ঢাকা ১০:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

বিনিয়োগে স্থবিরতা: উচ্চ সুদহার ও জ্বালানি সংকটে নতুন বিনিয়োগে বিমুখ ব্যবসায়ীরা

দেশের অর্থনীতিতে বর্তমানে অন্যতম বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিনিয়োগে দীর্ঘমেয়াদী স্থবিরতা। নতুন শিল্প-কারখানা স্থাপন কিংবা বিদ্যমান ব্যবসা সম্প্রসারণে উদ্যোক্তাদের মধ্যে এক ধরনের অনীহা ও আতঙ্ক কাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন করে অর্থ বিনিয়োগের চেয়ে টিকে থাকাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক বড় শিল্পগোষ্ঠী তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্থগিত করেছে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন।

অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিনিয়োগের এই মন্দা কেবল ব্যবসায়িক সংকট নয়, বরং এটি জাতীয় অর্থনীতির গভীর দুর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে। বিশেষ করে ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার এখন বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে শিল্প ঋণের সুদ ১৪ থেকে ১৬ শতাংশে পৌঁছানোয় নতুন প্রকল্পে মুনাফা অর্জন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।

ব্যবসায়ীদের মতে, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। একই সাথে বাজারে চাহিদাও নিম্নমুখী। এমন পরিস্থিতিতে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করাকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন তারা। দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের বদলে এখন অনেকেই মূলধন রক্ষায় বেশি মনোযোগী।

জ্বালানি সংকট বিনিয়োগ না আসার আরেকটি অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক শিল্পে নতুন গ্যাস সংযোগ মিলছে না, আবার যেখানে সংযোগ আছে সেখানেও পর্যাপ্ত চাপের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্প মালিকরা সঠিক সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের পণ্য সরবরাহ করতে না পেরে আস্থা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। এই সামগ্রিক পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে কার্যকর নীতিমালার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সহিংসতা বাড়লে সনাতনীদের জন্য পৃথক প্রদেশ গঠনের হুঁশিয়ারি: আইনজীবী চৈতালী চক্রবর্তী

বিনিয়োগে স্থবিরতা: উচ্চ সুদহার ও জ্বালানি সংকটে নতুন বিনিয়োগে বিমুখ ব্যবসায়ীরা

আপডেট সময় : ০৯:৪১:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

দেশের অর্থনীতিতে বর্তমানে অন্যতম বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিনিয়োগে দীর্ঘমেয়াদী স্থবিরতা। নতুন শিল্প-কারখানা স্থাপন কিংবা বিদ্যমান ব্যবসা সম্প্রসারণে উদ্যোক্তাদের মধ্যে এক ধরনের অনীহা ও আতঙ্ক কাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন করে অর্থ বিনিয়োগের চেয়ে টিকে থাকাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক বড় শিল্পগোষ্ঠী তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা স্থগিত করেছে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন।

অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিনিয়োগের এই মন্দা কেবল ব্যবসায়িক সংকট নয়, বরং এটি জাতীয় অর্থনীতির গভীর দুর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে। বিশেষ করে ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার এখন বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে শিল্প ঋণের সুদ ১৪ থেকে ১৬ শতাংশে পৌঁছানোয় নতুন প্রকল্পে মুনাফা অর্জন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।

ব্যবসায়ীদের মতে, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। একই সাথে বাজারে চাহিদাও নিম্নমুখী। এমন পরিস্থিতিতে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করাকে চরম ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছেন তারা। দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের বদলে এখন অনেকেই মূলধন রক্ষায় বেশি মনোযোগী।

জ্বালানি সংকট বিনিয়োগ না আসার আরেকটি অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক শিল্পে নতুন গ্যাস সংযোগ মিলছে না, আবার যেখানে সংযোগ আছে সেখানেও পর্যাপ্ত চাপের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্প মালিকরা সঠিক সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের পণ্য সরবরাহ করতে না পেরে আস্থা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। এই সামগ্রিক পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে কার্যকর নীতিমালার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।