ঢাকা ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

সীতাকুণ্ডে একে-৪৭ সহ ৩০০ সশস্ত্র সন্ত্রাসীর যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পরিদর্শনের আগেই তোলপাড়

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় একটি যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে রবিবার গভীর রাতে অন্তত ৩০০ জনের এক সশস্ত্র বাহিনী আকস্মিক হামলা চালিয়েছে। হামলায় অত্যাধুনিক একে-৪৭ রাইফেলসহ বিভিন্ন মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়। পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায় সন্ত্রাসী ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যরা।

হামলার সময় সন্ত্রাসীরা বুলডোজার ব্যবহার করে নির্মাণাধীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেয়। এছাড়াও, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের যাতায়াত বাধাগ্রস্ত করতে সড়কের বেশ কয়েকটি অংশ কেটে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই এলাকায় র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অন্তত ২০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। তবে, কেউ হতাহত হয়েছে কিনা সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনও কোনো তথ্য জানায়নি।

র‍্যাব জানিয়েছে, রাস্তা কেটে দেওয়াসহ নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে এবং সন্ত্রাসী ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যরা এই হামলার সঙ্গে জড়িত বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী ৩১ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শনে আসার কথা রয়েছে এবং সন্ত্রাসীরা যে ক্যাম্পটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে, সেটি উদ্বোধন করার কথা ছিল মন্ত্রীর।

র‍্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানান, রবিবার রাত ১টার দিকে সন্ত্রাসী ইয়াসিন বাহিনীর ২৫০-৩০০ জন সশস্ত্র সদস্য সংঘবদ্ধ হয়ে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে এই হামলা চালায়। তাদের হাতে রামদা, দেশীয় অস্ত্র এবং একে-৪৭ রাইফেলের মতো অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। হামলাকারীরা বুলডোজার দিয়ে আলীনগর স্কুলে থাকা যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পের পেছনের দেয়াল ভেঙে দেয়। ওই স্কুলের শেষ প্রান্তে যৌথ বাহিনীর একটি নতুন অস্থায়ী ক্যাম্প তৈরি করা হচ্ছিল, যার ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছিল। বুলডোজার দিয়ে সেটি প্রায় পুরোটাই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসীরা গুলি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ব্যস্ত রাখে এবং সেই সুযোগে ভাঙচুর চালায়। পাহাড়ে থাকা নতুন কয়েকটি টিনের ঘরের ভেতর থেকে টিন ফুটো করে বন্দুকের নল বের করে গুলি ছুড়েছে তারা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যাতায়াত ঠেকাতে সড়কের বেশ কয়েকটি অংশ কেটে দেওয়া হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদ উদযাপনের মধ্যে মর্মান্তিক ঘটনা: গলায় মাংস আটকে কিশোরের মৃত্যু

সীতাকুণ্ডে একে-৪৭ সহ ৩০০ সশস্ত্র সন্ত্রাসীর যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পরিদর্শনের আগেই তোলপাড়

আপডেট সময় : ০৬:৩৭:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় একটি যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে রবিবার গভীর রাতে অন্তত ৩০০ জনের এক সশস্ত্র বাহিনী আকস্মিক হামলা চালিয়েছে। হামলায় অত্যাধুনিক একে-৪৭ রাইফেলসহ বিভিন্ন মারাত্মক আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়। পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালায় সন্ত্রাসী ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যরা।

হামলার সময় সন্ত্রাসীরা বুলডোজার ব্যবহার করে নির্মাণাধীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি ক্যাম্প গুঁড়িয়ে দেয়। এছাড়াও, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের যাতায়াত বাধাগ্রস্ত করতে সড়কের বেশ কয়েকটি অংশ কেটে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ওই এলাকায় র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অন্তত ২০ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। তবে, কেউ হতাহত হয়েছে কিনা সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনও কোনো তথ্য জানায়নি।

র‍্যাব জানিয়েছে, রাস্তা কেটে দেওয়াসহ নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়েছে এবং সন্ত্রাসী ইয়াসিন বাহিনীর সদস্যরা এই হামলার সঙ্গে জড়িত বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী ৩১ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শনে আসার কথা রয়েছে এবং সন্ত্রাসীরা যে ক্যাম্পটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে, সেটি উদ্বোধন করার কথা ছিল মন্ত্রীর।

র‍্যাব-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানান, রবিবার রাত ১টার দিকে সন্ত্রাসী ইয়াসিন বাহিনীর ২৫০-৩০০ জন সশস্ত্র সদস্য সংঘবদ্ধ হয়ে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে এই হামলা চালায়। তাদের হাতে রামদা, দেশীয় অস্ত্র এবং একে-৪৭ রাইফেলের মতো অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। হামলাকারীরা বুলডোজার দিয়ে আলীনগর স্কুলে থাকা যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পের পেছনের দেয়াল ভেঙে দেয়। ওই স্কুলের শেষ প্রান্তে যৌথ বাহিনীর একটি নতুন অস্থায়ী ক্যাম্প তৈরি করা হচ্ছিল, যার ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছিল। বুলডোজার দিয়ে সেটি প্রায় পুরোটাই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাসীরা গুলি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ব্যস্ত রাখে এবং সেই সুযোগে ভাঙচুর চালায়। পাহাড়ে থাকা নতুন কয়েকটি টিনের ঘরের ভেতর থেকে টিন ফুটো করে বন্দুকের নল বের করে গুলি ছুড়েছে তারা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যাতায়াত ঠেকাতে সড়কের বেশ কয়েকটি অংশ কেটে দেওয়া হয়।