জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘অ্যাশেজ’-এর প্রধান গীতিকার, সুরকার ও ভোকালিস্ট জুনায়েদ ইভান সৃজনশীল কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি মনে করেন, এআই দিয়ে গান, কবিতা, সাহিত্য বা চলচ্চিত্রের সংলাপ তৈরি করা নৈতিকভাবে সমর্থনযোগ্য নয়।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইভান জানিয়েছেন, এআই-এর ব্যবহার সৃজনশীল কাজে সীমিত বা বয়কট করা উচিত। তার মতে, এআই-এর ব্যবহার মানুষের মেধার বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে এবং ভবিষ্যতে মানুষের সৃজনশীলতা হারানোর ঝুঁকি তৈরি করে। তিনি বলেন, এআই-কে কেবল একটি সহায়ক সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে সৃজনশীলতার মূল জায়গা মানুষের হাতেই থাকা উচিত। এই প্রবণতা শিল্প-সংস্কৃতির জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
ইভান আরও বলেন, একটি মৌলিক গান তৈরি করতে একজন শিল্পী বছরের পর বছর ধরে প্রচেষ্টা করেন। এআই-এর মাধ্যমে তৈরি গান যখন সহজলভ্য হয়ে যাবে, তখন এই মৌলিক সৃষ্টিগুলোর মূল্যায়ন কমে যেতে পারে। তিনি এটিকে নৈতিকভাবেও ভুল বলে অভিহিত করেন। প্রখ্যাত সাহিত্যিক আহমদ ছফার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একজন লেখক যখন সমাজের কষ্টকর দিকগুলো নিয়ে লেখেন, তখন তিনি তা অনুভব করেন। এআই-এর পক্ষে কি এই ধরনের গভীর অনুভূতি অনুধাবন করা সম্ভব?
তিনি সতর্ক করে বলেন, এআই আমাদের দৃষ্টি ও শ্রবণশক্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ভবিষ্যতে গিটার বাজানোর মতো ঐতিহ্যবাহী শিল্পকর্মগুলোও হয়তো বিলুপ্ত হয়ে যাবে, যদি আমরা এখনই সচেতন না হই। ইভান মনে করেন, কোথায় সহায়ক হিসেবে এআই ব্যবহার করা যাবে এবং কোথায় যাবে না, সে বিষয়ে রাষ্ট্রকে নীতিমালা প্রণয়ন করা উচিত।
রিপোর্টারের নাম 























