বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা মিস ইউনিভার্সে দীর্ঘ ৭৩ বছরের অংশগ্রহণের ইতি টানার ঘোষণা দিয়েছে মিস ফ্রান্স সংস্থা। এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে নিয়মিত অংশগ্রহণকারী এবং প্রভাবশালী দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্স অন্যতম।
মিস ফ্রান্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মিস ইউনিভার্সের সাম্প্রতিক ব্যবস্থাপনা, নীতিগত পরিবর্তন এবং ২০২৫ সালের আসরে দেখা দেওয়া বিভিন্ন অসংগতি ও কার্যক্রমগত দুর্বলতার কারণে তারা ২০২৬ সালের প্রতিযোগিতায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের মতে, বর্তমান সময়ে মিস ইউনিভার্স যে দিকনির্দেশনা অনুসরণ করছে, তা আর মিস ফ্রান্সের মূল্যবোধ, লক্ষ্য এবং সাংগঠনিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৬ সালের মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত তাদের পরিচয়, নৈতিক অবস্থান এবং দীর্ঘদিনের মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
তবে এটি স্থায়ী বিচ্ছেদ নয় বলেও স্পষ্ট করেছে মিস ফ্রান্স কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে এবং প্রতিযোগিতার কাঠামো ও কার্যক্রমে ইতিবাচক উন্নতি দেখা গেলে তারা আবারও মিস ইউনিভার্সে অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
মিস ফ্রান্সের সভাপতি Frédéric Gilbert বলেন, মিস ইউনিভার্স দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফ্রান্সকে প্রতিনিধিত্ব করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। তবে একই সঙ্গে মিস ফ্রান্স প্রতিযোগিতার নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য ও মূল্যবোধ রক্ষা করাও তাদের দায়িত্ব। সেই বিবেচনা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে মিস ইউনিভার্সের কার্যক্রম কোন পথে এগোয়, সেটি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন এবং পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন।
ফ্রান্সের এই পদক্ষেপকে অনেক বিশ্লেষক মিস ইউনিভার্সের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতিযোগিতাটি বিভিন্ন নীতিগত পরিবর্তন এবং ব্যবস্থাপনাগত সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কের মুখোমুখি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহণকারী দেশের সরে দাঁড়ানো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ ফ্রান্সের সিদ্ধান্তকে সাহসী ও নীতিনিষ্ঠ পদক্ষেপ হিসেবে প্রশংসা করছেন, আবার কেউ মনে করছেন এটি মিস ইউনিভার্সের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ক্ষতি এবং প্রতিযোগিতার ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে Miss Universe সংশ্লিষ্ট পক্ষ জানিয়েছে, ফ্রান্সের সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি তারা অবগত রয়েছে। সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০২৬ সাল থেকে ফ্রান্সে তাদের কার্যক্রম নতুন ও আরও সরাসরি কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়ন, অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিনিধিত্বের সুযোগ আরও শক্তিশালী করা হবে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেনি। ফলে ফ্রান্সের এই সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং দুই পক্ষের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে কৌতূহল ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























