিনটি ধরন রয়েছে: নীতি অননুমোদন ছাঁটাই (দাবির পরিমাণ ১ টাকায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব), মিতব্যয় ছাঁটাই (নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ কমানোর প্রস্তাব) এবং প্রতীক ছাঁটাই (কোনো নির্দিষ্ট অভাব-অভিযোগ তুলে দাবির পরিমাণ ১০০ টাকা কমানোর প্রস্তাব)।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লায় ব্রাজিলের জয় উদ্‌যাপনে বিশৃঙ্খলা, বাধা দেওয়ায় পুলিশ সদস্যকে ছুরিকাঘাত

সংসদ সচিবালয়ের নিজস্ব ব্যয়ে নীরব বিরোধী দল: ছিল না ছাঁটাই প্রস্তাব

আপডেট সময় : ০৮:৩৫:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে ৫৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ৫৮টির ক্ষেত্রেই ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল বিরোধী দল। তবে সংসদ সচিবালয়ের নিজস্ব ব্যয়ের ক্ষেত্রে তারা কোনো ছাঁটাই প্রস্তাব থেকে বিরত থাকে, যা নিয়ে এখন আলোচনা চলছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সংসদ সচিবালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে ৭০ লাখ টাকা সংসদের ভোটে গ্রহণ করা হয়, এবং এই অংশের বিপরীতে বিরোধী দলের কোনো আপত্তি বা ছাঁটাই প্রস্তাব ছিল না।

বাজেটে প্রস্তাবিত দায়যুক্ত ব্যয় ব্যতীত অন্যান্য ব্যয়ের মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট গ্রহণের কার্যসূচিতে জাতীয় সংসদ খাত ছিল দাবি নং ১। সংসদ কার্যে জাতীয় সংসদের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০২৭ সালের ৩০ জুন সমাপ্য অর্থবছরের প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ব্যয় নির্বাহে রাষ্ট্রপতিকে অনধিক ৭০ লাখ টাকা মঞ্জুর করার প্রস্তাব করেন। এই প্রস্তাবের বিপরীতে বিরোধী দলের কোনো ছাঁটাই প্রস্তাব না থাকায়, সংসদের নিজস্ব ব্যয় নিয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক আপত্তি কার্যসূচিতে আসেনি।

নির্দিষ্টকরণ বিলের তফসিল অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ খাতে মোট বরাদ্দ ২৯০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ২৮৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা সংযুক্ত তহবিলের ওপর দায়যুক্ত ব্যয় হিসেবে বিবেচিত। সংসদের ভোটে গৃহীত অংশ মাত্র ৭০ লাখ টাকা। সংবিধান ও কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, দায়যুক্ত ব্যয় সংসদের ভোটে দেওয়া যায় না। ফলে জাতীয় সংসদ খাতের প্রায় পুরো বরাদ্দই ভোটের বাইরে থাকে। যে সামান্য অংশটি ভোটে ওঠে, সেটি নিয়েও কোনো সদস্য ছাঁটাই প্রস্তাব আনেননি।

কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, বাজেট কোনো কমিটিতে পাঠানো হয় না। বাজেট উপস্থাপনের পর দীর্ঘ আলোচনা, মঞ্জুরি দাবি, ছাঁটাই প্রস্তাব, ভোট এবং নির্দিষ্টকরণ বিলের মাধ্যমে বাজেট পাস হয়। এই কাঠামোয় কোনো খাতের নীতি, ব্যয়, মিতব্যয়িতা বা প্রশাসনিক ঘাটতি নিয়ে সংসদে আনুষ্ঠানিক আপত্তির প্রধান পথ হলো ছাঁটাই প্রস্তাব। ছাঁটাই প্রস্তাবের তিনটি ধরন রয়েছে: নীতি অননুমোদন ছাঁটাই (দাবির পরিমাণ ১ টাকায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব), মিতব্যয় ছাঁটাই (নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ কমানোর প্রস্তাব) এবং প্রতীক ছাঁটাই (কোনো নির্দিষ্ট অভাব-অভিযোগ তুলে দাবির পরিমাণ ১০০ টাকা কমানোর প্রস্তাব)।