ঢাকা ১০:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

ইউরোপের তাপপ্রবাহ: জার্মানিতে এসি ব্যবহারে অনীহার নেপথ্যে কী?

বিশ্বের অনেক দেশে গ্রীষ্মকালে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ছাড়া জীবন কল্পনা করা কঠিন হলেও ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ জার্মানিতে এর চিত্র ভিন্ন। এখনও অধিকাংশ বাড়িতে এসি নেই, যদিও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বাড়ছে এবং এর ফলে এসির চাহিদাও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের তথ্য মতে, সেখানে প্রায় ৯০ শতাংশ বাড়িতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে। অথচ ইউরোপে এই হার গড়ে মাত্র ২০ শতাংশ। স্পেনের মতো উষ্ণ দেশে প্রায় অর্ধেক পরিবারে কেন্দ্রীয় কুলিং ব্যবস্থা থাকলেও জার্মানিতে এই হার মাত্র ৬ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তর ইউরোপের দেশগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে এসিকে বিলাসবহুল পণ্য হিসেবে দেখা হতো, কারণ অতীতে সেখানকার গ্রীষ্মকাল তুলনামূলক সহনীয় ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তঃসরকারি প্যানেল (আইপিসিসি) জানিয়েছে, পশ্চিম ইউরোপে চরম তাপপ্রবাহের ঘটনা জলবায়ু মডেলের পূর্বাভাসের চেয়েও দ্রুত বাড়ছে।

ইউরোপীয় গবেষণা উদ্যোগ ক্লাইমামিটার-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের জুন মাসে ইউরোপের তাপমাত্রা বিংশ শতাব্দীর শেষভাগের একই ধরনের আবহাওয়ার তুলনায় ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। এর ফলে শীতলীকরণ ব্যবস্থার জন্য বিদ্যুতের চাহিদাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এই পরিবর্তনের প্রভাব ইতোমধ্যেই বাজারে পড়েছে। শিল্পসংস্থা ইউরোভেন্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে জার্মানিতে এসি ও কুলিং ইউনিটের চাহিদা ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। তবে চাহিদা বাড়লেও ইউরোপের অনেক মানুষ এখনও এসি ব্যবহারে অনীহা দেখাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অন্যতম কারণ ইউরোপের আবাসন ব্যবস্থা। জার্মানি ও উত্তর ইউরোপের অধিকাংশ বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে শীতকালে ঘরের তাপ ধরে রাখার জন্য, গরমে ঘর ঠান্ডা রাখার জন্য নয়। পুরোনো ভবনে নতুন করে এসি বসানো ব্যয়বহুল এবং প্রযুক্তিগতভাবে জটিল। ঐতিহাসিক শহরগুলোতে স্থাপত্য সংরক্ষণবিষয়ক বিধিনিষেধও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

এছাড়া জার্মানি, ডেনমার্ক ও অস্ট্রিয়ার মতো দেশে জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই ভাড়া বাসায় থাকেন। বাড়ির মালিকের অনুমতি ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে এসি স্থাপন করা যায় না। ফলে অনেকেই বিকল্প হিসেবে পর্দা টেনে রাখা, ফ্যান ব্যবহার বা ঘরের নিরোধক ব্যবস্থা উন্নত করার মতো পদ্ধতির ওপর নির্ভর করেন। অন্যদিকে, উচ্চ বিদ্যুৎমূল্যও এসি ব্যবহারে অনীহার একটি বড় কারণ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লায় ব্রাজিলের জয় উদ্‌যাপনে বিশৃঙ্খলা, বাধা দেওয়ায় পুলিশ সদস্যকে ছুরিকাঘাত

ইউরোপের তাপপ্রবাহ: জার্মানিতে এসি ব্যবহারে অনীহার নেপথ্যে কী?

আপডেট সময় : ০৮:৩৪:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

বিশ্বের অনেক দেশে গ্রীষ্মকালে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) ছাড়া জীবন কল্পনা করা কঠিন হলেও ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ জার্মানিতে এর চিত্র ভিন্ন। এখনও অধিকাংশ বাড়িতে এসি নেই, যদিও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বাড়ছে এবং এর ফলে এসির চাহিদাও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগের তথ্য মতে, সেখানে প্রায় ৯০ শতাংশ বাড়িতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে। অথচ ইউরোপে এই হার গড়ে মাত্র ২০ শতাংশ। স্পেনের মতো উষ্ণ দেশে প্রায় অর্ধেক পরিবারে কেন্দ্রীয় কুলিং ব্যবস্থা থাকলেও জার্মানিতে এই হার মাত্র ৬ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তর ইউরোপের দেশগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে এসিকে বিলাসবহুল পণ্য হিসেবে দেখা হতো, কারণ অতীতে সেখানকার গ্রীষ্মকাল তুলনামূলক সহনীয় ছিল। কিন্তু এখন পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে। জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তঃসরকারি প্যানেল (আইপিসিসি) জানিয়েছে, পশ্চিম ইউরোপে চরম তাপপ্রবাহের ঘটনা জলবায়ু মডেলের পূর্বাভাসের চেয়েও দ্রুত বাড়ছে।

ইউরোপীয় গবেষণা উদ্যোগ ক্লাইমামিটার-এর সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের জুন মাসে ইউরোপের তাপমাত্রা বিংশ শতাব্দীর শেষভাগের একই ধরনের আবহাওয়ার তুলনায় ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল। এর ফলে শীতলীকরণ ব্যবস্থার জন্য বিদ্যুতের চাহিদাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এই পরিবর্তনের প্রভাব ইতোমধ্যেই বাজারে পড়েছে। শিল্পসংস্থা ইউরোভেন্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে জার্মানিতে এসি ও কুলিং ইউনিটের চাহিদা ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। তবে চাহিদা বাড়লেও ইউরোপের অনেক মানুষ এখনও এসি ব্যবহারে অনীহা দেখাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অন্যতম কারণ ইউরোপের আবাসন ব্যবস্থা। জার্মানি ও উত্তর ইউরোপের অধিকাংশ বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে শীতকালে ঘরের তাপ ধরে রাখার জন্য, গরমে ঘর ঠান্ডা রাখার জন্য নয়। পুরোনো ভবনে নতুন করে এসি বসানো ব্যয়বহুল এবং প্রযুক্তিগতভাবে জটিল। ঐতিহাসিক শহরগুলোতে স্থাপত্য সংরক্ষণবিষয়ক বিধিনিষেধও বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

এছাড়া জার্মানি, ডেনমার্ক ও অস্ট্রিয়ার মতো দেশে জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই ভাড়া বাসায় থাকেন। বাড়ির মালিকের অনুমতি ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে এসি স্থাপন করা যায় না। ফলে অনেকেই বিকল্প হিসেবে পর্দা টেনে রাখা, ফ্যান ব্যবহার বা ঘরের নিরোধক ব্যবস্থা উন্নত করার মতো পদ্ধতির ওপর নির্ভর করেন। অন্যদিকে, উচ্চ বিদ্যুৎমূল্যও এসি ব্যবহারে অনীহার একটি বড় কারণ।