বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এবং সিলেটের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর একটি বক্তব্যকে ঘিরে সিলেটে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বুধবার (৮ অক্টোবর) রাতে তিনি নগরের কুমারপাড়ার নিজ বাসভবনে একটি প্রেসব্রিফিং করেন।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে নগরের মেজরটিলা এলাকায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৩১ দফা সংবলিত লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি শেষে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি উপস্থিত হয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, “আমি এখনো স্থির করি নাই, আমার দলের চেয়ারম্যানকে বলে দিয়েছি—নির্বাচন করলে, সংসদ সদস্য দিলে সিলেট-১ আসনে দিতে হবে। যদি সংসদ সদস্য না দেন, তাহলে আমাকে সিলেট সিটিতে মেয়র পদে ডিক্লেয়ার করতে হবে। আমি এটাও বলছি, না হলে আমাকে বলতে হবে, আপনাকে দিয়ে হবে না; আমি আসসালামু আলাইকুম। মধ্যখানে কোনো কিছু থাকবে না।” আরিফুল হক এখানে দলীয় চেয়ারম্যান বলতে বেগম খালেদা জিয়া না তারেক রহমানকে বুঝিয়েছেন, তা পরিষ্কার করেননি। যদিও তিনি সম্প্রতি লন্ডন গিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে এসেছেন।
বক্তব্যে আরিফুল আরও বলেছিলেন, “আমাকে নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র, অনেক চক্রান্ত বিভিন্নভাবে চলে, চলুক। নিয়ত সাফ করে কাজ করলে আল্লাহ তাআলা সাহায্য করবেন ইনশাআল্লাহ। আমি এখনো স্থির করি নাই।” ওই সমাবেশে জেলা বিএনপির উপদেষ্টা শুকুর আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি সাদিকুর রহমান, কৃষক দলের সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আনিসুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আরিফুল হক চৌধুরীর ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়, যার পরিপ্রেক্ষিতেই বুধবার রাতে তিনি নিজ বাসায় জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে আরিফুল হক বলেন, “আমি আমার কথাগুলো বলেছি একভাবে, এটাকে যে যেভাবে নিয়েছেন। আমি বলছি, এমপিতে আমিও প্রার্থী সিলেট-১-এ। এটা সুস্পষ্ট। এখন যদি দল মনে করে আমাকে এমপিতে দেবে না, নগরে দেবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমি কখনো আমার দলের বিরুদ্ধে যাইনি। বিএনপি এত কঠিন সময় অতিক্রম করার পরও বিএনপি থেকে একজন লোকও দল থেকে বেরিয়ে যায়নি। দলের ভেতরে প্রতিযোগিতা থাকবে।” যারা তার সমালোচনা করছেন, তাদের প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে তারা নির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং দলকে প্রশ্নের মধ্যে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, কারণ ৪৭ বছর ধরে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক মেয়র হয়ে তিনি দলের বিরুদ্ধে বেফাঁস কথা বলতে পারেন না।
তিনি আরও বলেন, “আমি কাল থেকে বের হবো প্রচার-প্রচারণায়। দল ঠিক করবে কাকে দেবে। তখনতো ঠিক হয়ে যাবে। আমাদের প্রতীক ধানের ছড়া, অন্য কোনো চিন্তা নাই। এসব এডিটিং আল্লাহর ওয়াস্তে বাদ দেন। মূলত, মিটিং শেষ হওয়ার পরে সবাইকে সালাম দেই, আসসামু আলাইকুম।” আরিফুল হক চৌধুরী পুনরায় বলেন, “আমি দুঃখিত, আমি আবারো বলব, আমাদের এমন কিছু হয়নি। দীর্ঘদিন কারাবরণ করে আমি এই পর্যায়ে আসছি। যারা এটাকে প্রচার করছেন, তাদের সময় সময়ে ৭ দিন হয়নি। বিএনপি দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা অবিচল।”
উল্লেখ্য, প্রায় ৩ মাস আগে নগরের শেখঘাট মসজিদ থেকে ‘ইজাজত’ নিয়ে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট-১ আসনে সংসদ সদস্য পদে প্রচারণা শুরু করেছিলেন। তবে ৩ মাস পর সংসদ সদস্য পদে শঙ্কার কথা তুলে ধরে একটি মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রেখে তিনি সমালোচিত হন।
রিপোর্টারের নাম 
























